আমাদের নিস্তব্ধতায় কি বর্বরতা বাড়ছে? | বিশ্ব | DW | 31.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগওয়াচ

আমাদের নিস্তব্ধতায় কি বর্বরতা বাড়ছে?

খাগড়াছড়ির নয় মাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী কৃর্তিকা ত্রিপুরা পূর্ণাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে৷ এমন নৃশংস হত্যার বিচারের দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে৷

শনিবার দীঘিনালায় ১০ বছরের পূর্ণার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ৷ সে নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী৷ রবিবার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পূর্ণার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত শনিবার ওই ছাত্রীর মা জুমচাষে (পাহাড়ে চাষাবাদ) বেরিয়ে পড়ে আর পূর্ণা স্কুলে গিয়েছিল৷ দুপুরে টিফিনের ছুটি পেয়ে বাড়িতে খেতে এসে পূর্ণা আর স্কুলে ফিরে যায়নি৷ তার মা জুম থেকে ফিরে বাড়ি এসে মেয়েকে না দেখে খুঁজতে থাকেন৷ পরে রাত ১১টায় বাড়ির পাশের ছড়ার জঙ্গল থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পূর্ণার বিভৎস মৃতদেহের ছবি শেয়ার করেছেন অনেকে৷ জানিয়েছেন নিজেদের প্রতিক্রিয়া৷শামীম আরা নীপা লিখেছেন,

‘‘পূর্ণার দু'টো হাত কেটে দেয়া হয়েছে, যৌনাঙ্গ কেটে ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছে, পায়ুপথে গাছের গুড়ি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে....খাগড়াছড়ি জেলায় নয় মাইল ত্রিপুরা পাড়ায় তিনজন বাঙালি পূর্ণাকে ধর্ষণ করে বীভৎসভাবে মেরে ফেলে গেছে৷''

তিনি লিখেছেন, ‘‘বিশ্বাস করেন, এই দেশে আমার আর বাঁচার ন্যূনতম ইচ্ছা নাই৷ রাগে দুঃখে লজ্জায় ক্ষোভে অসহায়ত্বে অপারগতায় আমার ভেতরের সবকিছু বের হয়ে আসতে চাচ্ছে৷ কার কাছে বিচার চাবো, কার কাছে বিচার দিবো, কে করবে প্রতিরোধ?''

এরপর অন্য একটি পোস্টে তার হাহাকার, ‘‘পূর্ণার মায়ের কথা ভাবছি না, ভাবতে পারছি না – উনাদের ব্যথা বোঝার ক্ষমতা আমার নাই.... পাহাড়ে খুন-ধর্ষণ-নৃশংসতা বন্ধ করতে হবে৷''

চন্দ্রনাথ সেই রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন,

‘‘পাড়ার লোকেরা মিলে অনেকক্ষণ খোঁজা-খুজির পর অবশেষে রাত ১১টা নাগাদ বাড়ির নীচের জঙ্গলে পাওয়া গেল পূর্ণার ক্ষতবিক্ষত লাশ৷ শরীরের সব জায়গায় আঘাতের চিহ্ন৷ হয়ত দুর্বল দু'টো হাত দিয়ে নিজেকে রক্ষা করার শেষ চেষ্টা করেছিল পূর্ণা৷ কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি৷ পূর্ণার মা স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে এসেছে প্রায়, তার মাঝেই নিজের মেয়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ! আর কত কষ্ট বহন করবে? এভাবে পূর্ণার মায়েরা মনের জখম নিয়ে বিচার খুঁজে বেড়ায় দিকবিদিক!! আজকে কালকে করে পার পেয়ে যায় এই নর ঘাতকরা৷ দুর্বল রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঠিক বিচারের অভাবে সাহস বাড়তে থাকে পশুগুলোর৷ সুবিচার কি আসলেই আশা করতে পারব আমরা!''

মনচি মারমা ফেসবুকে লিখেছেন,

‘‘আদিবাসী  পূর্ণা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা ৪ নরপিশাচরা হলো –

১. নয়ন হোসেন (২৬), বাড়ি: মেরুং ২ নং হেডকোয়াটার

২. নয়ন ইসলাম (২৮), বাড়ি: মেরুং ২ নং হেডকোয়াটার

৩. ভান্ডারি মোটর গাড়ি ড্রাইভার, বাড়ি: মেরুং ২ নং হেডকোয়াটার!

৪ নজরুল ইসলাম (২৭), বাড়ি: মধ্য বোয়ালখালি

এই চারজন নরপিশাচ পূর্ণা ত্রিপুরাকে ধর্ষণ করার পর নির্মমভাবে হত্যা করে৷ একটি স্বাধীন দেশে আর কত মা-বোন, নারী-শিশু নরপশুদের লালসার শিকার হয়ে খুন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর কি কারো জানা আছে?''

অন্তত বিকাশ ধামাই পূর্ণার পরিবারের কথা তুলে ধরেছেন৷ তিনি লিখেছেন,

‘‘রাস্তার পাশে তার বাড়ি৷ স্কুল বিরতিতে বাড়িতে খেতে আসছিলো৷ কিন্তু তাকে আর স্কুলে যেতে দেয়নি জানোয়াররা৷ একদম পিচ্চি একটা মেয়ে৷ তার বাবা বেঁচে নেই, মা-ই সবকিছু৷ দরিদ্র পরিবার৷ প্রায় ২/৩ ঘটিকার সময় একটি ট্রাক তাদের বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে থামে৷ তিন জন বাঙালিকে যেতে দেখা যায় তাদের বাড়ির দিকে৷ মা বিকালে বাড়িতে এসে ছোট্ট মেয়েটির খোঁজ করে৷ খুঁজতে খুঁজতে তার ছোট্ট মেয়ে পূর্ণা'র লাশ পাওয়া যায় তাদের বাড়ির নিচে যেখানে ছোট্ট ছড়া৷ সান্ত্বনার কোনো ভাষা নেই, প্রতিবাদেরও কোনো ভাষা নেই৷ জানি, ধর্ষকদের বিচার হবে না৷ কোনো শাস্তি দেবে না রাষ্ট্র৷''

নন্দিতা তালুকদার কেয়া লিখেছেন, ‘‘ফেসবুকে বড় বড় কথা না বলে, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন৷ আমাদের দেশের আইন কি ঘুমিয়ে আছে! যতসব জানোয়ারগুলো বসে আছে আইন বিচার ব্যবস্থাপনায়৷ আর ওইসব ধর্ষকগুলোকে জনসম্মুখে জবাই দেওয়া উচিত৷''

কা মি লাই পাহাড়ে বাঙালিদের অত্যাচারের কথা লিখেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘১০ বছরের পূর্ণা ত্রিপুরাকে ৪ জন সেটেলার বাঙালি ধর্ষণ করেছে৷ শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি সেটেলার বাঙালি নামক জানোয়ারের বাচ্চারা, হাত দু'টি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যৌনাঙ্গ ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে৷ কি রকম পাষণ্ড হলে এমনটি করা যায় ভাবতে পারেন? ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে পুলিশ চারজন সেটেলারকে আটক করেছে৷ পাহাড়ে এখন প্রতি মাসেই সেটেলার বাঙালি কতৃক পাহাড়ি নারী ও শিশু ধর্ষিত হচ্ছে৷ এসব ঘটনার কোন বিচার আদৌ হয়েছে কি? হয়নি ! যতক্ষন পর্যন্ত পাহাড়ি নারী ও শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিকে গণ আন্দোলনে রূপ দেওয়া যাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত পাহাড়ি নারী ও শিশু ধর্ষণের বিচার পাওয়া যাবে না৷''

পল্লব রাঙ্গেই লিখেছেন, ‘‘পূর্ণা, বোন আমার তোমার জন্য হৃদয় আমার উথাল পাথাল! তোমার রক্তাক্ত নিথর ছবি দেখে আমার রক্ত হিম হয়ে আসে, হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায়৷ তোমার এই অবেলা নৃশংস চির বিদায় আমাকে ‘জানোয়ার' হতে উদ্বুদ্ধ করে!''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন