1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Bangladesch Dhaka | Bürgergespräch für faire Wahlen
ছবি: bdnews24

আমাদের দেশে হবে সেই সিইসি কবে?

আশীষ চক্রবর্ত্তী বন, জার্মানি
১৯ জুলাই ২০২২

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শুনে অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদ বলেছেন, ‘‘ওই চেয়ারটাই কি এমন যে সেখানে যে বসে সে-ই বাজে কথা বলতে শুরু করে?'' কিন্তু সিইসি তার মূল কাজ আর চেয়ারের ‘কদর' বুঝলে কি এত ‘বাজে কথা' বলতেন?

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87/a-62525191

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সবশেষ আলোচিত মন্তব্যটিকে অবশ্য কোনোভাবেই ‘বাজে কথা' বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে না৷  রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন৷ সোমবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় তিনি বলেছেন, "আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আমরা মনে করি- বিএনপি যদি এ নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে আমাদের যে উদ্দেশ্য- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা, সেটা হয়ত সফল হবে না। নির্বাচন হয়ত আমরা করবো।” ‘‘বিএনপি যদি এ নির্বাচনে অংশ না নেয়.... অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না-'' কথাটায় একটু সংশোধন হয়ত আনা যেতে পারে, মানে বলা যেতে পারে যে, ‘‘পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক হবে না'', তাই বলে পুরো কথাটাকেই বাজে বা ফালতু বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে না৷

তাহলে ওই রাজনীতিবিদ কেন বলছেন সিইসি ‘বাজে কথা' বলেছেন? বলছেন, কারণ, এসব কথা বলে সিইসি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবেন না৷ তাছাড়া নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তার মূল কাজ নয় এবং তিনি শত চেষ্টা করলেও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবেন বলে মনে হয় না৷ বিএনপি তো বলেছে বর্তমান সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনই করবে না৷ সিইসি কি পারবেন এই দুটো শর্ত পূরণ করতে?

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল কেন তাহলে এসব বলেন? তিনি কি কিছুই বোঝেন না? নিশ্চয়ই বোঝেন৷ তাহলে এমন কথা বলেন কেন? এর অন্তত তিনটা কারণ থাকতে পারে, এক. সংবাদের শিরোনামে থাকার বাসনা, দুই, সবাইকে বোঝানো যে তিনি খুব চান নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক, কিন্তু পারছেন না, তিন, তার আবেগ বেশি, সুবুদ্ধি কম৷

প্রথম কারণটি যে একটু হলেও সত্যি তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ কারণ, এর আগে একাধিকবার কাম্য নয় এমন কথা তিনি বলেছেন৷ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তো তার কমিশন  আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে হাসির খোরাক হয়েছে৷ কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আদালতের ডিক্রি পেয়েছেন এলাকায় থাকার পক্ষে৷ নির্বাচন শেষে সিইসি সাহেব অসহায় আত্মসমর্পণের বিষয়টি সুকৌশলে গোপন করে বলেছেন, ‘‘আমরা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছি যে, একজন সংসদ সদস্যকে কখনোই এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দেয়নি নির্বাচন কমিশন।...আমরা তাকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ করিনি। তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছিলাম, সেই চিঠি আছে। ''

ওই ‘বিনীত অনুরোধ'-এর কথা শুনে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে দেশের মানুষ তখন খুব হেসেছে আর মনে মনে প্রশ্ন করেছে, ‘‘এমন কমিশন লইয়া আমরা কী করিবো?''

কিন্তু সিইসির তাতেও বোধোদয় হয়নি৷ হলে তিনি কথায় সতর্ক, সংযত হতেন৷ কথার চেয়ে কাজে বেশি মন দিতেন৷ ভাবতেন, তার আসল কাজ নির্ধারিত সময়েই যাতে ভোট হয়, ভোটে যাতে সবাই নির্ভয়ে অংশ নিতে পারে, ব্যালট বাক্স যাতে লুট না হয়, বুথ যাতে দখল না হয় সেসব নিশ্চিত করা৷ সেগুলো আগেভাগে নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় তাই এখন মন দিয়ে করতেন তিনি৷

Ashish Chakraborty
আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলেছবি: DW/T. Mehedi

অথচ কমিশনের প্রধান হয়েও তিনি এমন কথা বলছেন যার ফলে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে৷

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে তিনি বলেছেন , ‘‘সব দল সহযোগিতা না করলে আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যাবো। আপনাদের সমন্বিত প্রয়াস থাকবে, কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আপনি যদি দৌড় দেন, তাহলে আমি কী করবো?'' এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের সমালোচনা শুরু হওয়ায় তিনি অবশ্য আবার দায় এড়ানোর পথই ধরেছেন৷ এবার তার দাবি তিনি কৌতুক করেছেন৷ এবং এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে মিডিয়া তার কথা ঠিকভাবে প্রকাশ করেনি৷

প্রশ্ন হলো, এসব যদি তার শিরোনামে থাকার কৌশল না হয়, তাহলে এখনো কথাবার্তায় সংযত হচ্ছেন না কেন সিইসি? 

আর যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে খুব সদিচ্ছা আছে, কিন্তু ‘ওপরওয়ালাদের' কারণে পারছেন না- এমন কিছু বোঝাতে চান, তাহলে প্রশ্ন করতেই হবে, ‘‘মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অক্ষম হলে জোর করে দায়িত্বে থাকার দরকার কী? বাংলাদেশের আইনে পদত্যাগ কি কোনো  শাস্তিযোগ্য অপরাধ?''

না, পদত্যাগ কোনো অপরাধ নয়৷ তাছাড়া পদত্যাগ কোনো সমাধানও নয়৷

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নিজের সুবুদ্ধির ওপর বেশি ভরসা রাখবেন এবং কম প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে তার এবং তার কমিশনের পক্ষে সম্ভব- এমন কাজগুলোতে মনোনিবেশ করবেন- এইটুকুই আপাতত কাম্য৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Bangladesch |  Chaos am Flughafen Dhaka

বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা থামছে না কেন?

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান