আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় উন্নত চাষ | অন্বেষণ | DW | 24.11.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় উন্নত চাষ

পরিবহণের মতো কৃষিক্ষেত্রও কার্বন নির্গমনের জন্য অনেকাংশেই দায়ী৷ অথচ আধুনিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে চাষের কাজ আরো উন্নত করে তুললে একইসঙ্গে অনেক সুবিধা পাওয়া সম্ভব৷ ইন্দোনেশিয়ার এক প্রযুক্তিবিদ ঠিক সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন৷

Indonesien Kratom

ফাইল ফটো

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বনায়ন মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী ২০১৮ সালে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় আট শতাংশের জন্য কষিক্ষেত্র দায়ী ছিল৷ সে দেশে বনায়ন ও জ্বালানির পরেই কৃষিকাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷

একই বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন এফএও জানিয়েছে, যে বিশ্বব্যাপী কৃষিক্ষেত্র ও গবাদি পশুর কার্যকলাপের কারণে প্রায় ৫৩০ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড ইকুইভ্যালেন্ট সৃষ্টি হচ্ছে, ২০০০ সালের তুলনায় যা ১৪ শতাংশ বেশি৷ ইউজিএম গবেষক হিসেবে বাইয়ু নুগ্রোহো বলেন, ‘‘খড় পোড়ানোর ধোঁয়া গ্রিনহাউস গ্যাস, অর্থাৎ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের কারণ৷ ফলে বায়ুমণ্ডলের গঠন বদলে যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটতে থাকে৷ দীর্ঘকাল ধরে গ্লোবাল ওয়ার্মিং চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে৷ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বর্ষার আর ঠিকঠিকানা নেই, খরার স্থায়ীত্ব বাড়ছে৷ চারিদিকে চরম আবহাওয়া ও বন্যার অভিজ্ঞতা হচ্ছে৷''

রাসায়নিক সার ও সার উৎপাদনের কারণেও অনেক কার্বন নির্গমন ঘটে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চাষিদের প্রবল খরা ও বৃষ্টিপাতের ধাক্কা সামলাতে হয়৷ সেই সমস্যার কথাও ভাবতে হবে৷

বাইয়ু আবহাওয়া ও মাটির সেন্সর তৈরি করে আরও নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেবার চেষ্টা করছেন৷ একইসঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন কমাতে চান তিনি৷

অটোম্যাটিক ওয়েদার স্টেশন নামের সেই টুল আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে৷ বাতাসের তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, মাটির অম্লতা ও আর্দ্রতার মতো তথ্য কাজে লাগানো হয়৷

বাইয়ু-র তৈরি এক অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়৷ তারপর এক স্মার্টফোন অ্যাপে বিশ্লেষণের ফলাফল আপলোড করা হয়৷ চাষিদের পক্ষে সেই তথ্য বোঝা সহজ হয়৷ বাইয়ু বলেন, ‘‘সমাধান কী? আমাদের ডেটা প্রসেসিংয়ের সুযোগ রয়েছে৷ চাষিদের আসলে কী প্রয়োজন? তারা শুধু নিশ্চয়তা চায়৷ এখন মাটির অবস্থা কী? আগামীকাল আমি কী করবো? তারা যাতে যথারীতি ফসল তুলতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে৷''

ভিডিও দেখুন 04:27

আকর্ষণীয় কৃষিকাজ

আরআইটিএক্স বার্তানি নামের অ্যাপ চাষিদের দৈনিক আবহাওয়ার পাশাপাশি মাটিতে পানি ও সার দেবার সেরা সময়ও বাতলে দেয়৷ সার ও সেচের সঠিক প্রয়োগ ফসলের পরিমাণও বাড়াতে পারে৷ অনেক চাষির মতো হর্তোনোও এই অ্যাপ ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন৷

হর্তোনোর মতে, চাষের জমির আরও দক্ষ ব্যবহারের ফলে ফসলের পরিমাণ হেক্টর-প্রতি নয় দশমিক দুই টন থেকে দশ টন বেড়ে গেছে৷ সেই সঙ্গে আরো দক্ষতার সঙ্গে সার ও পানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘মাটির সমস্যা শনাক্ত করা এই টুলের মূল সুবিধা৷ আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাটির অম্লতার মাত্রা জানতে পারি৷ আমাদের ধানের খেতে এই টুল রয়েছে, ফলে মাটির পিএইচ মাত্রা, অম্লতা বা কোনো কিছুর অভাব শনাক্ত করতে পারি৷ সেই অনুযায়ী সারের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারি৷''

বাইয়ুর তৈরি এই প্রযুক্তির দৌলতে তরুণ প্রজন্মের কাছেও পেশা হিসেবে চাষবাস আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ বিশাল সংখ্যক তরুণ চাষি হয়ে ওঠায় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যারও সমাধানের আশা করা হচ্ছে৷ বাইয়ু নুগ্রোহো মনে গরেন, ‘‘আসলে কৃষিকাজেরও প্রযুক্তি থাকতে পারে৷ অন্যান্য কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও সেটা সম্ভব৷ যেমন আমি ছাত্র হলে একইসঙ্গে চাষিও হয়ে উঠতে পারি৷ কীভাবে? আমি প্রযুক্তির সাহায্যে চাষ করবো৷ সার দেওয়ার সময় হলে আমাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে৷ সার দেওয়ার পর আমি আবার ছাত্র হিসেবে নিজের কাজে মনোযোগ দেবো৷ এমনকি সুখভূমি এলাকায় আমাদের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কয়েকজন চাষি ট্যাক্সি-বাইক চালক হিসেবে কাজ করছেন৷''

২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন কৃষিজমিতে ১১৫টি সেন্সর বসানো হয়েছে৷ প্রায় ১৫,০০০ চাষি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত৷ সবচেয়ে দূরের সেন্সরটি পাপুয়া প্রদেশের মনোকোয়ারি এলাকার ধানের খেতে বসানো হয়েছে৷

আন্দ্রেয়াস পামুংকাস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়