আদালতে আসামির মাথায় আইএস টুপি, দায়ীদের শাস্তির আশ্বাস | বিশ্ব | DW | 27.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আদালতে আসামির মাথায় আইএস টুপি, দায়ীদের শাস্তির আশ্বাস

হোলি আর্টিজান জঙ্গি হামলা মামলার আসামি রাকিবুল হাসান রিগান তথাকথিত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর টুপি পরে আদালতে হাজির হলেন কীভাবে তা জানার চেষ্টা চলছে৷ রায়ে রিগানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে৷

রিগান এ টুপি  কোথায় পেলেন তা দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি৷ রায়ের পর আদালত থেকে বের করে নেয়ার সময় রিগান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘টুপি আমি কারাগার থেকে নিয়ে এসেছি৷’’

ঘটনা তদন্তে কারা অধিদপ্তর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷ আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা ডয়চে ভেলেকে জানান, সারা দেশের কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷

আদালতে উপস্থিত সাংবাকিদের কয়েকজন জানান, রায়ের পর প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে ভ্যানে বসে আরো একজনকে আইএস-এর টুপি পরতে দেখা যায়৷

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আমানু রহমান বলেছেন, ‘‘আসামিদের সকাল ১০টার পরপরই কোর্ট হাজতে আনা হয়৷ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তোলা হয় পৌনে ১২ টার দিকে৷ রায় পড়া শুরু হয় ১২টার দিকে৷ যখন আদালতে আনা হয়, তখন রিগানের মাথায় আমরা একটা কালো টুপি দেখেছি৷ কিন্তু রায় ঘোষণার পর তার মাথায় আমরা আইএস-এর টুপি দেখি৷ রায় ঘোষণার পরও সে আদালত থেকে ওই টুপি পরেই বের হয়৷’’

আরেক সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদও জানান, ‘‘রায় ঘোষণার পরপরই আমরা তার মাথায় আইএস-এর টুপি দেখতে পাই৷ তার আগে মাথায় একটি কালো টুপি দেখেছি৷’’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমি বিস্মিত হয়েছি৷ এটা কীভাবে সম্ভব হলো? আমি  আদালতে সামনের দিকে থাকায় রায়ের সময় আসামির মাথায় ওই টুপি লক্ষ্য করিনি৷ তবে বের হওয়ার সময় আমি দেখেছি৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এটা একটা বড় ধরনের গাফিলতি৷ এটা নিরাপত্তারও ত্রুটি৷ এর দায় কারা কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের৷ আমি বিষয়টি তন্তের জন্য বলেছি৷’’

কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কারাগার পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব৷ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দায়িত্ব পুলিশের৷ সেখানে কী ঘটেছে সেটা আমাদের জানার কথা নয়৷ আর সে যেহেতু আদালতের রায়ের আগে দন্ডপ্রাপ্ত ছিল না তাই সে কারাবিধি অনুযায়ী যে-কেনো পোশাক পরতে পারে৷’’

অডিও শুনুন 00:41

এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি সে আইএস-এর টুপি পরে কীভাবে আদালতে গেল: পুলিশের ডেপুটি কমিশনার

আর আইজি (প্রিজন) জানান, ‘‘অ্যাডিশনাল আইজি (প্রিজন)-এর নেতৃত্বে যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি তারা পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন৷ কারাগারের কারুর কোনো গাফিলতি প্রমাণ হলে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ এর সঙ্গে আরো অনেক চ্যানেল আছে৷’’

রিগান বলেছে যে, সে কারাগার থেকে টুপি নিয়ে এসেছে৷ এই প্রসঙ্গে আইজি (প্রিজন) বলেন, ‘‘জঙ্গিদের কথা বিশ্বাস করবেন না৷ তারা মানুষ হত্যা করে৷ তদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন৷’’

এদিকে আদালত এলাকায় আসামিদের দায়িত্বে থাকে প্রসিকিউশন পুলিশ৷ প্রসিকিউশন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জাফর হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি সে আইএস-এর টুপি পরে কীভাবে আদালতে গেল৷ এবং টুপিটি কীভাবে আদালতে নিয়ে গেল৷ আমরা সবাই মিলে দেখছি৷ আলাদাভাবে কিছু দেখার নেই৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে একজনই আইএস-এর টুপি পরেছে৷’’

অডিও শুনুন 01:38

সারা দেশের কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: আইজি (প্রিজন)

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঘটনা তদন্তের কথা বলেছেন৷

প্রসঙ্গত,  মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএস-এর টুপি পরে আদালতে যাওয়া রিগান হোলি আর্টিজান হামলায় সরাসরি অংশ নেয়াদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে৷ ২০১৫ সালে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে৷ তার বাড়ি বগুড়ার জামিলনগর এলাকায়, বাবা মৃত রেজাউল করিম৷

২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় পালাতে গেলে রিগানকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

যা ঘটেছিল:

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন