আফগানিস্তানের ‘ওপরাহ′: মোজদাহ জামালজেদাহ | বিশ্ব | DW | 06.09.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের ‘ওপরাহ': মোজদাহ জামালজেদাহ

আফগান-ক্যানাডিয়ান শিল্পী মোজদাহ জামালজেদাহ ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তার নারীবাদী গানের কথা৷ তালেবান আবারো আফগানিস্তান দখল করে নেয়ায় হতাশও তিনি৷

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তিন দশক আগে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন মোজদাহ জামালজেদাহ৷ পরিবারের সঙ্গে প্রথমে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন পাকিস্তানে৷ তারপর আশ্রয় পান ক্যানাডায়৷ বর্তমানে ভ্যাঙ্কুভারে থাকেন তিনি৷

সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘দ্য ওপরাহ অব আফগানিস্তান' হিসেবে পরিচিত জামালজেদাহ আফগানিস্তানে তার তারকাখ্যাতি এবং দেশটিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে মতামত জানিয়েছেন৷

রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং নারী অধিকার নিয়ে গান গেয়ে আফগানিস্তানে খ্যাতি অর্জন করেন জামালজেদাহ৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার বক্তব্য সবাইকে জানাতে এবং নারীদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সংগীত বেছে নেই৷ আমি আফগান জনতাকে জানাতে চেয়েছি যে নারীরা সমাজের একটি বড় অংশ এবং তারা সবসময়ই এরকম ছিল৷''

অতীতে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর পুরুষরা নারী এবং পরিবারের সদস্যদের উপর নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

বিদেশি বাহিনী আফগানিস্তানে থাকাকালে ২০০৯ সালে দেশটিতে ফিরে যান মোজদাহ জামালজেদাহ৷ বাবার লেখা গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠলে এক সময় কাবুলের একটি টেলিভিশন চ্যানেল তাকে একটি শো হোস্ট করার জন্য নিয়োগ দেয়৷ নারীবাদ, শিশু অধিকারসহ নানা ইস্যু তুলে ধরা শোটি রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান তিনি৷

জামালজেদাহ বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলে আমি অনেক হুমকিও পেতে শুরু করি৷ বিশেষ করে গৃহনির্যাতন এবং বিভিন্ন ট্যাবু টপিক নিয়ে কথা বললে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ আমাকে হুমকি দেয়া হয়৷ কেউ কেউ আমাকে এসব বিষয় নিয়ে আর না আগাতে পরামর্শ দেন৷''

একপর্যায়ে গুজব রটে যে জামালজেদাহকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে৷ তিনি যে টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করতেন, সেখানে ফোন করে কেউ একজন এই তথ্য জানায়৷ অথচ তিনি তখন ক্যানাডায় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন৷ এধরনের গুজব ছড়ানোর পরও অবশ্য কাবুলে ফিরে যান তিনি৷ কিছুদিন কাজও করেন৷ তবে, একপর্যায়ে আর আগানো সম্ভব হয়নি৷

জামালজেদাহ বলেন, ‘‘২০১২ সালে আমি আফগানিস্তান ত্যাগ করি৷ আমার শোও শেষ হয়ে যায়৷ তার বলেছিল পরিস্থিতি শান্ত হলে আমি আবার ফিরে যেতে পারি৷''

তারপরও মাঝে মাঝে আফগানিস্তানে গিয়ে বিভিন্ন শো এবং কনসার্ট করেছেন মোজদাহ জামালজেদাহ৷ কিন্তু স্থায়ীভাবে দীর্ঘসময় দেশটিতে আর থাকেননি তিনি৷

সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেখানেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি৷ ইউটিউব এবং ফেসবুকে তার ভিডিও লাখ লাখ মানুষ দেখেন৷

জামালজেদাহ বিশ্বাস করেন, আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনীর অবস্থানকালে মানুষের মধ্যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল, নারী অধিকার নিয়ে সচেতনতা বেড়েছিল৷ কিন্তু এখন তালেবান ক্ষমতায় ফেরায় পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে আবার৷

তিনি বলেন, ‘‘যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত করে তাহচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী অধিকার নিয়ে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল তা আবার শূণ্যে ফেরত যাবে৷ কেননা, তালেবান আবারো সেসবের উপর প্রভাব বিস্তার করবে৷''

প্রতিবেদন: মানসি গোপালাকৃষ্ণান / এআই