আন্দোলনে যাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকেরা | বিশ্ব | DW | 17.05.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আন্দোলনে যাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকেরা

দূরপাল্লার বাস ঈদের আগেই চালুর দাবি জানিয়েছিলেন পরিবহন শ্রমিকেরা। কিন্তু তাদের দাবির প্রতি সরকার এখনো কোনো সাড়া না দেয়ায় তারা আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

আজ(সোমবার) রাতে তাদের বৈঠকে বসার কথা। বৈঠকেই আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।
ঈদের দিনও ঢাকাসহ সারাদেশের বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। দূরপাল্লার যানবাহন চালু না করলে ঈদের আগে কঠোর আন্দোলনে হুশিয়ারি দিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী এবং শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। কিন্তু সোমবার তার সুর কিছটা নরম মনে হয়েছে। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন," সরকার আমাদের কোনো দাবিই মানছেনা। এখন শ্রমিকেরাই বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। তারা খুব কষ্টে আছেন।”
পরিবহন শ্রমিকদের প্রশ্ন, লকডাউনের মধ্যে দোকানপাটসহ সব কিছুই চালু আছে। শহরের মধ্যে ও জেলার মধ্যেও বাস চলাচল করছে। তাহলে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকবে কেন? স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদেরও বাস চালাতে দিতে হবে।
ঈদের আগে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছিলো একটি পরিবহন কোম্পানির সহকারি কাওসার আহমেদ হৃদয়ের সঙ্গে। বাস বন্ধ থাকায় তিনি বেকার ছিলেন।

অডিও শুনুন 02:49

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাতে দিলে আমারা বাঁচতাম , যাত্রীদেরও এত ভোগান্তি হতো না’

এখনো তিনি বেকার। সোমবার তাকে আবার ফোন করলে তিনি জানান, এখন আরো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ায় অন্য কোনো কাজও করতে পারছেন না। বাসা ভাড়া দিতে পরছেন না। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বিপদে আছেন। সরকার বা মালিকের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তাও পাচ্ছেন না। তিনি বলেন," ঈদে কেউ এক প্যাকেট সেমাইও দেয়নি। সন্তানদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। তাদের খাবার দিতে পারছিনা।”
ঢাকার বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার গুলোতে পরিবহন শ্রমিকরা এখন বিষন্ন মুখে বসে থাকেন। যদি পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত হয় সেই আশায়। কেউ কেউ সহায়তার আশায় বসে থাকেন। কিন্তু তাতে তাদের হতাশা বাড়ছে বই কমছে না।
‘নেত্র পরিবহনের' সুপারভাইজার ইনসান মিয়া বলেন," এতদিন ধারদেনা করে চলেছি। এখন আর কেউ ধারও দিচ্ছে না। তিন সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। বাস কাউন্টারে বসে থাকি যদি কোনো সহায়তা পাই বা বাস চালু হয় সেই আশায়।”
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন," মানুষ তো চলাচল করছে। ঈদে বাড়ি গেছে। ফিরেও আসছে। ছোট ছোট যানবাহন চলছে । তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া লাগছে। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাতে দিলে আমারাও বাঁচতাম , যাত্রীদেরও এত ভোগান্তি হতোনা।''

অডিও শুনুন 02:37

‘আমরা যে তালিকা দিয়েছি তাদের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ শ্রমিকও সহায়তা পাননি’


"আমরা সরকারের কাছে খাদ্য সহায়তা চেয়েছিলাম। সরকার এক টাকাও সহায়তা করেনি। শ্রমিকেরা এখন জীবন বাঁচাতে কেউ রিকশা চালাচ্ছে, মজুরের কাজ করছে। কথায় বলে মানুষটা মরে গেলেও চোখ দুইটি ভালো আছে। আমাদের শ্রমিকদের অবস্থা এখন সেরকম,'' বলেন এই শ্রমিক নেতা।
সোমবার রাতের বৈঠকে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবিতে আমরণ অনশন বা মানববন্ধনের মত কর্মসূচি দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে মালিকেরাও শ্রমিদের তেমন কোনো সহয়াতা দিচ্ছে না। দুই-একটি পরিবহন কোম্পানি ছাড়া আর কেউ পরিবহন শ্রমিকদের ঈদে কোনো বেতন বোনাস দেয়নি। পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি হানিফ খোকন বলেন," আমরা সরকারের সহায়তার জন্য শ্রমিকদের যে তালিকা দিয়েছি তাদের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগও সহায়তা পাননি। আর সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ১৭ টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই গ্রেড ধরে মালিকরা তো ঈদে এক মাসের বেতন দিতে পারতেন। কিন্তু বড় দুই-একটি কোম্পানি ছাড়া কেউ দেয়নি।”
ওসমান আলী বলেন, দেশের পরিবহন ব্যবসা সাত-আট জন ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে। বাকিরা একটি বা দুইটি গাড়ির মালিক। তারাই করোনায় বসে গেছেন। ফলে সহায়তা করতে পারছেন না।
বাংলাদেশের পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্যাহ বলেন ," আমরা সরকারে সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ঈদের পরও যোগাযোগ করেছি মালিক শ্রমিক মিলে। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছিনা। এভাবে চললে মালিক শ্রমিক সবাই পথে বসে যাবেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশে করোনায় "লকডাউন' ২৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়