আইএস ‘দুঃস্বপ্নের′ তাড়ায় ইয়াজিদি তরুণী | বিশ্ব | DW | 21.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

আইএস ‘দুঃস্বপ্নের' তাড়ায় ইয়াজিদি তরুণী

আইএস-এর হাতে বন্দি হওয়ার পর যার ‘দাসীতে‘ পরিণত হয়েছিলেন, সেই নিপীড়কের হাত থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে জার্মানির আশ্রয় ছেড়ে গেছেন এক ইয়াজিদি তরুণী৷

ইরাকের মসুলে যে আইএস যোদ্ধার বন্দিত্ব থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, সেই নিপীড়ক আবার জার্মানির রাস্তায় এসে পথ আগলে দাঁড়ানোর পর পরিবার নিয়ে আশ্রয়দাতা ইউরোপের এই দেশ ছেড়ে গেছেন এক ইয়াজিদি তরুণী৷

বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গের শ্ভাবিশ গ্মুন্ড শহরে দুই দফায় তার মুখে পড়েন ১৯ বছরের ওই তরুণী৷ প্রথমবার দেখা হওয়ার পরই পুলিশকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি, পরে পরিবারের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত নিজের দেশে ফিরে যান তিনি৷

জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর সহিংসতার শিকার ইয়াজিদি নারীদের সহায়তার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি কর্মসূচির আওতায় ২০১৫ সালে পরিবার নিয়ে জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে আসেন আশওয়াক হাজি হামিদ৷

২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর উত্তর ইরাকে ইয়াজিদিদের ওপর ভয়াবহ নৃশংসতা চালায় আইএস৷ তাদের এই সহিংসতাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ৷ সে সময় অনেক নারী ও শিশুকে ধরে নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷ এই নিপীড়িত নারীদেরই একজন  হামিদ৷

কিন্তু জার্মানিতে এসে যখন তিনি ওই অতীত ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে সময় আবার সেই ‘দুঃস্বপ্ন' এসে তার সামনে দাঁড়ায়৷ এই নিপীড়কের ঘরে ১০ সপ্তাহ বন্দি ছিলেন হামিদ৷

‘‘আমি ইরাক থেকে চলে গিয়েছিলাম যাতে ওই কুৎসিত মুখ আর দেখতে না হয় এবং এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে এমন সব কিছু যাতে ভুলে যেতে পারি৷ কিন্তু জার্মানিতে তাকে দেখে আমি ভয়ানক কষ্ট পেয়েছি৷''

ভিডিও দেখুন 02:28

আইএস-এর দাসত্ব থেকে মুক্ত করার লড়াই

ডয়চে ভেলে, ফ্রান্সের মিডিয়াস ম্যঁদ ও ইটালির আনসা সংস্থা পরিচালিত অভিবাসী বিষয়ক সাইট ইনফোমাইগ্রান্টসকে এভাবে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরেন আশওয়াক হাজি হামিদ৷

এই নারী বলেন, ‘‘২০১৬ সালে প্রথমবার৷ সে আমাকে ধাওয়া করছিল৷ সেই একই ব্যক্তি, তবে দ্বিতীয় দফায়, সে আমার কাছে এলো এবং বলল, সে আমার সম্পর্কে সব কিছু জানে৷'' 

‘তদন্ত চলছে'

হামিদ বলেন, আইএসের বর্বরতার শিকার হওয়ার পর জার্মানিতে নতুন একটি জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি৷ ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন৷ তবে আমাকে বন্দিকারী সেই ব্যক্তি এখন সেখানে অবাধে চলাচল করছে, সে বিষয়টি জানার পর নিরাপদ বোধ করাটা অসম্ভব৷

গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ ও শরণার্থী শিবির পরিচালনাকারীদের জানানোর পর তাকে শুধু জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার জন্য একটি নম্বর দেওয়া হয়েছিল বলে জানান হামিদ৷ তারপরই তিনি জার্মানি ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন৷

‘‘তাকে না দেখলে আমি জার্মানিতে থেকে যেতাম৷ আমি লেখাপড়া শেষ করে একটি ডিগ্রি নিতে চেয়েছিলাম, যা আমকে একটি সুস্থ জীবন দিত৷''

হামিদের এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে কর্তৃপক্ষ ১৯ বছরের একটি মেয়ের কাছ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে৷ তবে বাডেন-ভু্র্টেমব্যার্গের পুলিশ বলছে, তারা গত মার্চে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে৷

স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলো মিলে ওই নিপীড়েকর একটি মুখাবয়ব তৈরি করেছে৷ তবে তারা বলছে, হামিদ যে সব তথ্য দিয়েছেন তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং তিনি যে নাম বলেছেন তা নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মিলছে না৷

 

ফেডারেল প্রসিকিউটররা গত জুনে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে৷ তবে ততোদিনে পরিবার নিয়ে ইরাকে চলে গেছেন হামিদ৷

বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ পুলিশ গত বুধবার এক টুইটে বলেছে, ‘প্রত্যক্ষদর্শীকে না পাওয়া যাওয়ায়' তদন্ত আর এগোতে পারেনি৷

আর ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, গত জুলাই থেকেই এই মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম ঝুলে আছে৷

জার্মানিতে ‘অনেক মেয়েরই আমার মতো কাহিনি'

২০১৪ সালে আইএস জঙ্গিরা পাঁচ হাজারের বেশি ইয়াজিদিকে হত্যা এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষকে তুলে নিয়ে যায়৷ হামিদের পাঁচ ভাই এবং এক বোন এখনো নিখোঁজ রয়েছে৷

উত্তর ইরাকে ইয়াজিদিদের মাতৃভূমিতে জাতিসংঘ ঘর-বাড়ি করে দিলেও অনেকে মনে করেন এখন আইএস-এর হামলার ঝুঁকিতে আছেন তারা৷

হামিদের বাবা বলেন, তার পরিবার এখনো ইরাকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে৷ বিশেষ করে মেয়ের এই কথা জানানোর পর শঙ্কা আরো বেড়েছে৷

তিনি বলেন, তারা এমন একটি দেশে যাওয়ার আশা করেন, যেখানে অন্তত নিজেদের নিরাপদ মনে হবে৷

বর্তমানে ইরাকের কুর্দিস্তানে একটি ক্যাম্পে বাবা ও মায়ের সঙ্গে আছেন হামিদ৷ তার এই নিয়তি যেন আশ্রয় প্রার্থনাকারী অন্য ইয়াজিদিদেরও না হয় সেটা নিশ্চিত করতে জার্মান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷

‘‘ওই ব্যক্তির শাস্তি হোক-এটা ছাড়া জার্মান কর্তৃপক্ষের কাছে আমি আর কিছু চাই না৷ আমি চাই তারা এটা বুঝুক যে, আমার মতো ঘটনার ভুক্তভোগী অনেক নারী সেখানে রয়েছে এবং জার্মানিতে তাদের নিরাপত্তা দিক৷''

লুইস স্যান্ডার্স আইভি/এএইচ/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন