আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে চায় ওআইসি | বিশ্ব | DW | 07.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে চায় ওআইসি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভবিষ্যতেও যেন আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে একটি কমিটি গঠন করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি৷ ঢাকায় ওআইসির সম্মেলনে কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়৷

সংস্থার মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমিন একে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ তিনি বলেন, নতুন এই কমিটি ‘‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের ধরতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় ও সমন্বয়ের কাজ করবে৷’’

ওআইসি মহাসচিব বলেন, ‘‘আমাদের (রোহিঙ্গা) ভাই ও বোনদের সমস্যার সমাধানে এটি অন্যতম একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ৷’’

সমস্যার সমাধানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সহায়তা চেয়েছেন৷ ‘‘এটি ধর্মীয় বিষয় নয়৷ এটি আমাদের ভাই ও বোনদের মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়,’’ বলেন তিনি৷

এদিকে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নির্যাতন ‘আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন’ বলে মনে করছে ওআইসি৷ এছাড়া এই নিপীড়নের ঘটনা ‘জাতিগত নিধন’ বলেও জানিয়েছে ৫৩টি ইসলামি রাষ্ট্রের ঐ সংগঠন৷ এর আগে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও ‘জাতিগত নিধন’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছে৷

এর আগে শুক্রবার ওআইসি-র একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে দেখেছে৷ তাঁরা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন৷

পাকিস্তানের প্রতিবাদ

এদিকে, সম্মেলনে যে ‘ঢাকা ডিক্লারেশন’ ঘোষিত হয়েছে তা প্রকাশের আগে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেনি বলে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন৷ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকা বিবৃতিটি প্রকাশ করে বলে অভিযোগ তাদের৷ ‘‘এতে (ঢাকা ডিক্লারেশন) শুধু আয়োজক দেশের বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে৷ এবং সেজন্য এটা তাদের দায়িত্বে প্রকাশিত হয়েছে, ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি,’’ দাবি পাকিস্তান হাই কমিশনের৷

তবে তাদের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম৷ ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কিছু করা হয়নি৷ ‘‘ওআইসি সচিবালয়ের নির্দেশনা ও পরামর্শ মেনে সবকিছু করা হয়েছে,’’ বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন তিনি৷

ওআইসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি কারও ক্ষোভ থাকে তাহলে তাদের প্রথম ওআইসি সচিবালয়কে জানানো উচিত৷’’

মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছে৷ সেই সময় দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং লায়িং-এর সঙ্গেও বৈঠক করে দলটি৷ সেই সময় সেনাপ্রধানের দেয়া একটি বক্তব্যের অংশ শনিবার তাঁর ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা হয়৷ এতে বলা হয়, ফেরত আসা রোহিঙ্গারা যদি তাদের জন্য নির্মিত মডেল গ্রামে থাকে, তাহলে তারা নিরাপদ থাকবে৷

সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকতে বাধ্য করার যে আশংকা করা হয়েছিল, সেটিই আবার নতুনভাবে উঠে এলো বলে মনে করছে বার্তা সংস্থা এএফপি৷

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্য রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে সম্বোধন করেছেন৷ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনেছে, তা ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ ‘‘বাঙালিরা কখনও বলবে না যে, তারা খুশি হয়ে সেখানে (বাংলাদেশে) গিয়েছে৷ তারা যদি নিপীড়ন আর কষ্টের কথা বলে তাহলেই শুধু তারা সেখানে সমবেদনা পাবে,’’ বলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান৷

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়