আবারও করোনার বিধিনিষেধের আওতায় বাংলাদেশ | বিশ্ব | DW | 13.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আবারও করোনার বিধিনিষেধের আওতায় বাংলাদেশ

ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার থেকে আবার বিধিনিষেধের কড়াকড়ি শুরু হয়েছে৷ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ১১টি ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রায় পাঁচ মাস পর আবার শুরু হওয়া এই বিধি-নিষেধের কারণে উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকবে৷ শনিবার থেকে বাস-ট্রেনে আবার অর্ধেক যাত্রী থাকবে৷

নির্দেশনাসমূহ

  • দোকানপাট, শপিংমল, বাজার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক৷
  • অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক, অন্যথায় আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে৷
  • রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য টিকা সনদ অবশ্যই দেখাতে হবে৷
  • ১২ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না৷
  • স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে৷ বন্দরে ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে৷ স্থলবন্দরগুলোয় আসা ট্রাকের সাথে শুধুমাত্র চালক থাকতে পারবে, কোনো সহকারী আসতে পারবে না৷ বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে৷
  • ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেওয়া যাবে৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে৷ সব ধরনের যান চালক ও সহকারীদের টিকার সনদ থাকা বাধ্যতামূলক৷
  • বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকাকার্ড প্রদর্শন এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে৷
  • স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামদের সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে হবে৷ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন৷
  • সর্বসাধারণের করোনা টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে৷ এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিবে৷
  • উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে৷
  • ক্ষেত্র বিশেষে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে৷

২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণের শুরু হলে মার্চের শেষ দিকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়, যা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলে৷ তবে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টির পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে৷ বুধবার শনাক্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার রোগী৷ দৈনিক শনাক্তের হারও প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ১২ দিন আগেও ৩ শতাংশের নীচে ছিল ছিল৷

করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরনের দাপটে গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে রোগীর চাপে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল৷ দৈনিক শনাক্ত রোগী ১৬ হাজারও ছাড়িয়ে যায়, এক দিনে আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়৷

অর্থনীতি আর জীবিকা বাঁচাতে আগের মত সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া ‘লকডাউন' ব্যবসায়ীরা চান না৷ এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বুধবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, লকডাউনই সমাধান নয়, জোর দিতে হবে টিকা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতায়৷

নাগরিকদের দ্রুত টিকার আওতায় এনে, সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করে যতটা সম্ভব জনজীবন সচল রাখতে চাইছে সরকার৷ দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ এবং ৩২ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন৷ বয়স্ক ও ফ্রন্টলাইনারদের বুস্টার ডোজ দেওয়া চলছে৷

এনএস/জেডএইচ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়