আইসল্যান্ডে তিমি বাঁচানোর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 20.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

আইসল্যান্ডে তিমি বাঁচানোর উদ্যোগ

চোখের সামনে তিমি দেখার সৌভাগ্য ক'জনের হয়? পরিবেশ দূষণ ও শিকারের কারণে তিমিদের সংখ্যা কমে চলেছে৷ আইসল্যান্ডে তিমি শিকার বন্ধ করতে জোরালো উদ্যোগ চলছে৷ সামান্য হলেও কিছু সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে৷

একেবারে স্বপ্নের পেশা৷ মেগান উইটেকার আইসল্যান্ডের উপকূলে তিমি পর্যবেক্ষণ করেন৷ পর্যটকদের জন্য এটি অন্যতম সেরা আকর্ষণ৷ তবে তার জন্য ধৈর্য্যের প্রয়োজন৷

সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী হিসেবে তিনি দক্ষতার সঙ্গে তিমি চিনতে পারেন৷ একটি মিংক হোয়েল একঝাঁক মাছের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করছে৷ খুব কম সময়ের জন্য তারা পানির উপরে চলে আসে৷ ভাগ্য ভালো থাকলে পর্যটকরা আরও বড় আকারের হাম্পব্যাক তিমিরও সাক্ষাৎ পান৷

যে অঞ্চলে পর্যটকদের নৌকা থেকে তিমির ছবি তোলা হয়, সেখানেই অন্য কিছু মানুষ তিমি শিকার করেন৷ মেগান সেটিকে নৃশংস ব্যবসা বলে মনে করেন৷ মেগান বলেন, ‘‘এই প্রাণীদের ত্বক আমাদেরই মতো, ব্যথা হলে স্নায়ু তা জানান দেয়৷ তিমির শরীরে হার্পুন নিক্ষেপ করা হয়৷ শরীরে ঢুকে সেগুলি বিস্ফোরণ ঘটায়৷ এক ঘণ্টা পর্যন্ত কষ্ট পেয়ে তারপর তিমির মৃত্যু হয়৷ সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক৷’’

আইসল্যান্ডের একমাত্র তিমি ধরার কেন্দ্র রাজধানী রেইকইয়াভিক থেকে অনেক দূরে একটি খাঁড়ির আড়ালে অবস্থিত৷ শিকারিরা একটি ফিন হোয়েল মেরেছে৷ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই প্রাণী লুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে পরিচিত৷ প্রাণী অধিকার কর্মীরা ৪০ টন ওজনের এই তিমির শরীর কাটার প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করেছেন৷ ভিগা টোরডার আইসল্যান্ডের এক অ্যাকটিভিস্ট৷ তিনি তিমি শিকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন৷ ইন্টারনেটে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে আইসল্যান্ডে তিমি শিকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চান তিনি৷ ভিগা বলেন, ‘‘এটা মোটেই আইসল্যান্ডের ঐতিহ্য নয়৷ নরওয়েজিয়ানরা এটা শুরু করেছিল৷ আমাদের ঐতিহ্য ছিল পাতাকপি চাষ, তিমি শিকার নয়৷’’

তিমি ধরার কোম্পানির মালিক ক্রিস্টিয়ান লফটসন এমন সমালোচনাকে অর্থহীন মনে করেন৷ কিশোর বয়সেই তিনি বাবার সঙ্গে তিমির উপর হার্পুন নিক্ষেপ করে তার মাংস খেতেন৷ লফটসন বলেন, ‘‘তিমির মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু৷ এটাই একমাত্র হরমোনবিহীন মাংস, সেই গ্যারান্টি দিতে পারি৷ কিন্তু ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা নিষিদ্ধ৷ সেই মনোভাব আমাদের এখানেও এলে আইসল্যান্ড আর কয়েক বছরের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে না৷ কারণ, এই অ্যাক্টিভিস্টরা মাছ ধরাও বন্ধ করতে চায়, সবকিছুর বিরুদ্ধেই তারা প্রতিবাদ করে৷’’

সবকিছু নয়, লুপ্তপ্রায় ফিন হোয়েল প্রজাতির সুরক্ষার জন্য রেইকইয়াভিকে সংসদ ভবনের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে৷ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী আইসল্যান্ডে আরো বেশি মানুষ তিমি শিকারের বিরোধী হয়ে উঠছেন৷

সরকার চাইলে এই শিকার যে কোনো সময়ে বন্ধ করতে পারে৷ তার বদলে তিমি শিকার কোম্পানিকে বছরে ১৯১টি ফিন হোয়েল মারার সরকারি অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ বিক্ষোভকারীদের অন্যতম ভালগেডুর আর্নাডোটির এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের অর্থমন্ত্রীর চাচা তিমি শিকার কোম্পানির নির্বাহী প্রধান৷ তাতেও যদি দুর্নীতির গন্ধ না পাওয়া যায়, কীসে পাওয়া যাবে? কিন্তু সংসদে অন্য দলও রয়েছে, যারা তিমি শিকারের বিরোধী৷ এই শিকার দ্রুত বন্ধ হবে বলে আশা রাখি৷’’

তিমি শিকার কেন্দ্রে বিশাল ফিন হোয়েলের শরীরের আর কিছুই প্রায় অবশিষ্ট নেই৷ এখনো পর্যন্ত সেই মাংস শুধু জাপানে রপ্তানি করা হয়৷ তিমি শিকারি লফটসন ব্যবসার নতুন এক আইডিয়া খুঁজে পেয়েছেন৷ তিনি শরীরে আয়রনের অভাব মেটাতে ওষুধ তৈরি করতে চান৷ লফটসন বলেন, ‘‘আমরা মাংস শীতল করে শুটকি তৈরির পরিকল্পনা করছি৷ এই প্রক্রিয়ায় যে প্রায় ৩০ শতাংশ মাংস অবশিষ্ট থাকে, সেগুলিকে গুঁড়া করে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কাজে লাগানো হবে৷’’

এমন আইডিয়ার কথা শুনে মেগান অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই প্রাণী এতরকম হুমকির মুখে রয়েছে, যা দূর করতে আমাদের অনেক সময় লাগবে৷ তিমি শিকার অবিলম্বে বন্ধ করা সম্ভব৷ এই শিল্প অত্যন্ত অর্থহীন ও ক্ষতিকর৷’’

কমপক্ষে মিংক হোয়েলের শিকার সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে৷ তিমি শিকার বন্ধ করার ক্ষেত্রে আইসল্যান্ডের পরিবেশ সংরক্ষণকারীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বটে৷

মিশায়েল আল্টেনহেনে/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন