আদালতের রায় বনাম ধর্মবিশ্বাস | বিশ্ব | DW | 23.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আদালতের রায় বনাম ধর্মবিশ্বাস

কেরালার শবরীমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় একদিকে, অন্যদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষ তথা ভক্তদের ধর্মবিশ্বাস৷ এই দুইয়ের সংঘাত ক্রমশই তীব্রতর হয়ে উঠছে৷

আদালতের রায়ের পরও নারীদের মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ তাঁদের পথ অবরোধ করে দাঁড়ায় ভক্তরা৷ পুলিশ মোতায়েন করেও কোনো ফল হয়নি৷ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৩ই নভেম্বর৷

টক্কর লেগেছে আদালতের রায়ের সঙ্গে ধর্মবিশ্বাসের৷ এর সঙ্গে রাজনীতি বিষয়টিকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা৷ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে আর্জি জানিয়ে ডজন খানেক আবেদনপত্র জমা পড়েছে৷ শীর্ষ আদালত শুনানির দিন ধার্য করেছেন ১৩ই নভেম্বর৷

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এক বেঞ্চ রায় দেন, কেরালার শবরীমালার পর্বত চুড়োয় আয়েপ্পা মন্দিরে সব বয়সের সব নারীর প্রবেশাধিকার আছে৷ এটা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার৷ সেখানে লিঙ্গ বৈষম্যের জায়গা নেই৷ কিন্তু প্রচলিত প্রথা এবং ধর্মবিশ্বাস হলো ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি ঋতুমতী নারীদের মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ৷ কারণ, আয়েপ্পা দেবতা চিরকুমার৷ সেখানে ঋতুমতী নারীরা প্রবেশ করলে আয়েপ্পার কৌমার্য ভঙ্গ হবে৷

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলি পড়েছে বিপাকে৷ শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর৷ শ্যাম রাখি, না কূল ? সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর বিজেপি এবং কংগ্রেস আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল৷ বলেছিল, প্রগতিশীল এই রায় পুরুষ ও নারীদের সমানাধিকার নিশ্চিত করেছে৷ পরে ভক্ত জনার্দনের ধর্মীয় ভাবাবেগ দেখে অবস্থান পালটে এখন ভক্তদেরই সমর্থন করছে৷ দেখেছে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পুরুষ ভক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে হাজার হাজার নারীও৷

অডিও শুনুন 01:17

‘রাজনৈতিক নেতারা যদি সব দায় সুপ্রিম কোর্টের উপর চাপিয়ে দেন, সেটাও দুর্ভাগ্যজনক’

কেরালার শাসক দল সিপিআই-এম৷ শবরীমালা বিতর্কে উভয় সংকটে পড়েছে বাম সরকারও৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ম বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টেই সরকার তাদের বক্তব্য জানাবেন৷ তবে গেরুয়া শিবির মন্দিরের বৈশিষ্ট্য ক্ষুন্ন করতে চাইছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের রায়ের পরও মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে রাজ্যের বাম সরকার ব্যর্থ কেন? বাম নেতা সীতারাম ইয়েচুরির আশংকা, এটা ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় গেরুয়া শিবিরের বাবরি মসজিদ ভাঙার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা নয় তো? বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার তাদের পরিচিত পথেই বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়েছে৷ এটা বোধগম্য৷ কিন্তু কংগ্রেস তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান ছেড়ে বিজেপির পথেই হাঁটছে কেন? সামনে নির্বাচন, তাই? আসলে ভোটব্যাঙ্ক বড় বালাই৷ তাই কংগ্রেস বিশেষ অর্ডিন্যান্স জারির দাবি করেছে৷ এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী অধ্যাপিকা শাশ্বতী ঘোষের অভিমত জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এক কথায় বলার বিষয় এটা নয়৷ সুপ্রিম কোর্টের ভাবনাকে সম্মান করি৷ কিন্তু এখানে প্রগতিশীলতার ধ্বজা ওড়ানোর জন্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র মাত্র দশ দিনের মধ্যে যেভাবে রায় দিয়েছেন, সেটা কি প্রশংসার ব্যাপার? আমরা তো আদালতের রায়ের ব্যাপারে কিছু বলতে পারি না৷ বললে আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হবে৷ সাবেক প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ব্যক্তিগতভাবে এর জবাব দিতে পারেন৷ তিনি প্রগতিশীলতার জন্য এটা করে গেছেন৷ কারণ, তাঁকে তো এটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে না৷ ঠিক কথা, শীর্ষ আদালত সব সময়ে সমাজ থেকে এগিয়ে থেকে রায় দেন৷ কিন্ত ভাবতে হবে সেটা কতটা প্রয়োগসাধ্য৷ পাশাপাশি এটাও সত্যি, রাজনৈতিক নেতারা যদি সব দায় সুপ্রিম কোর্টের উপর চাপিয়ে দেন, সেটাও দুর্ভাগ্যজনক৷ এখানে রাজনৈতিক সংগঠনগুলি সব দায়-দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের উপর চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছে, সেটা আপত্তিকর৷'' সুপ্রিম কোর্টে রায় কি অমান্য করা যায় ? উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করেছে সর্বোচ্চ আদালত৷ তাই বলে কি তিন তালাক প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে?''

 

শীর্ষ আদালতের রায়ের পর নারীরা ইতিহাস গড়ার জন্য উন্মুখ ছিলেন৷ গত ১৭ই অক্টোবর মন্দির খোলার পর দশ বারো জন নারী দীর্ঘ কঠিন পাহাড়ি পথ হেঁটে মন্দির অবধি পৌঁছেলেও ভক্তরা তাঁদের পথ অবরোধ করে দাঁড়ায়৷ তাঁদের বাধা দেয়৷ হুমকি দেয়, ভয় দেখায় পুলিশের চোখের সামনে৷ মন্দিরের দরজার জনা কুড়ি পুরোহিতধর্ণা দেয়৷ পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকে৷ উলটে নারীদের ফিরে যেতে বলেন দৈহিক হামলার আশংকায়৷ শুধু তাই নয়, মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে যে পরিস্থিতি, সেটা কভার করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন কয়েকজন নারী সাংবাদিক৷ তাঁর মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক টাইমসের দিল্লি সংবাদদাতা এবং হায়দ্রাবাদের একজন রিপোর্টার৷ তাঁদেরও মন্দিরের প্রবেশপথে বাধা দেওয়া হয়৷ ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়৷ মানবাধিকার কর্মী রেহানা ফাতিমা শবরীমালা মন্দিরের দোরগোড়া পুর্যন্ত পৌঁছে গেলেও সেখান থেকে তাঁকে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়৷

এদিকে মুসলিম নারী হয়েও হিন্দু মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার জন্য ফাতিমাকে কেরালা মুসলিম জামাত বোর্ড মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে৷ কোচিতে তাঁর বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালায় কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়