আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ছট পূজা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ছট পূজা

পরিবেশ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে রবীন্দ্র সরোবরে পালিত হল ছট পুজোর আচার৷ সরোবরের গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকল পুণ্যার্থীদের দল৷ রাজনৈতিক কারণেই প্রশাসন পুণ্যার্থীদের আটকায়নি৷ এমনই অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের৷

প্রতিমা নিরঞ্জন, ছট পুজো ইত্যাদি জলাশয়কেন্দ্রিক আচার-অনুষ্ঠানের ফলে যে দূষণ ছড়ায়, তা নিয়ে বহুদিনই সরব পরিবেশকর্মীরা৷ সেই প্রতিবাদকে মান্যতা দিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উপলক্ষে জলদূষণ রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালত৷ দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে৷

হিন্দিভাষীদের উৎসব ছট উপলক্ষেও রবীন্দ্র সরোবরের সীমানায় বিশেষ সতর্কতা টাঙানো হয়েছিল৷ পুলিশ মোতায়েন থাকারও কথা ছিল৷ কিন্তু ছট পুজোর দিন পরিবেশ আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিবারের মতো সাড়ম্বরে উৎসব পালিত হল৷ জলে নেমে এবং জলাশয়ের পাড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের পুজো-অর্চনা চলল দিনভর৷

পুলিশের সামনেই সরোবরের সাতটি গেটের তালা ভাঙা হল৷ ১৮টি গেটে কোনো পুলিশের দেখা মেলেনি৷ এমনকি ছটপুজোর জন্য রবীন্দ্র সরোবরের বিকল্প জলাশয়ের ব্যবস্থা করতে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)-এর তরফে ৩৯ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে বলে আদালতে হলফনামাও দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু এত টাকা খরচ করেও ‘দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস' বলে পরিচিত  রবীন্দ্র সরোবর দূষণের কবলে পড়ে৷

অডিও শুনুন 02:51

‘ধর্মীয় ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে কতদিন চলবে’

চোখের সামনে কার্যত বিনা বাধায় সরোবরকে দূ্যিত হতে দেখে ক্ষিপ্ত পরিবেশ কর্মীরা৷ তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে নিজেদের অকর্মণ্যতা ঢাকতে চাইছে প্রশাসন৷ পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনকারী নাগরিকমঞ্চের নেতা নব দত্তের বক্তব্য, ‘‘ধর্মীয় ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে কতদিন চলবে! সেই ২০১৫ সাল থেকে আলোচনা চলছে৷ কেএমডিএ দূষণ রোখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ কিন্তু আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি৷ জলদূষণ একদিন করলেও তার খেসারত অনেকদিন ধরে দিতে হবে৷ দক্ষিণ কলকাতার একমাত্র মুক্ত এলাকা এই সরোবর৷ তাকে রক্ষা করতে আন্তরিক নয় প্রশাসন৷”

অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন গঙ্গা-যমুনার মতো রবীন্দ্র সরোবর পুণ্যতোয়া নয়৷ এর সঙ্গে ধর্ম বা সংস্কৃতির যোগ থাকার কথা নয়৷ এই সরোবরেই পুজো করতে হবে, এমন দাবি অসঙ্গত৷ দিল্লিতে জলদূষণ রুখতে ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ যমুনার জলে ৫৯টি কৃত্রিম পুকুর তৈরি হয়েছে৷ পুজো ও বিসর্জনের জন্য সেই জলাশয় ব্যবহার করা হয়৷ কলকাতায় ভাগীরথী সংলগ্ন এলাকায় এমন জলাশয় গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করেন নব দত্ত৷ 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছটপুজোর আগেই বলেছিলেন, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে কেউ ঘাটে চলে গেলে তিনি পুলিশকে লাঠি গুলি চালাতে বলবেন না৷ তাই নব দত্তের মতো অনেকের অভিযোগ, প্রশাসনের এই বার্তাই উৎসাহিত করেছে পুণ্যার্থীদের৷ শুধু রবীন্দ্র সরোবরেই যেখানে ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, সেখানে অন্যান্য জলাশয়গুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে৷

অডিও শুনুন 03:00

‘একমাত্র হাজতবাস করলে ওদের শিক্ষা হবে’

অতীতে বায়ুদূষণ রোধে ব্যর্থ প্রশাসন আদালতের রায়ে জরিমানার মুখে পড়েছিল৷ এবারেও যে বড় জরিমানার মুখে পড়বে রাজ্য, তাতে সন্দেহ নেই৷ তবে আইনজীবী ও বামনেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "সরকারের প্রশ্রয়েই সরোবরে এই কাণ্ড ঘটেছে৷ জরিমানা কোনো সমাধান নয়৷ বরং আদালত অবমাননার দায়ে প্রশাসনের কর্তাদের শাস্তি হওয়া উচিত৷ আদালতের উচিত রাজ্যের মুখ্যসচিব, কেএমডিএর প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক ও চেয়ারম্যানকে জেলে পাঠানো৷ একমাত্র হাজতবাস করলে ওদের শিক্ষা হবে৷”

হিন্দিভাষী মানুষদের ধর্মপালন নিয়ে প্রথমদিকে সোচ্চার হলেও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পরে ক্ষমা চেয়েছেন৷ ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেছেন, "শত চেষ্টা করেও রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর আয়োজন থেকে মানুষকে বিরত করতে আমরা ব্যর্থ৷ সরোবরে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল ও আলাদা জলাশয়ের ব্যবস্থাও হয়েছিল৷ তবু ধর্মপ্রাণ মানুষ রবীন্দ্র সরোবরেই ছটপুজো করেছে৷ এ জন্য আমরা দুঃখিত৷”

এই প্রসঙ্গে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, "প্রশাসন চূড়ান্ত অপরাধ করেছে৷ পুজোর নামে রাস্তা বন্ধ, দূষণ আইন করে বন্ধ করা উচিত৷ কিন্তু আইন করলেও প্রশাসনকেই তা বলবৎ করতে হবে৷ এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারই লোকজন দিয়ে সরোবরে ছটপুজো করিয়েছে৷ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করে, তাদের কাছে বিজ্ঞান ও পরিবেশের কোনো মূল্য নেই৷”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন