আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন মে | বিশ্ব | DW | 03.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন মে

ইউরোপ থেকে বেরিয়ে যেতে আরেক দফা সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে৷ এজন্য চুক্তির বিষয়ে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে সৃষ্ট জটিলতার কোনো জট খুলতে পারছেন না ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে৷ ফলে এখন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি, যা এড়াতে মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আরেক দফা সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন৷ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে সাত ঘণ্টার বৈঠক শেষে এমন আভাস দিয়েছেন তিনি৷ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিল ব্রেক্সিট কার্যকরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ 

টেলিভিশনে দেয়া বক্তৃতায় টেরেসা মে বলেন, ‘‘আর্টিকেল ফিফটি কার্যকরে আমাদের আরেক দফা সময় বাড়ানোর আবেদনের প্রয়োজন হবে৷ এটি হবে স্বল্প সময়ের জন্য এবং এটি শেষ হবে চুক্তি পাসের মাধ্যমে৷''

তবে কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা ছাড়া সময় বাড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই সময়সীমা কেন বৃদ্ধি করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার হতে হবে, যাতে আমরা নির্দিষ্ট সময় এবং একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারি৷''

এদিকে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে আপাতত তিনটি সম্ভাবনা খোলা রয়েছে ব্রিটেনের জন্য৷ সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে কোনো চুক্তি ছাড়াই ১২ এপ্রিল ব্রিটেন বের হয়ে আসবে৷ কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-র উপর সেই পথ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছেন৷ প্রধানমন্ত্রী চতুর্থবারের মতো সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের চেষ্টা চালাতে পারেন৷ তবে তার জন্য স্পিকারের সম্মতি ও প্রয়োজনীয় ঐকমত্য অর্জন করা প্রয়োজন৷ সেই প্রচেষ্টায় আবার ব্যর্থ হলে মে ইইউ-র কাছে দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে ব্রেক্সিট মূলতুবি রাখার আবেদন জানাতে পারেন৷ সে ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে হবে৷ 

সব মিলিয়ে কীভাবে ব্রেক্সিট কার্যকর করা হবে তা নিয়ে বিরোধী দলের সাথে যেমন মতৈক্য নেই, তেমনি নিজ দলের ভেতরেও মে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাচ্ছেন না৷ এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তিনি কাটাতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন৷ বলেন, ‘‘আমি এই অচলাবস্থা ভাঙার উদ্যোগ নিচ্ছি৷ বিরোধী দলের নেতার সাথে আমি বসতে চাই৷ একটি পরিকল্পনা বিষয়ে একমত হতে চাই, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে৷'' চুক্তির মধ্য দিয়েই ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে তিনি তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন৷ ‘‘ইইউর সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে৷''

মে বলেন, তিনি বিরোধী দলীয় নেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে চান৷ প্রয়োজনে আবারো একাধিক প্রস্তাব নিয়ে সংসদে যাওয়ার কথা বলেন তিনি৷ 

স্বাগত জানিয়েছেন কর্বিন

মের আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি কর্বিন৷ তিনি আগ্রহ নিয়েই মের সাথে আলোচনা করবেন বলে উল্লেখ করেন৷ যদিও সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মে সমঝোতার তেমন কোনো লক্ষণ দেখাননি৷ ইউরোপের সাথে বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পর্ক নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট কার্যকরের বিষয়ে তিনি মে'র সাথে একমত৷

লেবার পার্টি প্রধান বলেন, ইইউ'র সাথে অবশ্যই চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে হবে যাতে ব্রিটেনের জনগণ বিপর্যয়ে না পড়ে৷ লেবার পার্টির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব তুলে ধরার কথাও বলেছেন কর্বিন, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে ইইউর সাথে ব্রিটেনে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে জোর দেয়া হবে৷

ইইউর প্রতিক্রিয়া

ব্রেক্সিটকে ঘিরে ব্রিটেনের চলমান অচলাবস্থায় হতাশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ তবে মে'র নতুন উদ্যোগের ঘোষণা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক, যা বিবেচনায় নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান৷ ডাউনিং স্ট্রিটে মে বক্তৃতা দেয়ার পরই একটি টুইট বার্তায় এই অভিমত প্রকাশ করেন তিনি৷ যার মাধ্যমে মের কাছ থেকে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা শুনতে ইইউর অপেক্ষার বিষয়টির ইঙ্গিত মিলছে৷ ‘‘এমনকি আজকের পরও আমরা জানি না চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, আসুন আমরা সবাই ধৈর্য্য ধরি,'' বলেছেন টুস্ক৷ ইউরোপের দেশগুলো বরাবরই চুক্তির মাধ্যমে বিচ্ছেদ কার্যকরের উপর জোর দিয়ে আসছে৷

জার্মানির অর্থমন্ত্রী পেটার আল্টমায়ার বলেন, ‘‘ইইউ এবং ব্রিটেন শেষ মুহূর্তেও একটি চুক্তির মাধ্যমে বিপর্যয় এড়াতে পারে৷ কেননা এর সাথে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয় জড়িত৷'' দেশটির দৈনিক সংবাদপত্র দ্যা বিল্ডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনকে বিচ্ছেদ কার্যকরে প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দেয়ার পক্ষে নিজের মত তুলে ধরেন তিনি৷ তবে শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন চুক্তি ছাড়া বিচ্ছেদ ঘটালে তার ধাক্কা সামাল দিতে জার্মান সরকার বিশদ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও জানান তিনি৷

এফএস/জেডএইচ (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন