‘‘আমাদের আদতেই যথেষ্ট আছে’’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.11.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘‘আমাদের আদতেই যথেষ্ট আছে’’

বিশেষজ্ঞদের মতে জার্মান অর্থনীতি ২০১৪ সালে ফুলেফেঁপে উঠবে৷ তবে অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে আরো বেশি কাজ করতে হবে, করতে হবে বেশি করে কেনাকাটা৷ এমনকি জিনিসপত্র ভালো থাকলেও বাতিল করতে হবে৷

default

‘কতটা হলে পর্যাপ্ত হয়?’

‘‘আমাদের জীবনে কতটা জিনিস যথেষ্ট?'' ২৩ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে লিসা একটি ওয়ার্কশপে যোগ দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন৷ শনিবার সকালের একটি দিন৷ ১১টার একটু পরেই বিছানা ছাড়তে হয়েছে তাঁকে৷ ম্যুন্সটার থেকে ডর্টমুন্ডে শহরের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবে৷ অনুষ্ঠানের মটো: ‘‘প্রাচুর্যের দিনগুলি শেষ হয়ে গেছে''৷ তবে এই রকম কোনো দিন লিসার জীবনে এসেছিল কিনা মনে করতে পারেন না এই ছাত্রী৷ তাঁর বয়স ২৯৷ ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি৷ ‘‘আমি ধনী৷ তবে আমার কখনও বেশি অর্থ ছিল না'', হাসতে হাসতে বলেন লিসা৷ পোশাক-আশাক বেশিরভাগই উপহার হিসাবে পান৷ কিংবা অন্যান্যদের সঙ্গে বদলাবদলি করে নেন৷ শেষ ছুটি কাটাতে যান ফ্রান্সে, রাস্তায় ‘হিচ হাইক' করে বা হাত তুলে অন্যের গাড়ি থামিয়ে৷

Portrait Lisa Tschorn

লিসা

বিলাসদ্রব্য পরিহার করা

নিকো পিচ-ও সচেতনভাবেই বিলাসদ্রব্য পরিহার করছেন৷ তাঁর কোনো মোবাইল টেলিফোন নেই, নেই গাড়িও৷ শেষবার কবে নিজের জন্য সৌখিন কোনো জিনিস কিনেছিলেন, এই প্রশ্নের উত্তরে একটু চিন্তা করে উত্তর দেন তিনি, ‘‘একটা সেকেন্ড হ্যান্ড সিডি''৷ নিকো পিচ অল্ডেনবুর্গ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর৷ মানুষের অফুরন্ত চাহিদার গতিটাকে একটু মন্থর করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি৷ বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়৷ নিকো পিচের ভাষায়, ‘‘আমাদের একটি মাত্র শরীর৷ তাই আমাদের অর্জন শুধুই বাড়তে পারে না৷ তবু আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র জোগাড় করছি৷ কোন অধিকারে?''

পিচ লক্ষ্য করেছেন, আগের চেয়ে আজকের তরুণদের মধ্যে অনেকেই ধারণ ক্ষমতার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন৷ কিন্তু তাদের সংখ্যাটা খুব বেশি নয়৷ লিমোনেডের বদলে জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কোনো ‘সফট ড্রিংক' পান করলেই যে ‘লাইফ স্টাইল' বদলে যাবে এমন কোনো কথা নেই৷ মানুষের চিন্তাধারারই পরিবর্তন দরকার৷ চাহিদা কমাতে হবে৷ কমাতে হবে জিনিসপত্র কেনার আকাঙ্খা৷ ত্যাগের মাধ্যমেই সম্পদের সাশ্রয় হবে৷ কেননা মনে রাখতে হবে আমাদের সম্পদ সীমিত৷

Prof. Niko Paech

অর্থনীতিবিদ নিকো পিচ

কেউ কেউ অনুপ্রাণিত

পিচের এই ধ্যানধারণায় অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন টোমাস ফোরব্রিগার৷ ৩৫ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তি আজকের এই ওয়ার্কশপটি পরিচালনা করছেন৷ অর্থ যে শুধুই এক জড় পদার্থ এটা বোঝাতে তাঁকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে৷ অনেক বিস্মিত দৃষ্টির সামনে পড়তে হয়েছে তাঁকে৷ অংশগ্রহণকারীদের তিনি অনুপ্রাণিত করতে চেষ্টা করেছেন, যাতে প্রত্যেকেই এই সামাজিক সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে কিছু না কিছু অবদান রাখতে পারে৷ টোমাস নিজেও নয়টা-পাঁচটা চাকরির ব্যাপারে উৎসাহ দেখাননি৷ এর ফলে যে সময় পাওয়া গেছে সেটা অন্য কাজে লাগাতে পেরেছেন ৷ যেমন কোনো কিছু মেরামত বা তৈরি করার কাজে৷ বাগানের কাজেও মন দিতে পারছেন৷

টোমাস ফোরব্রিগারের সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশেরই বয়স ২০-র কিছু বেশি৷ এদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মার্লিন শোয়ারৎসে৷ বয়স ১৮৷ সামনের বছর স্কুল ফাইনাল বা ‘আবিটুর' দেবে সে৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘স্কুলে আমি এসব বিষয়ে জানতে পারি না, যাতে আমার আগ্রহ রয়েছে৷ সে জন্যই আমি এখানে এসেছি৷'' সে আশা করে সমমনা মানুষজনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে এই সেমিনারে৷ স্কুলে সহপাঠীরা তাঁর দিকে অনেকটা বাঁকা চোখে তাকায়৷ কারণ মার্লিনের কোনো স্মার্টফোন নেই, নেই ফ্যাশনমাফিক পোশাক-আশাক৷ বন্ধু-বান্ধবরা ‘ফাস্ট ফুড' খেতে গেলে উপবাস করে সে৷ ‘‘এইভাবে আমি নিজেকে বহিরাগত করে ফেলছি'', জানায় মার্লিন৷ জার্মানিতে আমাদের কী যথেষ্ট জিনিসপত্র রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে মার্লিনে বলে, ‘‘শুধু যথেষ্ট নয়, অনেক বেশি আছে৷''

Portrait Marleen Schwarze

মার্লিন শোয়ারৎসে

অনেক কিছু ত্যাগ করা কষ্টকর

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছোট্ট একটা বিরতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ বায়ো চকলেট ও ফেয়ার ট্রেড-এর বাদাম খেতে খেতে আলোচনা করে ছেলে-মেয়েরা৷

২১ বছর বয়সি জেসকো গ্যোটিং-ও যোগ দিয়েছে সেমিনারে৷ বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন ধরে চিন্তাভাবনা করছে সে৷ তবে সে বাস্তববাদী৷ ‘‘আবর্জনা পৃথক করা কিংবা মাঝে মাঝে গাড়ি না চালানো, বিষয়টি আমি সঠিক বলেই মনেই করি৷ কিন্তু এশিয়া বা দূরের কোনো দেশে প্লেনে করে যেতে হলে তা আমি বাদ দেবো না'', জানায় জেসকো৷

‘‘অথচ জলবায়ুর এক বড় ঘাতক বলা যায় প্লেন বা উড়োজাহাজকে'', বলেন অর্থনীতিবিদ নিকো পিচ৷ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও ডিসপোসেবল প্যাকেজিং-এর পাশাপাশি তরুণদের জন্য এটাও একটা বড় সমস্যা৷ আর এই সব ক্ষেত্রে তাদের চাহিদা কমাতে চায় না অনেকে৷ এই ধরনের মানসিকতায় বড় রকমের কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন বলে মনে করেন না পিচ৷ ‘‘কিন্তু এ সম্পর্কে কথা বলতে তো ক্ষতি নেই'', বলেন এই অর্থনীতিবিদ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন