আগুনের সঙ্গে বসবাস | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 13.06.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আগুনের সঙ্গে বসবাস

আফ্রিকার একটি ছোট্ট দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে রয়েছে এক আগ্নেয়গিরি৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার উপরের অ্যাটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী আফ্রিকার দেশ কেপ ভ্যার্দ দ্বীপপুঞ্জের এই জীবন্ত আগ্নেয়গিরিটির নাম পিকো দো ফোগো৷

default

ফোগো দ্বীপ

এই গিরির নাম অনুসারেই ছোট্ট দ্বীপের নাম৷ যে পর্বতের মধ্যে এখনো উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে আগুন, কোন ঘোষণা ছাড়াই ফেটে উঠতে পারে যে কোন সময়৷ সেই আগ্নেয়গিরির পাদদেশেই বাস প্রায় ১২০০ মানুষের৷ গ্রামটির নাম কালদেরাস সমতল৷ এক কথায় জীবনকে হাতের মুঠোয় রেখে বসতি৷ কিন্তু এ জন্য কি সেখানকার মানুষ ভয়ে কিংবা শঙ্কায় রয়েছেন? মোটেই না৷ পর্যটকদের গাইড আলসিন্দো জানালেন সর্বশেষ কবে বিস্ফোরিত হয়েছিল ফোগো, ‘সেই ১৯৫১ সালের কথা৷ যখন এই আগ্নেয়গিরিটি জেগে উঠেছিল, চারদিকে ছড়িয়েছিল লাভা৷ আগুনের পথ সৃষ্টি হয়েছিল, তারপর সেই আগুন লাভা নেমে গিয়েছিল নীচে৷ সমুদ্রে৷'

Koproduktion Kap Verde Fogo

পিকো দো ফোগো পর্বত

ফোগো মানুষকে টানে৷ কাছে নেয়৷ তাই পর্বতচারীদের রোমাঞ্চ ‘চলো উপরে উঠি আরও উপরে... তারপর দেখে আসবো সেই পাহাড়ের জ্বালামুখ৷' তাদেরকে সঙ্গ দেয় আলসিন্দোর মত বেশ কয়েকজন গাইড, পথ প্রদর্শক৷

সেই ছেলেবেলা থেকে ২৯ বছরের এই যুবক দেখে আসছে আগ্নেয়গিরিটিকে৷ বললেন, ‘আমার ভালোবাসার সবটুকু এই আগ্নেয়গিরিটিকে ঘিরে৷ আমি মনে করি না একে আমি ত্যাগ করতে পারবো৷ এ জায়গা থেকে দূরে চলে যেতে পারবো৷ আমি এখানে কাজ করি৷ সপ্তাহান্তের ছুটিতে ঘুরে বেড়াই, বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলি... সবই এই পাহাড়ের বুকে৷ আমি এখানে সুখি, খুব সুখি৷'

Kap Verde

ফোগো’র মানুষদের বহুদূর থেকে পানীয় জল আনতে হয়

এই কথা কেবল আলসিন্দোর নয়, কালদেরাস'এর গ্রামবাসীর৷ আজ এই ছোট্ট দ্বীপটির আগ্নেয়গিরিটি ভাগ্য খুলে দিয়েছে তাদের৷ প্রায় প্রতিদিনই সেখানে আসছেন পর্যটকরা৷ কেবল যে পর্যটনের ব্যবসাই সব, তা নয়৷ গ্রামবাসী পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চাষাবাদ করছেন৷ ফসল ফলাচ্ছেন৷

দ্বীপের মানুষের মাথাপিছু আয় দেশটির গড় মাথাপিছু আয়ের চেয়ে কম৷ রয়েছে পানি এবং বিদ্যুৎ সংকট৷ কিন্তু এরপরেও সুখি তারা৷ সুখ বিষয়টি সত্যিই আপেক্ষিক৷

আর এই দারিদ্র দূর করতে এই তো কয়েকদিন আগে সেখানকার সরকার গ্রহণ করেছে এক প্রকল্প৷ যে প্রকল্পে কৃষিকাজকেই দেয়া হয়েছে প্রাধান্য৷

কথা হলো গ্রামের কৃষক জোসে আন্তোনিও ফার্নান্দেজের সঙ্গে৷ তাঁর স্ত্রী অডিলিয়া প্রতি মাসে কিছু টাকা উপার্জন করে হাতে বানানো জ্যাম জেলি বিক্রি করে৷ এই কয়েক দিন আগে তার এক বন্ধুর কল্যাণে কিছু অর্থের মুখ এই পরিবারটি দেখতে পাচ্ছে৷ দুই বন্ধু মিলে পর্যটকদের জন্য ঘর ভাড়া দিচ্ছে৷

সত্যিই তো তাই৷ ঘর ভাড়া দিয়ে এই কৃষকের আয় হয় বছরে ২৩০০ ইউরোর মতো৷ অন্যদিকে, ২০০৬ সাল থেকে তিনি তাঁর জমিতে উৎপাদিত আঙ্গুর বিক্রি করছেন স্থানীয় সমবায় সমিতির কাছে৷ সমিতি ঐ আঙ্গুর বিক্রি করে ফোগো শহরের বড় এক ওয়াইন উৎপাদকের কাছে৷ এতেও বেশ ক' পয়সা আসছে কালদেরাস'বাসীদের পকেটে৷

এই তো কিছু দিন আগে পাহাড়ি এই গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি স্কুল৷ কিন্তু প্রাথমিক এই বিদ্যালয়ে এখনো শিশুদের যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি৷ সরকার বলছে, শিশুদের স্কুলে পাঠাও, কর শিক্ষিত৷ কিন্তু কেন যে এ ব্যাপারে খুব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন