আইএস প্রভাব বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, জানাল মোদী সরকার | বিশ্ব | DW | 17.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আইএস প্রভাব বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, জানাল মোদী সরকার

ভারতে জঙ্গি সংগঠন আইএস যে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে, তা স্বীকার করল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

লোকসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিষেণ রেড্ডি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভারতের তিন রাজ্য কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় আইএস সব চেয়ে বেশি সক্রিয়। তা ছাড়া তারা প্রভাব বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তারা মূলত এই কাজ করছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

সূত্র জানাচ্ছে, আইএস তৎপরতা গত এক বছরে অনেক বেশি বেড়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পরই তাঁদের তৎপরতা বাড়ে। দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে আইএসের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

সূত্রের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে আইএসের তৎপরতা বাড়ার একটা কারণও আছে। প্রধান কারণ হলো রাজ্যের দীর্ঘ অন্তর্জাতিক সীমান্ত। মোট তিনটি দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত আছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বা ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যে প্রহরা থাকে সেই ধরনের প্রহরা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকে না। তাই এখানে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সেই তুলনায় কিছুটা সহজ। তাই আইএসের নজর পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়া অস্বাভাবিক নয় বলে সূত্র জানাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আইএস যোগের কয়েকটি অভিযোগ আছে। প্রথমটি হলো সাত বছর আগের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ। যার সঙ্গে মূলত জেএমবি জড়িত ছিল। কিন্তু পরে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ তদন্তে দেখা গেছে, এখানে আইএসেরও যোগ ছিল। সম্প্রতি ধনেখালির প্রজ্ঞা দেবনাথ ওরফে জান্নাতুন তাসনিমকে বাংলদেশে গ্রেফতার করা হয়। জেএমবি-র নারী বাহিনীর এই সদস্যের সঙ্গেও আইএসের যোগ ছিল বলে অভিযোগ। প্রজ্ঞার সঙ্গেও সামাজিক মাধ্যমেই জঙ্গিবাহিনীর যোগাযোগ হয়েছিল। তাছাড়া কৈখালি একজন ইঞ্জিনিয়র এবং মুসা বলে আরেকজনকে ধরা হয়েছে। তাদেপ সঙ্গেও আইএসের যোগ আছে বলে অভিযোগ।

ফলে রাজ্যে আইএসের কার্যকলাপ নেই বা ছিল না, এমন নয়। কিষেণ রেড্ডির দাবি, এই তৎপরতা আরো বেড়েছে। তিনি যে সব রাজ্যের নাম দিয়েছেন তার মধ্যে বিরোধী শাসিত পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান যেমন আছে তেমনই বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ , বিহার ও জম্মু ও কাশ্মীরও আছে। ফলে এটাকে বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে এই কথা বলা যাবে না।

তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ ও রাজ্যসভার চিফ হুইপ সুখেন্দু শেখর রায় ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, আইএস যে কাশ্মীরে জেহাদিদের আবার সংগঠিত করতে চাইবে, দেশের অন্যত্রও কিছু শাখা সংগঠন গড়ে তুলতে চাইবে সেটা তাদের চালু রণনীতির অঙ্গ। অনেক দিন ধরেই তারা এ ভাবে কাজ চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে যে কোনো কারণেই তারা এতদিন সেভাবে মাথা তুলতে পারেনি। খাগড়াগড়ের পর বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগের প্রমাণ মিলেছে। তই এখানে জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো প্রভাব নেই এটা বলা মুশকিল। কেন্দ্রের কাছে অবশ্যই এ নিয়ে খবর থাকতে পারে।

তবে সুখেন্দু শেখর মনে করেন, আইএসের হাত খুব লম্বা। আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব কেন্দ্রের। কারণ রাজ্যের কাছে সেই পরিকাঠামো নেই। মাওবাদীদের রুখতে গেলেও রাজ্যগুলির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দরকার হয়। ফলে রাজ্যের পক্ষে আইএসের মোকাবিলা করা মুশকিল। রাজ্যের সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারকেই এই কাজ করতে হবে। এটাও মনে রাখতে হবে, রাজ্যের এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনের কাছ থেকে সাহায্য চাইলে তারা নিঃসন্দেহে হাত বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত কেন্দ্রের।

প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তাও মনে করেন, আইএস মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব কেন্দ্রের। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, মনে রাখতে হবে, জঙ্গিদের মোকাবিলা করার জন্যই এনআইএ গঠন করা হয়েছিল। তাঁদের হাতে অভূতপূর্ব ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কাজের সুবিধার জন্য। 

সংসদে আইএস নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শরদের মতে, এখনই সক্রিয়তা বাড়াতে হবে এনআইএ-কে। তারা সে কাজ করছেও। তা সত্ত্বেও আইএসের প্রভাব বাড়ানোর বিষয়টি নিঃসন্দেহে চিন্তাজনক।

তবে আরেকটা প্রশ্নও তুলছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। সেটা হলো, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য়ে ভোটের আগে কেন বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আইএস নিয়ে কবর আসে। তারা কিন্তু বিশদে কিছু জানানো হয় না। তাদের সংগঠন কোথায়, কতজন জড়িত সে সব খবরও দেয়া হয় না। 

জিএইচ/এসজি(লোকসভা প্রশ্নোত্তর)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন