আফ্রিকানদের ইসরায়েলে ছাড়তে হবে, নয়তো কারাবাস | বিশ্ব | DW | 08.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইসরায়েল

আফ্রিকানদের ইসরায়েলে ছাড়তে হবে, নয়তো কারাবাস

হাজার হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বহিষ্কার করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল৷ হয় তাঁরা সাময়িক আর্থিক সাহায্য নিয়ে ফেরত যাবেন, নয়তো জেলে যেতে হবে৷

মাত্র কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের অভিবাসন ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষ একটি বিতর্কিত কর্মসূচি চালু করেছেন, যার লক্ষ্য হলো, ইরিত্রিয়া বা সুদান থেকে আগত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের কোনো তৃতীয় দেশে যেতে বাধ্য করা, অথবা তাদের অবিলম্বে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা৷ যাঁদের জন্য এই কর্মসূচি, তাঁদের এই দুই পন্থার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে৷ সেজন্য তাঁরা মার্চ মাস অবধি সময় পাবেন৷

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে এই পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘অনধিকারপ্রবেশকারীরা সহজেই বেছে নিতে পারেন, হয় তারা স্বেচ্ছায়, মর্যাদা সহকারে, মানবিকভাবে ও আইনগতভাবে আমাদের সাথে সহযোগিতা করবেন, অথবা আমাদের অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করতে হবে৷''

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির তরফ থেকে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু আরো এক ধাপ এগোতে চান, বলে ‘হারেৎস' পত্রিকার বিবরণে প্রকাশ৷ দৃশ্যত ইসরায়েলের জেলগুলি ভরা থাকায় ও জেলের কয়েদিদের জন্য ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বলপূর্বক বহিষ্কারের পন্থাটি বিবেচনা করা হতে পারে৷ তবে জোর করে বহিষ্কারের পরিকল্পনা বর্তমানে ‘বাস্তবসম্মত নয়' বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন৷

ভিডিও দেখুন 01:15
এখন লাইভ
01:15 মিনিট

আফ্রিকান অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ইসরায়েলের উদ্যোগ

তা সত্ত্বেও ইসরায়েলে বসবাসকারী ইরিত্রীয় ও সুদানীরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করেছেন৷ বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষরা বলপূর্বক বহিষ্কারের হাত থেকে রেহাই পাবেন, এমন গুজবও শোনা যাচ্ছে৷ তবে কোনো খবরই নির্ভরযোগ্য নয়৷ সকলেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন৷

আনুমানিক ৩৭,০০০ ইরিত্রীয় ও সুদানী ইসরায়েলে রয়েছেন৷ তাঁরা ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ইসরায়েলে যান, মিশরের সিনাই উপদ্বীপ হয়ে ইসরায়েলে আসার পথটি তখনও উচ্চ প্রযুক্তির নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়নি৷

প্রায় কোনো উদ্বাস্তুকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয় না

এ পর্যন্ত আফ্রিকান অভিবাসীদের একটি বিপুল অংশকে উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি৷ ইউএনএইচসিআর-এর বিবৃতি অনুযায়ী, মাত্র আট জন ইরিত্রীয় ও দু'জন সুদানী নাগরিক উদ্বাস্তু হিসেবে ইসরায়েলে স্বীকৃতি পেয়েছেন৷

বাকিদের প্রতি তিন মাস অন্তর তাদের অস্থায়ী রেসিডেন্স পার্মিট নবায়ন করাতে হয়৷ যাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেননি, তাঁরা যখন পরের বার ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আসবেন, তখন তাঁদের একটি প্লেনের টিকিট ও ৩,৫০০ ডলার ভরতুকির প্রস্তাব দেওয়া হবে, যা না নিলে, তাঁদের জেলে যেতে হতে পারে৷ দক্ষিণ ইসরায়েলের হলোট ডিটেনশন কেন্দ্রে যাঁরা আটক রয়েছেন, তাঁদের উপরেও দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে৷

বর্তমানে ব্যতিক্রমের বহু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রকাশ৷ পরিবারবর্গ, শিশু, ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ, যে সব অভিবাসী মানুষপাচারকারীদের শিকার হয়েছেন ও যারা উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আবেদনপত্র দাখিল করেছেন, তাদের সকলকেই আপাতত ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে মিডিয়ার বিবরণ থেকে জানা গেছে৷

ইসরায়েলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের এক শতাংশের কম বর্তমানে স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো জানাচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে ইউরোপে ইরিত্রীয়দের প্রায় ৯০ শতাংশ রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকেন৷ বস্তুত সুদানী ও ইরিত্রীয়রা ইসরায়েলে এলে, তাদের ‘গোষ্ঠী সুরক্ষা' দেওয়া হয় বলে জানান ‘হটলাইন ফর রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্র্যান্টস' সংস্থার তামারা নিউম্যান৷ যুগপৎ তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন না করতে বলা হয়৷

ইসরায়েলে আফ্রিকানদের উদ্বাস্তু হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাদের সাধারণত ‘অনধিকারপ্রবেশকারী ও ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে৷

তানিয়া ক্রেমার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও