আওয়ামী লীগ কি দায়িত্ব নিতে পারে না? | আলাপ | DW | 26.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

আওয়ামী লীগ কি দায়িত্ব নিতে পারে না?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার-অপব্যবহার নিয়ে একটা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে৷ পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ক্ষু্ন্ন হচ্ছে৷ মানুষের মন মানসিকতা বা চিন্তাধারাকে কি আইন দিয়ে বন্ধ রাখা যায়?

ইতিহাস আর পৌরাণিকে আমার বড় আগ্রহ৷ প্রিয় বন্ধুর চরিত্রে একটা সময় অর্জুনকে কল্পনা করতাম৷ সময়ের ব্যবধান অতিক্রম করে তুঙ্গাভদ্রা বা ইউফ্রেতিসের তীর ঘেঁষে চলতে গিয়ে কতবার হারিয়েছি৷ কখনো খিলজিদের ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনতে পাই, আলীবর্দীর সিংহাসনের দিকে তাকিয়ে আমার চোখ ভিজে আসে, ক্ষুদিরাম আর সূর্যসেনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আমাকে আন্দোলিত করে৷ জিন্নাহর সমাবেশে ‘না না' বলে চিৎকার আমিও করে উঠি৷ বজ্রকণ্ঠে কবিতা শুনব বলে ৭ মার্চ যাই রেসকোর্সে৷ এতসবে চলতে চলতে একদিন এমন একটা সকাল আসে, যখন দেখি আকাশনীল জুড়ে আর কোন শৃঙ্খল নেই৷ আজ থেকে আমরাই আমাদের ‘শাসন' করব৷


কিন্তু ততদিনে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বিকশিত হতে হতে এই শাসনের মানে বদলে গেছে সেসব ভূমিতে যেখানকার মুনাফালোভীরা এ মাটিতে শাসনের নামে শোষণ করেছে৷ শাসনের নতুন মানে সেখানে সেবা৷ কারণ গণতন্ত্র শিখিয়েছে ‘ক্ষমতা' জনগণের হাতে৷ সেই ক্ষমতাশালী মানুষরা তাদের সব সেবা নিশ্চিত করতে একদল লোক পাঠান তাদের সব সমস্যাগুলো দেখাশুনা করার জন্য৷ তাদের বেতন দেন৷ এরপর কাটল কতগুলো বছর৷ কিন্তু কেন যেন এই গণতন্ত্রের মানে এখানে এখনো ঠিক বদলায় না৷ এখানে নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা এখনো পত্রিকায় লিখি ‘ক্ষমতায়' গেল ওরা৷ তার মানে এখনো আমরা বিশ্বাস করি, যারা সরকারে তারা ক্ষমতাবান, জনগণ নয়৷ এই শিক্ষা যখন শাসকরা জনগণের গলায় তলোয়ার ঠেকিয়ে খাজনা আদায় করত তখনকার৷ তখন ‘প্রভূর দয়ায়' বাঁচত সাধারণ মানুষ৷ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্বকে ক্ষমতা ভাবেন৷

যারা সরকারে থাকেন, বা ‘ক্ষমতার' কাছে থাকেন, তারাও বারবার মনে করিয়ে দেন যে তাদের পেশীতেই জোর বেশি৷ আর তাই তো এমন সব ঔপনিবেশিক আইন আমরা আজও টিকিয়ে রেখেছি, যেগুলোর উদ্দেশ্য মানুষের সেবার চেয়ে দমনটাই প্রাধান্য ছিল বলে প্রতীয়মান হয়৷ শুধু তাই নয়, আমরা সেসবের আদলে নতুন নতুন আইন করতেও পিছপা হইনি৷ সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও এমন অভিযোগ শুরু থেকেই৷ এই আইন নিয়ে সমাজের সব পর্যায় থেকে প্রতিবাদ এসেছে৷ কিন্তু এর ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহারই বেশি হচ্ছে বলে মনে হয়৷ বাকস্বাধীনতা বা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বারবার আঘাত করছে এই আইন৷


ফেসবুকে গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে বড় বিপত্তি বাধানোর ঘটনা এদেশে ঘটেছে, তা সত্য৷ রামুর বৌদ্ধবিহারের ঘটনা বা রসরাজের সঙ্গে যা হয়েছে তেমন ঘটনাগুলো ধিক্কারজনক৷ কিন্তু এসব ঘটনা এমন একটি আইনকে ন্যায্যতা দেয় না, যে আইন মানুষের ভেতর ভীতির সঞ্চার করে৷ আইন মানুষকে নিরাপত্তা দেবার জন্য৷ ভীতি তৈরির জন্য নয়৷ সংবিধানে যেখানে বাকস্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে, সেখানে কেউ কাউকে নিয়ে কী বললেন, সেটা কেন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠবে? মানুষের কথার জন্য কেন শাস্তি দিতে হবে? সাংবাদিকদেরকেন কার্টুন আঁকার জন্য, লেখার জন্য বা ছবি তোলার জন্য শাস্তি পেতে হবে?

HA Asien | Zobaer Ahmed

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে


আর আমি বুঝতে পারি না, কেউ কটুক্তিকরলে কেন তাকে জেলে পুরতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী, অন্য কোন মন্ত্রী বা বিশেষ কাউকে কেউ কটাক্ষ করে কথা বললে তাদের বিশালত্ব কি কমে যাবে? তারা তাদের দীর্ঘ জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন তা ধুলিস্যাত হয়ে যাবে? সদ্য প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে পাঁচ শব্দের একটি স্ট্যাটাস দিয়ে মামলা খাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ঘটনায় তার পুত্রবধু যে কথাটি বলেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ পত্রপত্রিকায় দেখলাম তিনি বলেছেন, বাবা বেঁচে থাকলে ক্ষমা করে দিতেন৷ এটাই তো স্বাভাবিক৷ কেউ একটি দায়িত্বপূর্ণ জায়গায় থেকে তার ‘কাজের সঙ্গে অশোভন' কথা বলবেন কি বলবেন না তা একান্তই তার সিদ্ধান্ত৷ সেজন্য তার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ক্ষতি হলে তারা এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ কিন্তু সে কারণে তাকে জেলে যেতে হবে? এটা তো পৌরাণিক কিংবা ঔপনিবেশিক কাল নয়৷ এটা বর্তমান৷ মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ছোটবেলায় পড়া ছড়াটি মনে পড়ছে৷

‘‘কটুভাষী নাহি হবে৷
মিছা কথা নাহি কবে৷৷
পর ধন নাহি লবে৷
চিরদিন সুখে রবে৷৷''

আমি হলফ করে বলতে পারি, কটুভাষী যারা তাদের কেউ ভালোবাসে না৷ কিন্তু তাদের জেলে পাঠিয়ে একটি ঘৃণার সমাজ তৈরি করছি আমরা৷ বরং এই ঘৃণার উৎপত্তিস্থলে গিয়ে সেখানে পরিশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ এখনকার উন্নত পৃথিবীর সঙ্গে শামিল হতে হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না৷ রাষ্ট্রকে সব মানুষের জন্য শ্রদ্ধাপূর্ণ একটি সমাজ গঠনে মনোযোগী হতে হবে৷ দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কি এই দায়িত্ব নিতে পারে না?

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন