আদৌ কি হবে? | বিশ্ব | DW | 01.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

আদৌ কি হবে?

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কড়া আইন করতে হবে৷ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে৷ এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে৷ এদিকে আন্দোলন করার ‘অপরাধে' পরিবহণ শ্রমিকদের হাতে মার খাচ্ছে শিশুরা৷

বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজোয়ান হকের একটি লেখা গতকাল হয়তো অনেকেরই দৃষ্টি কেঁড়েছে৷ তিনি লিখেছেন, ‘এবার যদি হয়!' জাবালে নূর বাস দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর একজনের বাবা বাস ড্রাইভার ও পরিবহণ শ্রমিক নেতা৷ মেয়ের মৃত্যুতে তিনি আর কখনো স্টিয়ারিং ধরবেন না বলে জানিয়েছেন৷

রেজোয়ান হক আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনায় ‘টনক' নড়বে এই একটি শ্রেণির, যারা সাধারণের কাছে পরিচিত ‘বেপরোয়া' হিসেবে৷ তবে শুধু তাদের টনক নড়লেই হবে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৷ তবে শেষের দিকে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ক্ষুদে শিশুরা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে, তাতে যদি কিছু হয়৷

রেজোয়ান হকের মতো এমনটা আশা করেন আমার ধারণা বাংলার প্রতিটি মানুষই৷ কারণ, সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ যারা সজন হারাচ্ছেন, তারা সেই ব্যথা বুকে নিয়ে আজীবন হাহাকার করে যাচ্ছেন৷ আমরা কেউ কেউ সোচ্চার হচ্ছি৷ পরে ভুলে যাচ্ছি, কারণ আমাদের সামনে ব্যস্ত হবার মতো আরো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে৷

তবে আমি আশা করতে চাইলেও বাস্তবতা আমাকে তা করতে দিচ্ছে না৷ খালি মনে হচ্ছে যে, আমরা কী ভিষণ এক চক্রে পড়ে আছি!

পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, পুঁজি বা অর্থ ‘শাসকগোষ্ঠীকে' এতটাই নীচে নামায় যে, আমরা ভুলে যাই মানবতার কথা৷ এখানে শাসকগোষ্ঠী বলতে যারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন আপাতত তাদের বোঝাচ্ছি৷ আর তা তৈরি করে শ্রেণিবিভেদ৷

এই ড্রাইভার-হেলপার শ্রেণিকে আমরা ঘৃণা করছি৷ বিশ্বাস করুন, তারাও আমাদের করছে৷ তাই আমরা মরলে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছি৷ তারা মার খেলে তারাও একজোট হচ্ছে৷ কিন্তু দু'পক্ষেই যে ভুলগুলো আছে, তা নিজেরা শুধরে নেবার চেষ্টা নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আর এই বিভেদের সুযোগ নিচ্ছে কারা? সেই যে সুবিধাভোগী শ্রেণি৷ আমাদের ঘৃণা ততটা কিন্তু তাদের জন্য নেই, যতটা এই শ্রমিকদের প্রতি৷ কারণ তারা ‘বেপরোয়া'৷ আসুন প্রশ্ন করি, কারা আসলে বেপরোয়া? শুধুমাত্র অর্থলগ্নি করার ক্ষমতা থাকায় মুনাফার প্রায় পুরোটা যাদের পকেটে যায়, তারা রাস্তায় মার খায় না৷ গালি খায় না৷ অথচ তারাই তাদের বাহন সেইসব অপ্রাপ্তবয়স্ক ড্রাইভার অথবা হেলপারদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন যারা প্রশিক্ষিত তো ননই, স্বল্পশিক্ষিতও নন৷

এরা সবসময় রাষ্ট্রের বঞ্চিত শ্রেণি৷ তাই তাদের কারণে যখন এসব দুর্ঘটনা ঘটছে, তখন তারা অস্তিত্বের সংকটে পড়ছেন৷ অস্তিত্বের সংকটে পড়লে কে না রুখে দাঁড়াবে৷ তাই তারাও দাঁড়াচ্ছেন৷

এখানে রাষ্ট্রেরও দায় ভীষণ৷ এই রাষ্ট্র জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কে জনগণের জন্য চলাচল একদল আনাড়ির হাতে ছেড়ে দিয়ে কী ভয়ঙ্কর ফাঁদ তৈরি করেছে৷ আইনের প্রয়োগে কী ভীষণ দুর্বলতা! যারা সড়কে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে, তাদের অবহেলার নজির অসংখ্য৷ উৎকোচের বিনিময়ে এই সড়কে কী না হয়৷

তার ওপর ঐ যে বঞ্চিত শ্রেণিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ‘ক্ষমতাবান' মানুষরা গিয়ে দেখুন প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি ইউনিয়নে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার দখলে ব্যস্ত৷ তাই এদের ছত্রছায়ায় বঞ্চিত শ্রেণি ক্ষমতায়িত হয়৷ হয়ে ওঠে বেপরোয়া৷ আর যেহেতু তারা বঞ্চিত, তাদের আমরা ঘৃণা করি, তাই তাদের আর যাবারও জায়গা নেই৷ সেই ক্ষমতাবানদের ছায়া তাদের খুব দরকার৷ এ এক দোর্দণ্ড চক্রব্যূহ৷

এই ঢাকা মহানগরীর সড়কেই প্রশাসনের ছায়াতলে অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় রুট কি তৈরি হয়নি? শুধুমাত্র মুনাফার প্রয়োজনে নিয়ম না মেনে অসংখ্য পাবলিক যানবাহন কি নামানো হয়নি? শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রয়োজনে সড়ক আইনকে স্থূল বানিয়ে ফেলা হয়নি? হয়েছে৷ আমাদের চোখের সামনে হয়েছে৷ এখন পরিবর্তন করবেন৷ পরিবহণ শ্রমিকরা নামবে রাস্তায়৷ আবারো অরাজকতা৷

Zobaer Ahmed (Zobaer Ahmed)

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

সরকার কোনটি করবে? শিক্ষার্থীদের দাবি মানবে? না পরিবহণ শ্রমিকদের ঠান্ডা করবে? সামনে নির্বাচনও আছে৷

যখন সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী বলেন যে, শিক্ষার্থীদের আবেগের যথেষ্ট কারণ আছে, তখন দৃষ্টি হয়ে ওঠে তীর্যক৷ নানা প্রশ্ন আসে আসে মনে৷ জোরালো আইন করবেন৷ করতেই হবে৷ কিন্তু তার প্রয়োগ হবে তো?

পরিবহণগুলোর সার্বিকভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবেন তো? পরিবহণ শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন তো? পরিবহণ খাতের দুর্নীতি রোধে ব্যবস্থা নেবেন তো? ট্রাফিক আইনের কড়া প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন তো?

আমি আশাবাদীই থাকতে চাই৷ শিশুরা রাস্তায় রক্ত ঝরিয়ে আপনাদের কাছ থেকে কতটা কী আদায় করতে পারল, তা দেখতে চাই৷ আজ, কাল বা পরশু নয়, দুই চার পাঁচ বছর পরও দেখতে চাই৷

যুবায়ের আহমেদের লেখাটি আপনাদের কেমন লাগলো? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন