আবারও সমালোচনার মুখে জার্মানির গাড়ি শিল্প | বিশ্ব | DW | 30.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

আবারও সমালোচনার মুখে জার্মানির গাড়ি শিল্প

জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফল্কসভাগেন, ডাইমলার ও বিএমডাব্লিউ-র বিরুদ্ধে মানুষ ও বানরের উপর গবেষণা চালানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে৷ নৈতিক বিবেচনায় এ ধরনের গবেষণা যুক্তিসঙ্গত নয়, বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর৷

ঘটনার শুরু বৃহস্পতিবার সেদিন নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক খবরে  দশটি বানরের উপর গবেষণা চালানোর খবর প্রকাশিত হয়৷ এতে বলা হয়, একটি গবেষণা সংস্থা বায়ুশূন্য একটি ঘরে দশটি বানর রেখে সেখানে ডিজেলের ধোঁয়া ছেড়েছিল৷ এর মাধ্যমে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল কম ক্ষতিকর, এমন একটি ফলাফল পাওয়ার চেষ্টা করা হয়, বলে ঐ প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়৷ কারণ আলোচিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জার্মান ঐ তিন গাড়ি নির্মাতার অর্থায়নে চলত৷ আর গবেষণায় ফল্কসভাগেনের একটি গাড়ি থেকে নিসৃত ডিজেলের ধোঁয়া ব্যবহৃত হয়েছিল৷ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপ অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ ইন দ্য ট্রান্সপোর্ট সেক্টর' বা ইইউজিটি৷ গতবছর প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায়৷

ভিডিও দেখুন 01:51

German carmakers accused of poison gas tests on humans

নিউ ইয়র্ক টাইমসে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর সপ্তাহান্তে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ফল্কসভাগেন৷ সংস্থার প্রধান লবিয়িস্ট টোমাস স্টেগ ‘বিল্ড' পত্রিকাকে মঙ্গলবার জানান, প্রাণীর উপর আর কখনও পরীক্ষা না চালানোর অঙ্গীকার করছে ফল্কসভাগেন৷

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল, যা পরবর্তীতে ‘ডিজেলগেট' নামে পরিচিতি পেয়েছিল৷ কোম্পানিটি প্রায় ১১ মিলিয়ন গাড়িতে এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিল, যা দূষণের পরিমাণ কম দেখায়৷

ফল্কসভাগেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই থেমে থাকেনি৷ সোমবার স্টুটগার্টার সাইটুং ও স্যুড ডয়চে সাইটুং পত্রিকায় ইইউজিটি নামের ঐ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানুষের উপর পরীক্ষা চালানোর খবর প্রকাশিত হয়৷ এতে বলা হয়, জার্মানির আখেন শহরের এক বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ২৫ জন স্বাস্থ্যবান মানুষকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন মাত্রার নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করানো হয়েছে৷ পরে গবেষকরা পরীক্ষার ফলাফলে জানান, এই গ্যাস গ্রহণের ফলে ঐ মানুষদের উপর ‘বিশেষ প্রভাব পড়েনি'৷ ২০১৩ ও ২০১৪ সালে এই গবেষণাটি হয়৷

সোমবার সকালে এমন খবর প্রকাশে জার্মানির ঐ তিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে৷ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এর কঠোর নিন্দা জানান৷ ‘‘বানর, এমনকি মানুষের উপর এ ধরনের পরীক্ষা নীতিগত বিবেচনায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,'' বলেন ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টেফেন সাইবার্ট৷ ভারপ্রাপ্ত পরিবহণমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান শ্মিড্ট জানান, ‘‘এর ফলে গাড়ি শিল্পের উপর বিশ্বাস আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলো৷'' ঐ তিন প্রতিষ্ঠানকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

এদিকে, অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠান ডাইমলারের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘গবেষণার বিস্তারিত জেনে আমরা আতঙ্কিত৷'' বিএমডাব্লিউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আলোচিত ঐ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি৷ আর ফল্কসভাগেন বলেছে, আলোচিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইইউজিটি-কে ‘স্বাধীন' প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল৷

অবশ্য বিশ্লেষকদের অভিযোগ, জ্বালানি হিসেবে ডিজেল কম ক্ষতিকর, এই বিষয়টি প্রমাণ করাই ঐ সংস্থার গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন