আমাদের কমলা রঙের টেলিফোন | আলাপ | DW | 06.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

আমাদের কমলা রঙের টেলিফোন

ছোটবেলায় বাসায় যেদিন কমলা রঙের টিঅ্যান্ডটি ফোনটি এলো, কী যে ভালো লাগছিল৷ কিন্তু ফোন করার কেউ নেই৷ মাঝে মাঝে রং নাম্বারে ফোন দিয়ে দুষ্টুমি করতে ভালোই লাগতো৷

একদিন আন্দাজে ডায়াল ঘুরিয়ে ফোন করলাম৷ ওপাশ থেকে আমারই বয়সি এক কিশোরীর সুকণ্ঠ৷ স্বীকার করছি, সেদিন ঘাবড়ে গিয়েছিলাম৷

- হ্যালো, স্লামালাইকুম৷

- ওয়ালাইকুম আসসালাম৷ ভালো আছো? (যতটা সম্ভব গলা ভারী করার চেষ্টা করলাম)

- জ্বি ভালো৷ কে বলছেন?

- ভালো থেকো সবসময়৷ রাখি?

- জ্বি?

খটাস করে ফোন রেখে দিলাম৷ ঐটুকু দুষ্টুমিই তখন কী যে মজা লাগতো! পরে স্কুলে যখন খুব বন্ধুবান্ধব জুটে গেল, তখন তাদের সঙ্গে কথা হতো ঐ ফোনেই৷ কারো কারো বাসায় কথা বলার বাধ্যবাধকতা থাকলে টিঅ্যান্ডটি ফোনেই মিসকল দিতাম৷ একবার রিং করে কেটে দেয়ার ঘটনা তিনবার ঘটলে ওপাশ থেকে নিশ্চিত হয়ে যাওয়া যেত যে কে কল দিয়েছে!

স্কুলজীবনের শেষ দিকে বা কলেজের শুরুর দিকে মোবাইল ফোন এলো৷ আমার তখনো মোবাইল ফোন নেই৷ বন্ধুদের দু-একজনের ছিল৷ আমরা দোকান থেকে দশ টাকা মিনিটে কল করতাম৷

অল্প কথায় কাজ শেষ হয়ে গেলে বাকি কথার জন্য আফসোস হতো৷ আবার কোনো কারণে এক মিনিট পার হয়ে গেলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আরো দশ টাকা গুনতে হতো!

একবার ফোন অপারেটররা কী করল, প্রথম তিন সেকেন্ড ফ্রি করে দিলো৷ আর যায় কোথায়! কথা হতো ঐ তিন সেকেন্ডে৷ একবার এই বন্ধু ফোন করছে ঐ বন্ধুর কাছে, ‘‘কোথায়?'' বলেই ফোন কেটে দিলো৷ এরপর অন্য বন্ধুর কল, ‘‘মেইন গেটে৷'' এভাবেই চলতো৷

এর পরের কয়েক বছরে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অনেকটাই বদলে গেল৷ কলরেট কমে গেল৷ মেসেজের দাম কমলো৷ এমনকি মোবাইল ফোনের দামও কমে গেল৷

এক সময় ফিলিপ্সের সেই ডিগা সেট, যা দিয়ে ক্রিকেট পর্যন্ত খেলা যেত বলে প্রচলন ছিল, সেই সেট ছোট হতে লাগলো৷ নোকিয়া সি২৫, এ৩৫ আর ৩৩১০ আজ কেবল নস্টালজিকই করে দেয়৷ আরো ছিল, মোটোরোলা, সাজেম কত কী! 

পরের এক দশকে সব যেন হুট করে বদলে গেল৷ সবার হাতে মাল্টিমিডিয়া হ্যান্ডসেট৷ তখন ফোনে কথা বলার চেয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে থাকলো৷

মোবাইল ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও গতি সব দ্রুতগতিতেই বদলে দিতে লাগল৷ এখন খুব বেশি কেউ বাসার টিঅ্যান্ডটি সংযোগ নিয়ে ভাবে না৷

মোবাইল এখন শুধু কথা বলার যন্ত্র নয়৷ হরেক রকম যোগাযোগের একটি ডিভাইস, যার মূল চালিকাশক্তি হয়ে গেছে ইন্টারনেট৷

যেমন সেদিনও ডয়চে ভেলের বার্লিন অফিস থেকে আসা এক সহকর্মী ফিলিপ বলছিল,

- তোমার নম্বর দাও৷

আমি নম্বর দিলাম৷ সে বলল,

- হোয়াটসঅ্যাপে খুঁজে পাচ্ছি না৷

- হোয়াটসঅ্যাপে তো এই নম্বর ব্যবহার করি না৷ হোয়াটসঅ্যাপের নম্বর হলো...

সে হেসে বলল,

- হোয়াটসঅ্যাপের নম্বরটাই বেশি দরকার৷

এখন মানুষ কথা বলতে বা টেক্সট পাঠাতে মোবাইলের ক্রেডিট খরচ না করে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, লাইন, ইমো – এ সব ব্যবহার করে৷

শুধু তাই নয়, মোবাইল ব্যাংকিং বা লেনদেন এখন সমধিক জনপ্রিয়৷ বিশেষ করে নগদ অর্থ লেনদেনে বাংলাদেশে ‘বিকাশ' যা করেছে, তা সারাবিশ্বে এখন রোল মডেল৷

Zobaer Ahmed

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

এর বাইরে মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপগুলো বাংলাদেশে ততটা জনপ্রিয় না হলেও বিশ্বের অনেক জায়গাতেই এই সেবাগুলো জনপ্রিয় ও নিরাপদ বলেই মানা হয়৷

তাই মোবাইল অপারেটররাও এখন বেশি গুরুত্ব দেয় ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্প্রসারণে, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ ফোর জি৷ ফোর জি-র লাইসেন্স বিক্রি করে বাংলাদেশ কামিয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩শ' কোটি টাকা৷

অপারেটররা জানে যে, ইন্টারনেটের গতি বাড়লে এর ওপর নির্ভরশীলতা আরো বাড়বে৷ আরো নতুন নতুন প্লাটফর্ম তৈরি হবে৷ তাই তারা এখানে বিনিয়োগ করছে৷

হিসেব বলছে, অপারেটররা এখন পর্যন্ত এক লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে৷

এর আগে, ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানুষ থ্রি জি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে৷ থ্রি জি প্রযুক্তি বাংলাদেশে আসার মাত্র তিন বছরের মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি পেরিয়ে যায়৷

২০০৯ সাল থেকে বাড়তে থাকে এ খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও৷ তুলনামূলকভাবে অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে৷ অপারেটররা এখন লাভ বেশি করলেও বিনিয়োগের হার কমিয়ে দিচ্ছে৷ অথচ অনেক জায়গাতেই সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে৷ তাই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দেখা দরকার৷

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-র সর্বশেষ হিসেব দেখাচ্ছে, গত বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে মোবাইল সংযোগ ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি৷ এর মধ্যে গ্রামীণফোন প্রায় সাড়ে ছয় কোটি এবং রবি প্রায় চার কোটি ত্রিশ লাখ সংযোগ বিক্রি করেছে৷

ইন্টারনেটের প্রায় আট কোটি সংযোগ আছে, যার সাড়ে সাত কোটিই মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবহার করছেন মানুষ৷ বাকি ৫০ লাখ মূলত আইএসপি ও পিএসটিএন৷ এর বাইরে কিছু ওয়াইম্যাক্স সংযোগ আছে৷

এর অর্থ দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখনো ইন্টারনেট সংযোগের আওতার বাইরে আছে৷ তার মানে, এখনো ইন্টারনেটের বিরাট বাজার পড়ে আছে৷ আর যেহেতু  ইন্টারনেট মূলত মোবাইলেই ব্যবহৃত হয়, তাই মোবাইল অপারেটররা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন, এটাই স্বাভাবিক৷

মূল কথা হলো, টেলিযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে৷ এই অগ্রগতির হার জ্যামিতিক হারে বেড়েছে৷ ফোর জি এলে সেই গতি আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়৷

কিন্তু যোগাযোগ বা লেনদেন, কিংবা গবেষণা যে সুবিধার কথাই বলা হোক না কেন, অবকাঠামো ও সেবার মান যত ভালো হবে, সার্বিকভাবে উন্নয়নের মানও ভালো হবে৷ তাই সেদিকেই বেশি জোর দিতে হবে৷

মোবাইল ইন্টারনেট আপনাকে কী কী সুবিধা দিয়েছে? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন