আইসিসিতে ২৬ নাগরিক যে অভিমত দিয়েছেন | বিশ্ব | DW | 21.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

আইসিসিতে ২৬ নাগরিক যে অভিমত দিয়েছেন

বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক রোহিঙ্গা বিতাড়নের ব্যাপারে তদন্তে এখতিয়ারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন৷ তাঁরা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়া, নির্যাতন ও পরবর্তী অবস্থার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন৷

এই ২৬ জন নাগরিক মনে করেন, দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার আছে৷ গত ১৮ জুন তাঁরা এই পর্যবেক্ষণ পেশ করেন৷ ২০ জুন এ নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ তবে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি৷ বাংলাদেশও সেখানে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে৷ বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ গোপনীয়৷ তবে এই ২৬ জন নাগরিকের পর্যবেক্ষণ গোপনীয় নয়, উন্মুক্ত৷

বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের (সিপিজে) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মনজুর হাসান ও সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান এই পর্যবেক্ষণ পেশ করেন৷ তাঁরা ৪০ পৃষ্ঠার বিবরণসহ এই পর্যবেক্ষণ জমা দেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে৷

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশা করা হয়েছে, ‘‘এই পর্যবেক্ষণ আমলে নিয়ে আইসিসি-র তদন্তের এখতিয়ারের ব্যাপারে অনুমোদন দেবে৷ রোহিঙ্গাদের  নির্যাতনের মাধ্যমে সেদেশ থেকে বিতাড়নের মাধ্যমে মিয়ানমার তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে৷ বাংলাদেশি আইনেও এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা আছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 02:39
এখন লাইভ
02:39 মিনিট

রোহিঙ্গাদের ওপর যা ঘটেছে তা তদন্ত করার এখতিয়য়ার আইসিসির আছে: আসিফ নজরুল

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর সেখানে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিবরণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণও রয়েছে পর্যবেক্ষণে৷ এছাড়া পর্যবেক্ষণে লিঙ্গ ভিত্তিক অপরাধ, নিপীড়ন ও গণহত্যার কথাও বলা হয়েছে৷ ঐ ঘটনায় বাংলাদেশে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে৷

পর্যবেক্ষণ দানকারী ২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এমিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসেবে একটি অবজারভেশন পাঠিয়েছি৷ সেখানে বলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর যা ঘটেছে তা তদন্ত করার এখতিয়য়ার আইসিসি-র আছে৷ সেটা কীভাবে রয়েছে তা ব্যখ্যা করা হয়েছে৷ ব্যখ্যা করতে গিয়ে মূলত আমরা দু'টি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছি৷ প্রথমটি হলো – যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে যেমন গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, ধর্ষণ বা সেক্সুয়াল অফেন্স, নিপীড়ন এই সব অপরাধই আইসিসি-র বিবেচ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে৷ আইসিসি-র মূল চারটি অপরাধের মধ্যে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ রয়েছে৷ আইসিসি-র এলিমেন্ট অফ অফেন্স-এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে কী কী পড়তে পারে তা বলা হয়েছে৷ এর মধ্যে একদেশ থেকে আরেক দেশে বিতাড়ন, সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা করা, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, সেক্সুয়াল অফেন্স করা, নারীদের জোর করে প্রেগনেন্ট করা, হত্যা করা এই সব অপরাধ এলিমেন্ট অফ অফেন্স-এর মধ্যে পড়ে৷’’

অডিও শুনুন 00:39
এখন লাইভ
00:39 মিনিট

বাংলাদেশ সরকার কিছুটা দ্বিধায় ভুগে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে: ড. মজুমদার

তিনি বলেন, ‘‘দ্বিতীয় যে বিষয়টি রয়েছে তা হলো – মিয়ানমার আইসিসি সংক্রান্ত রোম স্ট্যাটুতে স্বাক্ষর করেনি৷ কিন্তু অবজেকটিভ টেরিটোরিয়াল জুরিকডিকশন নামে একটি প্রিন্সিপাল আছে৷ সেই নীতি অনুযায়ী, এই অপরাধগুলো যেহেতু মিয়ানমার থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ অবধি সংঘটিত হয়েছে৷ আর বাংলাদেশ যেহেতু রোম স্ট্যাটুতে স্বাক্ষর করেছে, সে কারণে আইসিসি-র এই অপরাধের তদন্ত করার এখতিয়ার আছে৷’’

নাগরিকদের মধ্যে আরো আছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অপরাধ হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই মাবতাবিরোধী অপরাধ৷ সেখানে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হয়েছে৷ এর তদন্ত এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন৷ বাংলাদেশ সরকার কিছুটা দ্বিধায় ভুগে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে৷ তবে সেই পর্যবেক্ষণ বা মতামতে কী আছে, আমরা তা জানি না৷ আমরা আশা করি সরকারও তদন্ত এবং বিচার চেয়েছে৷’’

প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশের আরো ৪১ জন নাগরিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইসিসিতে তাঁদের মতামত দিয়েছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন