আবারো জেএমবি′র ‘উলফ প্যাক′? | বিশ্ব | DW | 01.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আবারো জেএমবি'র ‘উলফ প্যাক'?

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সাথে গত বছর ঢাকায় পুলিশের ওপর হামলার মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা৷ এরইমধ্যে চট্টগ্রামের হামলায় ‘দায় স্বীকার' করেছে আইএস৷ তারা ঢাকায় পুলিশের ওপর হামলারও দায় স্বীকার করেছিল৷

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন৷ এরইমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আবুল কাশেম৷ চট্টগ্রামের কাউন্টার টেরররিজম ইউনিট, স্থানীয় পুলিশ ও পিবিআই ছাড়াও ঢাকা থেকে কাউন্টার টেররিরজম ইউনিটের টিম ঘটনা তদন্তে এখন চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি৷
ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই চট্টগ্রাম কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার পলাশ নাথ জানান, ‘‘চট্টগ্রামের হামলার সাথে গত বছর ঢাকায় পুলিশের ওপর হামলার মিল আছে৷''

অডিও শুনুন 01:19

পুলিশই টার্গেট: শওকত


একই কথা রোববার ডয়চে ভেলেকে বলেন চট্টগ্রাম কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলি৷ তিনি বলেন, ‘‘ঢাকার হামলার সঙ্গে চট্টগ্রামের হামলার মিলের মূল জায়গা হলো পুলিশের ওপর আক্রমণ৷ এখানেও যে পুলিশই টার্গেট সে বিষয়টি আমাদের কাছে নিশ্চিত৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বোমাটি ছুঁড়ে মারা হয়নি৷ বোমাটি পাতা ছিলো৷ তবে দূর নিয়ন্ত্রিত কিনা তা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি৷ আমরা তদন্ত করে দেখছি৷ বোমা তৈরিতে স্থানীয় প্রযুক্তি ও বিষ্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে৷''

বিস্ফোরকের সাথে জিআই পাইপ, মার্বেল এবং শক্ত কোনো ধাতব পদার্থের টুকরা ব্যবহার করে বোমাটি তৈরি করা হয়েছে বলে আলামত দেখে ধারণা করছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বিস্ফোরক দল৷ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হননি৷
গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাঁচটি স্থানে পুলিশ বক্স ও পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়৷ বোমাগুলো ছিলো দূর নিয়ন্ত্রিত৷
পুলিশ পরে ঢাকার হামলার সাথে জড়িত নব্য জেএমবি'র একটি গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে৷ তখন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ‘‘হামলার সাথে নব্য জেএমবি'র উলফ প্যাকের সদস্যরা জড়িত৷'' ওই সময় যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় তারা নর্থসাউথ ইউনিভাার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন৷ তারা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য৷''

অডিও শুনুন 01:32

উলফ প্যাক ছোট দলে কাজ করে: মনিরুল


পুলিশ জানায়, জঙ্গিরা তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় দেখাতে এই ধরনের হামলা চালায়৷
মনিরুল ইসলাম রোববার ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ঢাকায় যে পাঁচ জনকে তখন আটক করা হয়েছিল তাদের একজন ছিলো বোমা বানানোর এক্সপার্ট৷ সে বোমা তৈরির একটি ইংরেজি ম্যানুয়াল বাংলা করেছিল৷ আমরা ধারণা করছি জঙ্গিরা সেই ম্যানুয়াল এখনো ব্যবাহার করছে৷''
‘‘তারা ছিলো পাঁচ জনের একটি সেল৷ নব্য জেএমবি'র সাথে তাদের যোগাযোগ ছিলো৷ তাই তারা লোন উলফ ঠিক নয়, তারা ছিলো উলফ প্যাক৷ লোন উলফের সদস্যরা সাধারণত অনলাইনের মাধ্যমে বা অন্যকোনো উপায়ে ‘সেলফ র‌্যাডিকালাইজড' হয়৷ নিজেরাই হামলার পরিকল্পনা ও হামলা করে৷ কারুর সাথে যোগাযোগ থাকেনা৷ আর উলফ প্যাক পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকেনা৷ তারা একটি ছোট গ্রুপ বা প্যাকে কাজ করে,'' বলেন মনিরুল ইসলাম৷
তিনি চট্টগ্রামের পুলিশের ওপর হামলাকে একই ধারার হামলা বলে মনে করছেন৷ তবে তদন্ত শেষ হলেই এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন