আফগান টিভিতে যাত্রা শুরু করল শিশুতোষ ‘সিসেম স্ট্রিট’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 08.12.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

আফগান টিভিতে যাত্রা শুরু করল শিশুতোষ ‘সিসেম স্ট্রিট’

‘সিসেম স্ট্রিট’৷ ছয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে সেই বিখ্যাত শিশুতোষ সিরিয়াল৷ আফগান শিশুদের জন্য মাপেট সিরিয়াল দেখানো শুরু হল৷ শিশুদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার গড়ে তুলতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন প্রযোজকরা৷

জনপ্রিয় মার্কিন টিভি শো সিসেম স্ট্রিট

জনপ্রিয় মার্কিন টিভি শো সিসেম স্ট্রিট

‘বাগছে সিমসিম', এই নাম নিয়েই কথা বলা পুতুল এলমো আর সেই মস্ত বড় পাখির চরিত্র সহ সিসেম স্ট্রিট এর আফগানিস্তান জয় শুরু হল এই সপ্তাহেই৷ জিম হেনসনের সেই মাপেট বা কথা বলা পুতুলকে নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষামূলক টেলিসিরিয়ালের মোট ২৬টি আধঘন্টার পর্ব দেখানো শুরু হয়েছে আফগানিস্তানে৷ তবে আফগানিস্তানের সমাজের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রেখে কিছু চরিত্র কাটছাঁট করা হয়েছে মূল টিভি ধারাবাহিক থেকে৷ সেগুলি হল, আবর্জনা প্রেমী অস্কার দ্য গ্রাউচ, দ্যা কাউন্ট এবং ভ্যাম্পায়ার ম্যাথস হুইজ৷

আফগানিস্তানের সিসেম স্ট্রিট বা বাগছে সিমসিম -এর আফগান মার্কিন প্রযোজক তানিয়া ফারজানা সংবাদসংস্থা এএফপি-কে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, অস্কার দ্য গ্রাউচের চরিত্রটি আবর্জনা পছন্দ করে৷ আফগান সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে তা আপত্তিকর ইঙ্গিত তৈরি করবে৷ তাছাড়া কাউন্টের চরিত্রটি বাদ পড়ার কারণ হল বাদুড়ের প্রতি সেই কাউন্টের আকর্ষণ৷ রক্ষণশীল ইসলামিক সমাজে যা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়৷ জানিয়েছেন তানিয়া৷

Flash-Galerie Die Sesamstraße wird 40

জার্মান টেলিভিশনেও এই শো সমান জনপ্রিয়

এছাড়াও আরও কয়েকটি ছোটখাটো পরিবর্তন করতে হয়েছে৷ যেমন ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে নাচের দৃশ্যগুলি বাদ পড়েছে৷ কারণ নারী পুরুষের একত্রে নাচ আফগান সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়৷ যদিও সংগীতাংশ ঠিকঠাকই রাখা আছে৷ আসলে এই টিভি ধারাবাহিকের লক্ষ্য হল, যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানিস্তানের সমাজে শিশুদের মধ্যে একটা অন্যধারার দৃষ্টভঙ্গি তৈরি করা৷ তাদের সামনে শিক্ষাকে নিয়ে আসা বিনোদনের মোড়কে মুড়ে৷ কথা বলা পুতুল এবং মজার সব চরিত্রের সাহায্যে এই দুনিয়াখ্যাত সিসেম স্ট্রিট আফগান শিশুদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পাবে যে সে বিষেয় নিশ্চিত প্রযোজকরাও৷

বস্তুত, সিসেম স্ট্রিট এর ভিন্ন দেশে যাত্রা এই প্রথম নয়৷ সেই ছয়ের দশকের শেষে মার্কিন পিবিএস চ্যানেলে যাত্রা শুরু করা এই জনপ্রিয় ধারাবাহিক সবসময়েই সাফল্যের তুঙ্গচূড়ায় অবস্থান করেছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ভাষায় তাকে দেখা গেছে৷ বাংলাও ব্যতিক্রম নয়৷ বাংলাদেশের টেলিভিশনে এই ধরাবাহিক টিভি শো শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ছবি হিসেবে দারুণ সাফল্য পেয়েছে৷ এই ছবির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এই জাতীয় মাপেট শো বা কথা বলা পুতুল নিয়ে শিশুদের জন্য একাধিক টিভি শো-এর আয়োজন দেখা গেছে ভারতেও৷ এবার আফগানিস্তানের পালা৷

জাতির যারা ভবিষ্যৎ, তাদের জন্য এই ‘বাগছে সিমসিম' বা ‘সিসম স্ট্রিট'-এর প্রয়োজনীয়তা সত্যিই অনস্বীকার্য৷ আগামীতে এই শিশুরাই দেশকে গড়বে৷ আজ তাদের জন্য প্রয়োজন সত্যিকারের গঠনমূলক শিক্ষা৷ যা কিছুটা হলেও দিতে পারবে ‘বাগছে সিমসিম৷'

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়