আঙ্কর ওয়াট মন্দিরে পর্নোগ্রাফিক পার্টি? | বিশ্ব | DW | 04.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কম্বোডিয়া

আঙ্কর ওয়াট মন্দিরে পর্নোগ্রাফিক পার্টি?

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সিয়েম রিপ থেকে পুলিশ ১০জন পর্যটককে গ্রেফতার করে ‘অশ্লীল' পার্টির জন্য৷ অথচ সমীক্ষা বলছে, পুরো দেশটাই নারী এবং শিশু পাচারে জর্জরিত৷

উইনস্টন চার্চিল একদা বলেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যে হলো সংখ্যাতত্ত্ব৷ তবু সংখ্যাতত্ত্বের ওপর নির্ভর করতেই হয়৷ বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি নারী এবং শিশু পাচারে একেবারে প্রথম সারিতে৷ তারা পাল্লা দিচ্ছে আফ্রিকার কিছু দেশের সঙ্গে৷ আরো দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হলো, কম্বোডিয়া তার মধ্যে অন্যতম৷ সেই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই সেক্স পর্যটন এখানে গুরুত্ব পেতে শুরু করে৷ বর্তমানে যা বিপুল আকার ধারণ করেছে৷ দুঃখজনক সত্য হলো, ইউনেস্কোর তথ্য অনুসারে, কম্বোডিয়ার মোট চালান হওয়া মানুষের ১৫ শতাংশই শিশু৷

বস্তুত, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের অন্যতম বর্ডার পয়পে এশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর সীমান্ত নামে পরিচিত৷ মানুষ পাচারের অন্যতম ট্র্যানজিট পয়েন্ট৷ বস্তুত, শিশু এবং মহিলা পাচারের কারণে কুখ্যাত এই বর্ডার৷ অর্থাৎ, কম্বোডিয়া সাদা বাংলায় ‘ধোয়া তুলসি পাতা' নয়৷ পাচার, যৌন কেলেঙ্কারি, নাবালক সেক্স ব়্যাকেট সবই রমরম করে চলছে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিতে৷ শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের কোনো কোনো এইড গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী কম্বোডিয়ায় এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সেখানকার রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সৈন্যবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার এবং পুলিশপ্রশাসন৷ সমাজের গভীরে রয়েছে সমস্যা৷

এ হেন কম্বোডিয়া যখন ‘অশালীন' পার্টি করার জন্য পর্যটকদের গ্রেফতার করে, তখন তা বিশ্বের কাছে হাসির কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ অভিযোগ, সিয়েম রিপে ৯০ জন বিদেশিকে আটক করেছিল পুলিশ৷ তাদের মধ্যে থেকে ১০জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ যার মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ, নরওয়েজিয়ান, মার্কিন এবং নেদারল্যান্ডের পর্যটক৷ পুলিশের অভিযোগ, ওই পর্যটকেরা নাকি মাঝ রাতে সিয়েম রিপের একটি ভিলায় পার্টি করছিলেন৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের ‘পর্নোগ্রাফিক' অবস্থায় পাওয়া যায়৷ সে কারণেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়৷

অভিযোগ শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পর্নোগ্রাফিক' অবস্থা বলতে খামের পুলিশ ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছে? তাঁদের যে ছবি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে সকলের শরীরেই পোশাক দেখতে পাওয়া গেছে৷ বস্তুত, কম্বোডিয়ার পুলিশ তাদের ওয়েবসাইটে কিছু ছবি আপলোড করেছে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে৷ সেখানে কোথাও নগ্ন অবস্থায় পার্টি করতে কাউকে দেখা যায়নি৷ একজনের গায়ে আরেকজনকে পড়ে যেতে দেখা গেছে৷ কিন্তু তার সঙ্গে পর্নোগ্রাফির সম্পর্ক কী? আন্তর্জাতিক ওয়েব বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্নোগ্রাফির কিছু নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে৷ পুলিশের অভিযোগের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই৷

পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আঙ্কর ওয়াট (বানানভেদে আঙ্কর ভাট) মন্দিরের সামনেই৷ অশ্লীল পার্টি করে ওই পর্যটকেরা মন্দির এবং খামের সংস্কৃতির অবমাননা করেছেন৷

ধরে নেওয়া যাক, অভিযোগ সত্য৷ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য কোনো দেশ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতেই পারে৷ বহু দেশে কোনো কোনো ধর্মস্থানে ঢোকার নির্দিষ্ট পোশাক আছে৷ যেমন কোনো কোনো ক্লাবে ঢুকতে গেলেও পোশাকবিধি মেনে চলতে হয়৷ এর পক্ষে-বিপক্ষে বহু যুক্তি আছে৷ কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে তা বলবৎ করতেই পারে৷ অভিযোগ, আঙ্কর ওয়াটের অনতিদূরে পাব স্ট্রিট৷ রাতভর সেখানে পার্টি চলে৷ পার্টির আড়ালে বহু বেআইনি কাজও হয়৷ অর্থাৎ সরকার মন্দিরের অদূরে সেই অর্থে পশ্চিমি অপ-সংস্কৃতির ব্যবস্থা করেই রেখেছে৷ তাহলে সেখানে কয়েকজন পর্যটককে টার্গেট করা হবে কেন? যে কায়দায় ওই পর্যটকেরা পার্টি করছিলেন, পশ্চিমি দুনিয়ায় তা মোটেই খুব ‘অশ্লীল' নয়৷ সুতরাং, নিজের সংস্কৃতির ধ্বজা উড়িয়ে অন্যের সংস্কৃতিকে অবদমন করা কোনো যুক্তি হতে পারে না৷

কম্বোডিয়ার সংস্কৃতি নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের বক্তব্য, আঙ্কর ওয়াট থেকে প্রতি বছর একটা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আয় করে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা কম্বোডিয়া৷ সে কারণেই পশ্চিমি পর্যটকদের টানতে পাব স্ট্রিট ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ এক কথায় যাকে বলা যায়, বিনোদনের ব্যবস্থা৷ সুতরাং, বিনোদনে অংশ নেওয়া পর্যটকদের হেনস্থা করার কোনো যুক্তি নেই৷

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাড়া পড়ে গিয়েছে৷ ব্রিটেন সহ অন্যান্য দেশের অভিবাসন দফতর গ্রেফতার হওয়া পর্যটকদের বিষয়ে কম্বোডিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে৷ হয়তো কিছু দিনের মধ্যে সমাধানসূত্রেও পৌঁছানো যাবে৷ তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এর ফলে দেশের পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতে পারে৷ তাঁদের আরো প্রশ্ন, পুলিশের পাচারবিরোধী যে বাহিনীর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান করার কথা, তারা হঠাৎ সব ফেলে কয়েকজন বিদেশির পেছনে পড়ল কেন? অর্থলাভের আশায়?

এসজি/ডিজি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন