‘আমরা ইউরোপ-অ্যামেরিকা না,তা বুঝে সমালোচনা করতে হবে′ | আলাপ | DW | 01.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘আমরা ইউরোপ-অ্যামেরিকা না,তা বুঝে সমালোচনা করতে হবে'

নূর মোহাম্মদ পুলিশের সাবেক আইজি৷ এখন সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য৷ পুলিশের সাম্প্রতিক কিছু কাজ নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি৷

ডয়চে ভেলে: পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগে ‘নবাব এলএলবি' নামে একটি সিনেমার পরিচালক এবং একজন অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ ডিজিটাল আইনে মামলাও হয়েছে৷ পুলিশের এই পদক্ষেপ কি ঠিক আছে?

নূর মোহাম্মদ: পুলিশের কাজ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা তো সব সময়ই আছে, চলছে৷ চলবেই৷ এখানে প্রেক্ষিতটা দেখতে হবে৷ কোন অবস্থায় মামলা হয়েছে এটার ডিটেইলসটা আমি জানি না৷  তবে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে, ইমেজ নষ্ট হতে পারে, সেটা যদি কেউ ইনটেনশনালি করে, তাহলে এটাকে তো আমি অপরাধ মনে করবো৷ পুলিশ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি৷ তারা অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছে৷ এমনিতেই তো পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কথাবার্তা শুনছি৷ এখন ওদের যদি দুর্বল করে দেন, তাহলে তো সমস্যা৷ তবে একটা জিনিস আমি বলবো, পুলিশের কাজের সমালোচনা অবশ্যই করতে হবে৷ করবে না কেন? পুলিশ কেন, যে কোনো বিভাগেরই সমালোচনা করার অধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকতে হবে৷ তবে ওই মামলার বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই৷

অডিও শুনুন 10:05

‘‘যেখানে অস্ত্র আছে, পোশাক আছে সেখানে ক্ষমতার একটু দাপট থাকেই’’: নূর মোহাম্মদ

ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ধর্ষণের শিকার নারীকে প্রশ্ন করছিল৷ অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে ভাষা এবং পদ্ধতি আপত্তিকর...

এটা কি সিনেমা? সিনেমা হলে সেন্সর বোর্ড আছে না? তারা কি দেখে না? কোনো বিষয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাহলে তো ওভাবেই পারমিশন দেয়া উচিত৷ সম্ভবত এটা সেন্সর বোর্ড দেখেনি৷ এটা ওয়েব সিনেমা৷ অনলাইনভিত্তিক৷ তবে আমরা তো ইউরোপ-অ্যামেরিকা হয়ে যাই নাই৷ আমাদের দেশের অবস্থা বুঝে আলোচনা সমালোচনা করতে হবে৷ উন্নত বিশ্বের মতো কথা বলব, চিৎকার করে সমালোচনা করবো, আমরা তো ওই স্টেজে এখনো যাই নাই৷

এক্ষেত্রে পুলিশই ক্ষতিগ্রস্ত, পুলিশই মামলা করলো, পুলিশই তদন্ত করবে৷ এই প্রক্রিয়া কি ঠিক আছে, না পুলিশ আদালতে যেতে পারতো?

না না৷ অবশ্যই সঠিক আছে৷ এই দেশে ইনভেস্টিগেশন, ইনকোয়ারির ক্ষমতা তো একমাত্র পুলিশেরই আছে৷ পুলিশকে তো দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছেন৷ প্রাথমিকভাবে তদন্ত, অনুসন্ধান পুলিশেরই কাজ৷ বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো পরে আসবে৷

পুলিশের নেতিবাচক কাজ যদি উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সমাজে বা নাগরিকদের মধ্যে এর কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে?

একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তো হবে৷ কোভিড থেকে শুরু করে পুলিশ এত ভালো কাজ করছে এখন৷ তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করলে তো অপরাধের বিষয় হিসেবে দেখবে৷ তবে যাদের খোলা মন, তারা মনে করতে পারেন সমালোচনা করা তো আমার রাইট৷

পুলিশের কতিপয় সদস্য যখন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তখন তো সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে৷ এতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় কিনা...

যেখানে অস্ত্র আছে, যেখানে আইন আছে, পোশাক আছে সেখানে ক্ষমতার একটু দাপট থাকেই৷ তবে এই দাপট আইনিভাবে কতটা দেখাবেন তা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানগুলো কত ভালোভাবে তাদের কাজগুলো তদারক করছে৷ পুলিশের কাজ যেহেতু অপরাধ নিয়ে, তাই এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির সুযোগটা আমরা দেখি৷ পুলিশ বাহিনীর বিরাট সংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷

পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ অস্ত্র ভাড়া দিয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, কেউ আবার বৈধ অস্ত্র অবৈধ কাজে ব্যবহার করছেন৷ এর খবর প্রকাশ করায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে কিনা?

ভাবমূর্তি তো ক্ষুন্ন হবেই৷ তবে পুলিশ কেন, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে দুর্নীতি নাই? বাড়াবাড়ি নাই? আর পুলিশের দুর্নীতি, বাড়াবাড়ি বেশি করার কারণ হলো তার হাতে ক্ষমতা বেশি৷

এইসব খবর প্রকাশ করলে সাংবাদিকরা  কি আইনগত ব্যবস্থার শিকার  হতে পারেন?

না না, ওটা হবে কেন?  সাংবাদিকদের সাথে আমার মনে হয় পুলিশের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো রাখা উচিত৷ সাংবাদিকদের অনেকে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করেন, এগুলো তো পুলিশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷

সিনেমার ঘটনার মতো ঘটনা তো বাস্তবে ঘটেছে৷ ওই মামলার ফলে সাংবাদিকদের কাছে মেসেজ যেতে পারে কিনা যে, তারাও মামলার শিকার হতে পারেন?

এটা নিয়ে আপনারা (সাংবাদিক) একটু পুলিশের সাথে কথা বলে নিতে পারেন৷ তারাও কথা বলতে পারেন৷ আমার মনে হয় এটা সবার জন্যই ‘সেফ' হবে৷ তবে এখানে কোনো দিকেরই বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই৷ এটা একটা ভালো বার্তাও হতে পারে, কেউ যদি এই ধরনের বিষয় নিয়ে সিনেমা বানায় তাহলে আলোচনা করে নিতে পারেন৷

সৃষ্টিশীল কাজ ,যেমন, নাটক সিনেমা এগুলো নিয়ে পুলিশ হঠাৎ অ্যাকশনে না গিয়ে সেন্সর বোর্ড বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে কি যেতে পারতো না?

এটা করতে পারে৷ কিন্তু যেটা বের হয়ে গেছে সেটার ব্যাপারে তাদের খুব একটা কিছু করার আছে বলে মনে হয় না৷

নাটক সিনেমায় পুলিশের চরিত্রে অভিনয়ে পুলিশের পোশাক, র‌্যাংক, ব্যাজ ব্যবহারে পুলিশের অনুমতি নেয়ার নির্দেশনা আছে পুলিশ সদর দপ্তরের৷ এটা কি থাকা উচিত ?

সব কিছুই একটা নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে৷ একটা পারমিশন নেয়ার বিষয় তো থাকে৷ এটা না নিলে তো মুশকিল৷ কারণ পোশাকটা পরারও তো একটা নিয়ম আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়