‘আমরা না করলে প্রকৃতি আমাদের ‘ঘর’ পরিষ্কার করে দেবে’ | বিশ্ব | DW | 10.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ

‘আমরা না করলে প্রকৃতি আমাদের ‘ঘর’ পরিষ্কার করে দেবে’

আমাদের এই গ্রহকে রক্ষা করতে হলে কী করতে হবে? মার্কিন লেখক, পরিবেশবিদ, ডিপ গ্রিন রেজিসট্যান্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেরিক জেনসেন মনে করেন পৃথিবীকে পরিষ্কার করতে হবে এবং তা করতে প্রয়োজনে প্রস্তর যুগে ফিরে যেতে হবে৷

মার্কিন লেখক, পরিবেশবিদ, ডিপ গ্রিন রেজিসট্যান্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেরিক জেনসেন

মার্কিন লেখক, পরিবেশবিদ, ডিপ গ্রিন রেজিসট্যান্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেরিক জেনসেন

ডয়চে ভেলে : আপনি তো প্রচলিত ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করে দিতে চান, তাহলে কি আপনি সভ্যতা-বিরোধী?

ডেরিক জেনসেন : একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, আমি সভ্যতা-বিরোধী মানে কিন্তু এই নয় যে, আমি সংস্কৃতি-বিরোধী নই৷ এমন একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, সব সংস্কৃতিই সভ্যতা, আসলে কিন্তু তা সত্যি নয়৷

বলতে চাইছি, আমাদের জীবনযাপন প্রণালীর ভিত্তি হলো এই গ্রহটিকে একটা মেশিনের মতো করে তুলতে প্রকৃতির ক্ষতি করে যাওয়া৷ তাতে কিছু টেকসই হয় না, শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনোদিনই হয়নি৷

আমি এখন উত্তর ক্যারোলাইনায় থাকি৷ কমপক্ষে ১২,৫০০ বছর এখানে টলোয়াই ইন্ডিয়ানরা বসবাস করেছে৷ ১৯০ বছর আগে এখানে যখন ইউরোপীয়রা এলো, জায়গাটা তখনও স্বর্গের মতো ছিল৷

এখান থেকে একটু দক্ষিণে ক্লামাথ নামের একটা নদী আছে৷ সেখানে কালো টলমলে জলে স্যামন মাছ ভেসে বেড়াতো৷ স্যামন মাছ নেই বলে সেখানে গত কয়েক বছর ধরে ইন্ডিয়ানরা আর স্যামন উৎসব করতে পারছে না৷

দৃষ্টিভঙ্গিটা রোমান্টিক হয়ে গেল না? প্রস্তর যুগে ফিরে যাওয়া মানে তো ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর এক জীবন, প্রতিনিয়ত অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম৷ সত্যিই তা চান আপনি?

আমি কী চাই সেটা কোনো ব্যাপার নয়৷ টেকসই ব্যাপারটা আসল৷ এ্মন জীবন যাপন বেশিদিন চলতে পারে না৷

তবে আমি মানুষের বিরুদ্ধে নই৷ এই গ্রহে মানুষ তো এক হিসেবে ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ বছর টিকেছে৷ এর বেশিরভাগ সময়ই আমরা টেকসই উপায়ে বেঁচেছি৷ কিন্তু সভ্যতা সবসময়ই ধংসাত্মক৷ সেটাই সমস্যা৷

প্রাক-সভ্যতা যুগে ফিরে গেলে আমরা সমান্তরাল ধংসপ্রক্রিয়া দেখতে পাবো; যেমন ব্যবসা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়া৷

আমার কাউন্টিতে এখন ৩৫ হাজার মানুষের বাস৷ সভ্যতা শুরুর আগে এখানে ১৮ হাজারের মতো মানুষ ছিল৷ তাদের কোনো রেফ্রিজারেটর ছিল না৷ আসলে রেফ্রিজারেটরের দরকারও ছিল না, কারণ, তাদের তো নদীভরা স্যামন মাছ ছিল৷ আমাদের নদী ভর্তি স্যামন মাছ নেই বলেই নিজেকে এক কোণে যতন করে এঁকে রেখেছি৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মহাসাগর মাছশূন্য হয়ে যেতে পারে৷

কিন্ত আপনি যে সিস্টেমের কথা বলতে চাইছেন, তা তো সবাই যোগ না দিলে কার্যকর হবে না?

একটা গল্প বলি, তাহলে পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট বোঝা যাবে৷

ছোট বেলায় মা সবসময় আমাকে ঘর পরিষ্কার করতে বলতেন৷ কিন্তু আমি করতাম না৷ বারবার বলেও কাজ না হওয়ায় মা একদিন বললেন, দেখো, হয় তুমি ঘর পরিস্কার করো, না হয় আমি করবো৷ আমি করলে কিন্তু তোমার পছন্দ হবে না, কারণ, তখন আমি তোমার সব জিনিস ফেলে দেবো৷

তাই আমাদের উচিত নিজেদের ঘরটা পরিষ্কার করতে শুরু করা. কারণ, আমরা যদি না করলে প্রকৃতি আমাদের হয়ে কাজটা শুরু করে দেবে এবং তখন প্রকৃতির কাজটা আমাদের পছন্দ হবে না৷

প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যে ঘরটা সত্যিই নোংরা৷ তবে সমস্যা হলো, আমরা সিস্টেমে আসক্ত৷ তাই আমি যে পরিবর্তন চাই তা সবাই স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবে না, কারণ, সিস্টেম তো কেউ ছাড়তে চায় না৷

নিল কিং, গাব্রিয়েল বোরুদ/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন