আজারবাইজানকে হুমকি ইরানের | বিশ্ব | DW | 07.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

আজারবাইজানকে হুমকি ইরানের

ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আজারবাইজান ইরানের ক্ষতি করতে চাইছে। এর ফল ভালো হবে না। মস্কোকে জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্প্রতি ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। আজারবাইজানের অভিযোগ, সীমান্তের কাছে ইরানের সেনা কুচকাওয়াজ করেছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, তুরস্কের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আজারবাইজানও ইরান সীমান্তে সেনা মহড়া চালিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইরানের অভিযোগ, আজারবাইজান ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন আঁতাত তৈরি করেছে। ইরান সীমান্তে তারা উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান প্রয়োজনে এর জবাব দেবে।

বুধবার মস্কোয় গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরআবদোল্লাহিয়ান। মস্কোয় তিনি বৈঠক করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারজি লাভরভের সঙ্গে। সেখানে একাধিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়। আজারবাইজানের পাশাপাশি পরমাণু চুক্তি নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফের পরমাণু চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। দ্রুত এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে তারা।

আজারবাইজান নিয়ে এদিনের বৈঠকে সরব ছিলেন আমিরআবদোল্লাহিয়ান। তার অভিযোগ, ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলছে বলে ইরানের গোয়েন্দাদের কাছে খবর আছে। সেখানে ইহুদিরাও আছে বলে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আছে। এর থেকেই স্পষ্ট আজারবাইজান ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানকে অপদস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের বক্তব্য, ককেশাস অঞ্চলে কেউ যদি মানচিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তাহলে তার ফল ভালো হবে না।

ইরান সীমান্তে বহু আজারি জনজাতির মানুষ বসবাস করেন। তারা নিজেদের আজারবাইজানের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আজারবাইজানের সংঘাত আছে। সম্প্রতি সংঘাত আরো বেড়েছে কারণ, ইরানের চরম শত্রুরা আজারবাইজানের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সম্প্রক। নাগর্নো-কারাবাখের যুদ্ধে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ড্রোন ব্যবহার করে তারা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এবং তাতে সাফল্যও মিলেছে। আফগানিস্তান যুদ্দের সময় থেকে অ্যামেরিকা এবং ইসরায়েল আজারবাইজানকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, তুরস্কের সঙ্গেও আজারবাইজানের সখ্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বক্তব্য, আজারবাইজান তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।

মস্কোকে ইরান জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি ইরান মেনে নেবে না। প্রয়োজনে চরম জবাব দিতেও প্রস্তুত তারা। আর আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের কুচকাওয়াজের যে অভিযোগ তুলেছে, তার জবাবে ইরান জানিয়েছে, দেশের ভিতরে তাদের সেনা কুচকাওয়াজ করেছে। এটা সম্পূর্ণই অভ্যন্তরীণ বিষয়।

পরমাণু চুক্তি

এদিনের বৈঠকে পরমাণু চুক্তি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইরান। এতদিন তারা বলছিল, কোনোভাবেই পরমাণু চুক্তিতে তারা ফিরবে না। দেশের ভিতর ইউরেনিয়ামের মজুতও তারা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এদিন তারা জানিয়েছে, ফের পরমাণু চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। তবে অ্যামেরিকাকে অন্তত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, এমন শর্ত তারা আরোপ করতে পারে। অতি দ্রুত নিজেদের সিদ্ধান্ত তারা জানাবে বলে এদিন জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এএফপি, ডিপিএ)

সংশ্লিষ্ট বিষয়