আমাদের হারকিউলিস নারীরা! | বিশ্ব | DW | 04.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

আমাদের হারকিউলিস নারীরা!

গ্রীক দেবতা হারকিউলিসের কথা নিশ্চয় মনে আছে, পৃথিবী রক্ষার লক্ষ্যে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আকাশ৷ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি কর্মজীবী নারীই একেকজন হারকিউলিস৷ মাথায় তুলে নিতে হয় ঘর-সংসার ও কর্মক্ষেত্রের ভার৷

কর্মজীবী নারীদের হারকিউলিস বলার অন্যতম কারণ কয়েকটি যুক্তি৷ কাজ করে উপার্জন করে বলে তাদের ঘরের কাজ থেকে পুরুষের মতো ছুটি মেলে না৷ সংসার, সন্তান ও কর্মক্ষেত্র সমান তালে সামলাতে হয়৷ কোনো প্রতিষ্ঠানই তাকে ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয় বা দেয় না কখনোই৷

উন্নতবিশ্বে সংসার ও কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষ বিভেদটা অনেকটাই কমে এসেছে৷ স্ত্রীর পরিবর্তে স্বামী রান্না করছেন, সন্তানকে স্কুলে দিচ্ছেন৷ পারিবারিক বিষয়াদি সেরে নিচ্ছেন৷ এটা নির্ভর করে কে কতটুকু সময় পাচ্ছেন তার ওপরে৷ কাজে ভেদাভেদ নেই৷ কিন্তু উপমহাদেশে এই দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন৷ এখানে রেস্তোরাঁর বাবুর্চি স্বামীটিও বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছে ভাত চান৷ খাবার তৈরি না থাকলে চিৎকার চেঁচামেচি করেন৷ অথচ যে লোকটা সারাদিন হাজার হাজার মানুষকে খাবার তৈরি করে খাওয়াচ্ছেন তিনি কিন্তু চাইলেই স্ত্রীকে খাবার তৈরি করে দিতে পারতেন৷

এতো গেলো স্বামী স্ত্রীর দায় দায়িত্বের কথা৷ এবার আসুন একজন কর্মজীবী নারীর সন্তান নিয়ে ভাবি৷ এটা ধরেই নেওয়া হয়, মা সন্তানকে সময় না দিলে সে উচ্ছন্নে যাবে৷ বাবার এখানে কোনো ভূমিকা নেই৷ মাকেই বাড়িতে থাকতে হবে৷ সন্তানের যত্ন-আত্তি করতে হবে৷ পড়াশোনা, বন্ধু-বান্ধব ও যাবতীয় বিষয়াদি খোঁজ রাখতে হবে৷ এখানে বাবার ভূমিকা রাতে ফিরে একসঙ্গে সন্তানের সঙ্গে ভাত খাওয়া৷ সন্তান লালনের কাজটিকে যদি আমরা একটি পেশা হিসেবে দেখি তাহলে এটি সবচেয়ে দামি ও পরিশ্রমের পেশা হিসেবেই বিবেচিত হবে৷ তাহলে এই কাজ শেষ করে, সংসারের দায়-দায়িত্ব সামলে একজন নারীর কতটুকু ক্ষমতা থাকে কর্মক্ষেত্রে দেওয়ার?

সংসারে কাজের নমুনা দিতে একটি গল্প বলি- একবার এক ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনার পেশা কী৷ তিনি উত্তর দিলেন, আমি একজন গবেষক৷ নানা রকম চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি৷ শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশ সাধন পর্যবেক্ষণ করে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন করি৷ বয়স্কদের নিবিড় পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখি৷ সুস্থ পরিবার ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলস শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত মজবুত করি৷ প্রতিটি মুহূর্তেই আমাকে নানা রকমের চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হয়৷ কারণ, আমার সামান্য ভুলের জন্য যে বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে৷

আসলে, পৃথিবীর গুণীজনেরা বলেন, আমার প্রকল্পের কাজ এতো বেশি কঠিন আর কষ্টসাধ্য যে, দিনের পর দিন আঙুলের নখ দিয়ে সুবিশাল একটি দীঘি খনন করা নাকি তার চেয়ে অনেক সহজ৷ আমার রিসার্চ প্রজেক্ট তো আসলে অনেকদিন ধরেই চলছে৷ সর্বক্ষণ আমাকে ল্যাবরেটরি এবং ল্যাবরেটরির বাইরেও কাজ করতে হয়৷ আহার, নিদ্রা করারও আমার সময়ের ঠিক নেই৷ সব সময় আমাকে কাজের প্রতি সজাগ থাকতে হয়৷

Fatema Abedin, Intern, DW Bangla section.

ফারজানা আবেদীন নাজলা, ডয়চে ভেলে

এখন আমি সমাজবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আর পারিবারিক বিজ্ঞান এ তিনটি ক্ষেত্রেই একসাথে কাজ করছি, যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম প্রকল্পের বিষয় বলা যায়৷ প্রতিদিন আমাকে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা আবার কোনো কোনো দিন ২৪ ঘণ্টাই ল্যাবে কাজ করতে হয়৷ পৃথিবীর সব পেশাতেই কাজের পর ছুটি বলে যে কথাটি আছে আমার পেশাতে সেটা একেবারেই নেই৷ ২৪ ঘণ্টাই আমার অন কল ডিউটি৷ এরপর আমার আরো দুটি প্রকল্প আছে৷ একটা হলো বয়স্ক শিশুদের ক্লিনিক৷ যা আমাকে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়৷ সেখানেও প্রতিমুহূর্তে শ্রম দিতে হয়৷ আমার নিরলস কাজের আর গবেষণার কোনো শেষ নেই৷

গল্পটি পড়ে নিশ্চয় নড়ে-চড়ে বসেছেন৷ এমন একটি প্রকল্প চালানোর পর কর্মজীবী নারী কর্মক্ষেত্রেও সমান শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন৷ সন্তানের অসুস্থতা, পারিবারিক দায়িত্ব বা নিজের কোনো প্রয়োজনে তিনি বাড়তি কোনো ছুটি বা সুবিধা পাননা৷ বরং নারী হয়ে কেন কাজ করতে এসেছেন সেই কটূক্তি জোটে কপালে৷ আর মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টা তো রীতিমতো হাস্যকর পর্যায়ে৷ কমপক্ষে ৬ মাসের ছুটির পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও খুব কম প্রতিষ্ঠান ছয়মাস ছুটি দেয়৷ গড়ে ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মজীবী মায়ের জন্য ছয় মাস ছুটি বরাদ্দ করে কিনা সন্দেহ রয়েছে৷

ভীষণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই যেতে হয় একজন কর্মজীবী নারীকে৷ তবে আশার কথা এই যে, নারীরা হাল ছেড়ে না দিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে আছেন৷ এবং বাংলাদেশে নারীদের বেতন বৈষম্যের হার বিশ্বের অন্যদেশের তুলনায় কম৷

এত চাপ, অবহেলার পড়েও যখন শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে বা রাজনীতির ময়দানে নারীরা ভালো করছেন, পুলিশের শীর্ষকর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর উচ্চতর পদ, চিকিৎসা, গবেষণা, প্রশাসনে যখন নারীরা মাথা উচু প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তাদের জন্য হারকিউলিস উপাধিটিই খাটে৷

নারীদের অবস্থান কী বাংলদেশে? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন