‘আইন প্রয়োগকারীরাও ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করছেন′ | বিশ্ব | DW | 04.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘আইন প্রয়োগকারীরাও ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করছেন'

সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা৷ সেসময় উসকানির অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ কিন্তু শিক্ষার্থীরা আসলে কী বক্তব্য দিয়েছিল, সেগুলো কি উসকানিমূলক ছিল? কেনইবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে?

এসব নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক৷

ডয়চে ভেলে: উসকানিমূলক বক্তব্য আসলে কী?

অধ্যাপক ফাহমিদুল হক: এটা হলো যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের দিক থেকে শোনা যায়৷ যখন কোনো আন্দোলন হয় এবং সেটা বড় আকার ধারণ করে তখন কারো বক্তব্যে আন্দোলনে গতি সঞ্চার হলে তখন ক্ষমতাসীনরা সেই বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে অভিযোগ করেন৷ তখন বলা হয় তার বক্তব্যের কারণে আন্দোলন ভিন্নপথে গেছে এবং যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে৷

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যে বক্তব্য দিয়েছিল তা কি উসকানিমূলক ছিল?

যারা আন্দোলন করে তারা তো তাদের দাবি দাওয়াগুলোই পেশ করে৷ সেগুলোতো আর উসকানিমূলক না৷ তাদের দাবির পক্ষে তারা কথা বলে, এর সবটাইতো আর উসকানিমূলক হতে পারে না৷ আসলে আন্দোলনকারীদের বাইরে ভিন্ন কেউ আন্দোলনকে অন্য দিকে নিতে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো হতে পারে৷ এভাবেই ধরে নেয়া যায়৷ সাধারণ আন্দোলনকারীরা তো তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেই বলেছেন৷ তাদের দিক থেকে তো কোনো সমস্যা নেই৷ এখানে আন্দোলনকারীদের বাইরে কাউকে মিন করা হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 10:52

‘হেলমেট পরা আক্রমণকারীদের গ্রেফতার না করা দুঃখজনক’

উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তো অনেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে?

এখানে আসলে মিন করা হচ্ছে যারা গুজব ছড়িয়েছে৷ যাদের তথ্যের কারণে আন্দোলনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে৷ আন্দোলনের এক পর্যায়ে গুজব ছড়ানো হয় যে, কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে৷ সেই গুজবটাকে এখন উসকানিমূলক বক্তব্য বলা হচ্ছে৷ এই গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে, বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ তবে হেলমেট পরা বা লাঠিসোঁটা হাতে আক্রমণকারীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, সেটাই দুঃখজনক৷

সোশ্যাল মিডিয়ার বক্তব্যকে সরকার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে৷ এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেককেই গ্রেফতার করেছে৷ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?

প্রথমত সোশ্যাল মিডিয়ার বক্তব্য ট্রেস করা সহজ এবং কারো বক্তব্যে যদি সরকার বিরোধিতা লক্ষ্য করা যায় তখন তাকে সাজা দেওয়াও সহজ৷ এখানে একটি আইনি পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে৷ আপনি জানেন যে, আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে অনেক প্রতিবাদও হয়েছে৷ সরকারও স্বীকার করেছে এটা পরিবর্তন করা দরকার৷ এটা যেহেতু কঠিন আইন এবং এর এভিডেন্স সোশ্যাল মিডিয়াতেই আছে, ফলে এই আইনে শাস্তির মাত্রাও বেশি৷ যদি মানহানি হয়, তাহলে অন্য কোনো ফরমে শাস্তির মাত্রা কম৷ এখানে ৫৭ ধারায় এভিডেন্সও হাজির আছে, আবার শাস্তির মাত্রাও কঠিন হচ্ছে৷ বেশিমাত্রায়ও শাস্তি দেয়া যাচ্ছে, যাতে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি হয় এবং আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে যায়৷ আমার মনে হয়, যারা এগুলো নিয়ে বিহাইন্ড দ্যা সিন কাজ করছেন, তাদের মধ্যে এই বিষয়গুলো কাজ করছে৷

আন্দোলনের সময় তো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমন সব তথ্য দিয়েছে যার কোনো কিছুই আসলে সত্য না৷ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা থাকার কথা না?

সোশ্যাল মিডিয়া তো সবার মত প্রকাশের একটা প্লাটফরম৷ সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমরা দেখেছি৷ এই সুবিধা নিয়ে অনেকেই সেখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেন বা ভুয়া তথ্য দেন বা মিথ্যা তথ্য দেন, যেটার ভিত্তিতে সমাজে একটা অস্থিরতার সৃষ্টি হয়৷ এই দায়িত্বশীলতার জায়গাটা অনেক ব্যবহারকারী অবহেলা করেন বা এটার অপব্যবহার করেন৷ তাদের জন্য তো আইনি পদক্ষেপ নেয়াই উচিত৷ এটার জন্য ৫৭ ধারা প্রয়োগের পাশাপাশি অপপ্রয়োগের একটা প্রবণতা লক্ষ্যণীয়৷ এখন দেখবেন বাস্তব জীবনের অনেক মামলাই ৫৭ ধারায় ফেলার একটা প্রবণতা আছে৷

কারো মানহানি হলে বিদ্যমান আইনেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল৷ কিন্তু সেটা না করে সবাই ৫৭ ধারার আশ্রয় নিচ্ছেন৷ কারণ এটাতে তার বেশি সাজা হয়৷ মানে, আসলে এটা প্রয়োগের পাশাপাশি অপপ্রয়োগও দেখা যাচ্ছে৷ এটা শুধু সাধারণ মানুষই করছে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যারা এটা প্রয়োগ করছেন, তারা এটা প্রয়োগের পাশাপাশি অপপ্রয়োগও করছেন৷ সেই জায়গায় আপত্তিটা৷ কেউ যদি গুজব ছাড়ায়, মিথ্যা তথ্য দেয় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে৷ কিন্তু সেই সুযোগে সবকিছু ৫৭ ধারায় ফেলে দেয়া এটা আমরা অপপ্রয়োগ হিসেবেই দেখতে পাই৷

এই ধারায় শিক্ষার্থীদের ধরপাকড়ে কি তাদের মনে একটা ভয়ের জন্ম দিচ্ছে না?

আমার তো মনে হয় ভয়ভীতি তৈরি করার জন্যই এটা করা হচ্ছে৷ যাতে আন্দোলন আর দানা না বাঁধে৷

এতে করে কি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জায়গাটাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না?

হ্যাঁ, মুশকিল তো ওটাই হচ্ছে৷ মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চায়৷ এই প্রথম সবার মত প্রকাশের একটা মাধ্যম পাওয়া গেছে৷ আগে মত প্রকাশের যে মাধ্যম ছিল, সেটাতে সবার প্রবেশের সুযোগ ছিল না৷ যেমন ধরেন প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেকট্রোনিক মিডিয়া, সেখানে তো সবার সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না৷ এখন সবাই সরাসরি নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন, তার মাধ্যম তৈরি হয়েছে৷ এখন সবাই এটাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে৷ এটাতে আটকা পড়েছে৷ শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্বের সব দেশেই দেখা যাচ্ছে, যে এখানে আটকা পড়ে একটা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রেখে যাচ্ছে৷ এই ফুটপ্রিন্টগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ৷ এখন সরকারকে কাউকে মনিটর করার জন্য খুব বড় উদ্যোগ নিতে হচ্ছে না৷ এখানেই তার কার্যক্রম মনিটর করা যাচ্ছে৷ আমাদের সবাইকে মোবাইল ফোনের জন্য বায়োমেট্রিক করতে হয়েছে৷ এর জন্য সবাই যেমন সরকারি সেবা পাচ্ছে, পাশাপাশি সরকারের নজরদারির মধ্যেও পড়ে যাচ্ছে৷ এর ভালো-মন্দ দুটো দিকই রয়েছে৷ একজন নাগরিক তার সব ধরনের সেবা পাওয়ার জন্য তার বেসিক তথ্য যেমন সরকারের কাছে দিয়ে দিয়েছে, সে কারণে সে সরকারের এক ধরনের নজরদারির মধ্যে পড়ে গেছে৷ তার স্বাধীন চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে৷ 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী হবে?শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল বা সংবেদনশীল আচরণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাই৷ আর শিক্ষার্থীদের আমি বলব, বিভিন্ন দাবি দাওয়া বা মত প্রকাশের অধিকার যেমন তার আছে, তেমনি অন্য কারো দ্বারা ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি তাকে দেখতে হবে৷ এই ধরনের অভিযোগ তার ঘাঁড়ে আসতে পারে৷ এ কারণে সতর্কভাবে এবং সৎ থেকে তাদের আন্দোলন করা উচিত৷ আর সরকারকে অনুরোধ করব- কেউ দাবি তুললেই প্রথমেই সেটার বিরোধিতা না করে তাদের দাবি দাওয়া সংবেদনশীলভাবে দেখতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন