1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Gedenken an die Terroranschläge in Paris 11.01.2015
ছবি: AFP/Getty Images/P. Hertzog

শোক ও সংহতি

বারবারা ভেজেল/এসি
১২ জানুয়ারি ২০১৫

প্যারিসের শোকমিছিল শুধু শোকমিছিলই নয়, ছিল সংহতি প্রদর্শনের এক পন্থা৷ তবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া নিয়ে সব আনন্দ সত্ত্বেও এই সংহতি টিকবে কিনা, তা ভবিষ্যতই বলতে পারবে, বলে বারবারা ভেজেল-এর অভিমত৷

https://p.dw.com/p/1EIwf

রবিবারের ব়্যালি দেখে বাকি বিশ্বের ঈর্ষা হলেও আশ্চর্যের কিছু থাকত না৷ গত সপ্তাহের রক্তাক্ত ঘটনাবলীর পর ফরাসিরা তাদের ইতিহাস ও মূল্যবোধ, জাতি তথা আদর্শের প্রতি চমকপ্রদ আনুগত্য দেখিয়েছেন৷ প্যারিসে মিছিল করেন ১৫ লক্ষের বেশি মানুষ – বাকি দেশে আরো বিশ লাখ৷ তারা গণতন্ত্রের সপক্ষে এবং হিংসা ও ভীতির বিপক্ষে আন্দোলন করেন৷ সন্ত্রাসী হামলায় ভয় পেতে রাজি নন তারা, এবং সেই মহার্ঘ বস্তুটি হারাতে রাজি নন, যা তাদের কাছে অতি প্রিয়: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ফ্রান্সের প্রাচীনতম ঐতিহ্যগুলির মধ্যে পরিগণ্য, জাতীয় সত্তার অঙ্গ৷

Netanjahu besucht den Anschlagsort in Paris 12.01.2015
নেতানিয়াহু প্যারিসের ইহুদি বিপণীটি পরিদর্শন করছেনছবি: Reuters/Y. Herman

সংহতি মাঝেমধ্যে কিছুটা উদ্ভট

চল্লিশটি দেশের রাষ্ট্র তথা সরকারপ্রধানেরা প্যারিসে এসেছিলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে – এবং তাদের বিপুল করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়৷ সেক্ষেত্রে একই পঙক্তিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে দেখতে পাওয়াটা চমকে যাওয়া মতো – যদিও নেতানিয়াহু কোনোরকম প্রতীকী আচার-আচরণের মাধ্যমে শান্তির ইঙ্গিত রাখেননি৷ বরং তিনি ফ্রান্সের ইহুদিদের প্রতি বাস উঠিয়ে ইসরায়েলে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন৷ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে একই পঙক্তিতে পদযাত্রা করছিলেন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সমর্থনে, তখন তিনিই বা কী ভেবেছিলেন? এ সব ব্যাপার-স্যাপার ক্ষেত্রবিশেষে উদ্ভট কিংবা হাস্যকর মনে হতে পারে৷

‘‘সারা বিশ্ব উঠে দাঁড়িয়েছে'', এই ছিল বিভিন্ন ফরাসি পত্র-পত্রিকার শীর্ষক, সঙ্গে মেশানো ছিল কিছুটা গর্ব, কেননা এই রবিবার ফ্রান্সের উপরে ছিল সারা বিশ্বের মনোযোগ৷ ফরাসিরাও চাইছিল বহির্বিশ্ব থেকে স্বীকৃতি ও সমর্থন৷ ফরাসিদের চোখে বুনিয়াদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তারাই সর্বাগ্রে, অপরদিকে তাদের শঙ্কা, স্বদেশের সন্ত্রাসবাদীরা আবার আঘাত হানতে পারে৷ ব্রিটেনের মতো ফ্রান্সেও শহরের প্রান্তে ‘ঘেটো' এলাকাগুলিতে ইসলামি উগ্রপন্থিদের গুপ্তপ্রতিরোধ দানা বেঁধেছে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, বলে মনে হতে পারে৷

ফ্রান্সের যৌথ সত্তা

বিগত কয়েক দিনে মানবতা এবং নাগরিক চেতনার নানা সংবেদনশীল নিদর্শন রাখা হয়েছে – যেমন একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘‘আমি শার্লি এব্দো, আমি একজন পুলিশ, আমি এক ইহুদি''৷ ফ্রান্সের সর্বত্র মানুষজন তাদের এই যৌথ সত্তার প্রতি আনুগত্য জানিয়েছে৷ কিন্তু এই আবেগের পর আবার একটু স্থির হলে রাজনৈতিক বিরোধও আবার ফিরে দেখা দেবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী পরস্পরের উপর দোষারোপ করবে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে৷

সেক্ষেত্রে প্রথমেই যার প্রয়োজন, তা হলো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলি থেকে আগত অভিবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্পর্কে আন্তরিক আলাপ-আলোচনা৷ বিগত দশকগুলিতে যে সব ভুল করা হয়েছে: শহরের প্রান্তে হাই-রাইজ বসতির অরাজকতা, নিকৃষ্ট সব স্কুল, কোনোরকম ভবিষ্যৎবিহীন এক যুব সমাজ, যারা নিজেদের এ দেশের বাস্তবিক অংশ বলে মনে করে না; সেই সঙ্গে এমন সব নিকৃষ্ট কারাগার, যেগুলি উগ্রপন্থি রংরুট বানানোর কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে৷

এ ধরনের বেশ কয়েক লাখ মানুষের জীবনধারা স্থায়ীভাবে উন্নত করার জন্য ফ্রান্সের একটি সুবিশাল সংস্কার পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে৷ সেক্ষেত্রে চরম দক্ষিণপন্থিদের তরফ থেকে বাধা আসবে বৈকি৷ শেষমেষ হয়ত বিগত কয়েক দিনের আবেগপূর্ণ গালভরা কথার পর আগের মতোই শুধু একটি বিনষ্ট সুযোগই পড়ে থাকবে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Bangladesch Dhaka Luftverschmutzung

জানুয়ারিতে একদিনও স্বাস্থ্যকর বায়ু পায়নি ঢাকার মানুষ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান