আত্মহত্যা করেছেন বাগদাদি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আইএস

আত্মহত্যা করেছেন বাগদাদি

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক বিশেষ অভিযান চলাকালে আত্মহত্যা করেছেন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি৷ হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷

শনিবার সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ এতে মারা গেছেন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি৷ 
এর আগে রোববার সকালে এই অভিযানের কথা জানা গেলেও তা সফল কিংবা বাগদাদির মৃত্যু হয়েছে কীনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি কেউ৷ পরে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাগদাদির মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ডনাল্ড ট্রাম্প৷ 
ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘‘অভিযানের সময় বাগদাদি আত্মহত্যা করেছেন৷ ডিএনএ পরীক্ষায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে৷’’
ট্রাম্প বলেন, ‘‘সে (বাগদাদি) ছিল অসুস্থ আর দুষ্ট চরিত্রের এক ব্যক্তি এবং এখন সে মৃত৷’’

ভীত হয়ে পড়েন বাগদাদি
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সৈন্যরা ধাওয়া করলে একটি টানেলের শেষ প্রান্তে গিয়ে আটকা পড়েন বাগদাদি৷ এক পর্যায়ে তার শরীরে বাধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান৷ এতে সাথে থাকা বাগদাদির তিন সন্তানেরও মৃত্যু ঘটে৷ ‘‘বিস্ফোরণে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে৷ কিন্তু পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ইতিবাচক ফলাফল এসেছে৷ এটা সে-ই (বাগদাদি),’’ বলেন ট্রাম্প৷ 
বাগদাদির শেষ সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘এসময় সে কাঁদছিল আর চিৎকার করছিল৷ যেই খুনী অন্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে, তার নিজের শেষ সময়টি কেটেছে চরম ভীতি আর আতঙ্কের মধ্যে৷’’ 
বাগদাদিকে কাপুরুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷
এই হামলায় কোন মার্কিন সৈন্য হতাহতের ঘটনা ঘটেনি৷ তবে অভিযানে বাগদাদির সঙ্গীদের একটি বড় অংশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প৷  

ডিএনএ শনাক্ত 
প্রসঙ্গত, এর আগেও কয়েকবার বাগদাদির মৃত্যুর গুজব শোনা গিয়েছিল৷ গত জুনে রাশিয়া দাবি করেছিল, তাদের অভিযানে বাগদাদি নিহত হয়েছেন৷ কিন্তু এর চার মাসের মাথায় তার অডিও প্রকাশ পায়৷ 
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শনিবারের অভিযানে মৃত্যুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই মার্কিন বিশেষ বাহিনী বাগদাদির ডিএনএ পরীক্ষা করে তার পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে৷ 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাগদাদিকে অনুসরণ করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী৷’’ তার মৃত্যুর ফলে বিশ্ব এখন নিরাপদ বলে অভিহিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট৷ 

প্রকাশ করা হবে ভিডিও
শনিবার রাতের এই অভিযানটি হোয়াইট হাউসে বসে সরাসরি দেখেছেন ট্রাম্প৷ তিনি বলেন, ‘‘এটি ছিল চলচ্চিত্র দেখার মতোই ঘটনা৷’’ বাগদাদির অনুসারীদের তার পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য শেষ মুহূর্তের ভিডিওটি প্রকাশ করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি৷

যেভাবে উত্থান
আবু বকর আল বাগদাদিকে সবশেষ ২০১৪ সালে প্রকাশ্য দেখা যায়৷ ইরাকের মসুলের গ্র্যান্ড আল নুরি মসজিদে দেয়া বক্তৃতায় তিনি সিরিয়া এবং ইরাকের এক বড় অংশে তথাকথিত ইসলামিক খেলাফতের ঘোষণা দেন৷ যার নাম দেয়া হয় ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দি লিভ্যান্ট’৷ নিজেকে তিনি এর খলিফা দাবি করেন৷ তার মতাদর্শে গড়ে ওঠে আইএসআইএস৷ 

২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধা জঙ্গি এই গোষ্ঠীর সাথে যোগ দেয়৷ সিরিয়া, ইরাকের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছিল তারা৷ যার শেষ ঘাঁটিটিও হারিয়েছে তারা চলতি বছরে৷ বন্দী হয়েছেন অনেক আইএস যোদ্ধাও৷ 

বাগদাদির জন্ম আনুমানিক ১৯৭১ সালে৷ দৃষ্টিশক্তি ভাল না থাকায় তিনি ইরাকের সামরিক বাহিনীতে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন৷ এরপর গড়ে তোলেন আল কায়দার ইরাকি শাখা৷ ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকের হামলার পর অ্যামেরিকান সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন বাগদাদি৷ এক বছর আটক রাখারা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়৷ আইএস এর জঙ্গী তৎপরতা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য আড়াই কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে৷ 

এফএস/এআই (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন