আগুন না লাগাই তো অস্বাভাবিক! | আলাপ | DW | 10.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

আগুন না লাগাই তো অস্বাভাবিক!

আগুনে প্রাণ যায়৷ প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দেয়৷ তারপর আবার সব আগের মতোই হয়ে যায়৷ এটাই রাজনীতির নিয়ম৷ খেলাও বলা যায়৷

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীবরের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আড্ডা মারার সুযোগ হয়েছিল৷ একথা সেকথায় হঠাৎই আগুনের প্রসঙ্গ উঠে এলো৷ বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডের আগুনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রসঙ্গের জন্ম৷ মন্ত্রী মহোদয় আগুন, থুড়ি দমকলমন্ত্রী নন৷ আগুনে কত মানুষের মৃত্যু হয়, সেই অনুতাপ করতে করতেই আচমকা বলে বসলেন, ‘‘যতই চেষ্টা করুন, আগুন কি আর আটকানো যায়? আগুন হলো স্বয়ং অগ্নিদেব! সভ্যতার সেই শুরু থেকে আগুন ভয় মানুষ৷ পুজোও করে৷’’

বটেই তো! এমন দার্শনিক সমাপতন মনে ধরে রাখতে পারলে তবেই না মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া যায়! পাল্টা বাক্যে মন্ত্রীবাবুকে এই বাক্যটি বলে উঠে পড়া গেল৷ ভেবে নিতে অসুবিধা হলো না, এর পর কলকাতায় কোথাও আগুন লাগলে এমনই ভাবতে ভাবতে তিনি নিশ্চয় সেখানে গিয়ে পৌঁছাবেন এবং মনের কথা পকেটে রেখে প্রতিশ্রুতি দেবেন, ‘‘এমন আগুন আর কখনো লাগবে না৷ প্রশাসন সবরকম ব্যবস্থা নেবে৷ এবং তারপরই বুক ঠুকে কিছু ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে দেবেন৷’’

এ কথা সত্য যে, পুরনো কলকাতার বাজারগুলিকে আধুনিক করে তোলা কঠিন কাজ৷ কয়েকশ বছরের পুরনো বাজার-দোকান-গলি রাতারাতি পাল্টে ফেলা কঠিন৷ সকলেই জানেন, বড়বাজারের বিশাল বিশাল মার্কেটগুলিতে আগুন লাগলে দমকল সেখানে ঢুকতেই পারে না৷ ৪৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলেছে এই বড়বাজারেরই নন্দরাম মার্কেটে৷ কলকাতা সে দৃশ্যও দেখেছে৷ ওই ঘটনার পর তৎকালীন প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা অধম সাংবাদিককে বলেছিলেন, বড়বাজারের গলি বদলানো যাবে না, কিন্তু দমকলের পরিকাঠামো বদল করা সম্ভব৷ গলিতে ঢুকে আগুনের সঙ্গে লড়াই করার যন্ত্র এখন আছে৷

দশক আগের সেই ঘটনার পর দমকলের পরিকাঠামোয় কোনো উন্নতি হয়নি, এমনটা বলা যায় না৷ কিন্তু সরকারের মানসিকতা বদলায়নি, একথা বলাই যায়৷ এবং সেকারণেই বাজারগুলির লোক দেখানো কিছু উন্নতি হয়, কিন্তু কাজের কাজটি হয় না৷ একের পর এক আগুনের পরে সরকার বলেছিল, কলকাতার পুরনো বাজারগুলির সংস্কার হবে৷ হয়েছে৷ নীল-সাদা রং হয়েছে৷ কোথাও কোথাও খোলা তার কেসিং করা হয়েছে৷ কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না৷ যে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলি দেওয়ালে ঝোলানো আছে, সেগুলি কাজ করে কি না, সময়মতো বদলানো হচ্ছে কি না, তা দেখার লোক নেই৷ তথৈবচ অবস্থা আপৎকালীন পালানোর দরজাগুলির৷ দিব্যি সেখানেও বাজার বসে গেছে৷ এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি৷ অগ্নিদেবতার ভরসায় না থেকে মন্ত্রী মহোদয়রা যদি সেই বিষয়গুলি দেখতেন, তাহলে অগ্নিদেব হয়তো বা রুষ্ট হয়ে রোষানলে বিদ্ধ করতে পারতেন না!

স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলে

স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলে

এখানেই শেষ নয়৷ সীতাকুণ্ডের গুদামে আগুন লাগার পর একটি প্রশ্ন উঠেছে৷ সেখানে যে রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল, সে খবর প্রশাসনের কাছে লুকানো হয়েছিল৷ দমকলকর্মীরাও জানতেন না ভিতরে রাসায়নিক৷ এবং সে কারণেই আগুন নেভাতে গিয়ে বেশকয়েকজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ বাংলাদেশের এই তথ্য গঙ্গাপারেও একইরকম৷ দিনের পর দিন ট্যাংরায় ঠিক এই কারণেই তো আগুন লাগতে থাকে৷ বসত বাড়ির ভিতরে রাসায়নিক মজুত করা হয়৷ প্রশাসন জানে না? নিশ্চয় জানে৷ কিন্তু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হয় না৷ রাজনীতির দাদা-কাকা, ঘুষের স্নেহছায়াতলে দিব্যি বেআইনি কাজ আইনসিদ্ধ হয়ে চলেছে৷ সকলের ঘরে তো আর আগুন লাগছে না, যখন লাগছে, প্রশাসন তখন নড়েচড়ে বসছে৷

দায় কেবল প্রশাসন বা সরকারের নয়৷ দায় আমাদের সকলের৷ আমরা ভুলে যাই, সামান্য স্ফুলিঙ্গ প্রাণঘাতক হয়ে উঠতে পারে৷ সেসব উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে ভুরি ভুরি৷ কিন্তু আইন ফাঁকি না দিলে নাকি ব্যবসা হয় না৷ এটাই আমাদের মানসিকতা৷ আর সেই মানসিকতার উপর দাঁড়িয়ে আছে প্রশাসন৷ আগুন ঠেকায়, কার সাধ্যি?

গত মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন