আই ওয়েইওয়েই এখনও নিরুদ্দেশ, বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.04.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আই ওয়েইওয়েই এখনও নিরুদ্দেশ, বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ

চীনের গণতন্ত্রপন্থী, মুক্তমনা শিল্পী আই ওয়েইওয়েই-এর গ্রেপ্তার নিয়ে বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ বাড়ছে৷ আর চীনে পুলিশ হেফাজত থেকে তাঁর নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পশ্চিমা শক্তি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷

default

চীনের বিখ্যাত শিল্পী আই ওয়েইওয়েই

অস্ট্রেলিয়া মঙ্গলবার জানায়, অধুনা চীনের বিখ্যাত শিল্পী আই ওয়েইওয়েই-এর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর মানবাধিকার রক্ষার ইস্যুটি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে, বেইজিং-এ কূটনীতিক পর্যায়ে একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে৷ চীনের চতুর্থ ইন কম্যান্ড জিয়া কুইংলিং-এর অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রাক্কালে অস্ট্রেলিয়া এই মন্তব্য করলো৷ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের প্রথম চীন সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে কুইংলিং-এর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷

শুধু তাই নয়, আই ওয়েইওয়েই-কে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স এবং অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেনও৷

দৃশ্যত, তাইওয়ান-এর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময়, গত রবিবার, বেইজিং বিমানবন্দর থেকে শিল্পী আই ওয়েইওয়েই-কে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তাঁর স্ত্রী এবং আইনজীবি মঙ্গলবার এএফপি’কে বলেন যে, নিরুদ্দেশ এই শিল্পী সম্পর্কে এখনও কোন খবর তাঁরা পাননি৷ আই ওয়েইওয়েই-এর এভাবে অদৃশ্য হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ভেস্টারভেলেও৷ আগামী ২৯শে এপ্রিল রাজধানী বার্লিনে একটি নতুন স্টুডিও খোলার কথা ছিল মুক্তমনা এই শিল্পীর৷

Haus der Kunst in München Flash-Galerie

জার্মানির মিউনিখ শহরে শিল্পী আই ওয়েইওয়েই-এর একটি প্রদর্শনী

প্রসঙ্গত, চীনের শাসকগোষ্ঠী তথা কম্যুনিস্ট পার্টি সম্পর্কে খোলাখুলি সমালোচনা করার জন্য অতীতেও বিপদ পড়তে হয় আই ওয়েইওয়েই-কে৷

এদিকে, বেইজিং-এর পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫৩ বছর বয়স্ক এই শিল্পীর নিরুদ্দেশ হবার বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে৷ গণতন্ত্রপন্থী সমাজ সমালোচক, মুক্তমনা এই মানুষটি ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতায় এক সময়ে চীনা ভাষার বিচারক ছিলেন৷

আরব বিশ্বজুড়ে যখন প্রচণ্ড বিক্ষোভ প্রতিবাদের মুখে ক্ষমতাবদল চলছে, তখন প্রতি রবিবার চীন জুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অনুষ্ঠানের জন্য অজ্ঞাতপরিচয়রা জনগনকে অনলাইনে আহ্বান জানাতে শুরু করে৷ আর এইসব ঘটনার পরপরই এই শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ উল্লেখ্য, ঐ আহ্বানের প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শতশত ভিন্নমতাবলম্বী, আইনজীবি এবং মানবাধিকার কর্মী বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত হন৷ তাঁদের মধ্যে বহু মানুষকে গৃহবন্দী করা হয়৷ আর অন্যদের অনেকেই আই ওয়েইওয়েই-এর মতো পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নিরুদ্দেশ হন৷

ওদিকে, আই ওয়েইওয়েই-এর নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত বলেন, ‘‘স্বৈরাচারী নির্দেশের মাধ্যমে চীনে আটক হওয়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে’’৷ ইইউ’র দূত মার্কুস এডেরার তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘যে কোন অবস্থাতে এ ধরণের স্বেচ্ছাচারী আটকাদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা চীন কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি৷’’

অপরদিকে আই ওয়েইওয়েই-এর বন্ধুরা জানান যে, বিখ্যাত এই শিল্পীর নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ ত্বরান্বিত করেছে পুলিশ৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ