অ্যাসিড হামলায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ | বিশ্ব | DW | 18.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

অ্যাসিড হামলায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ

উত্তরপ্রদেশকে পিছনে ফেলে অ্যাসিড হামলায় ফের শীর্ষে বাংলা৷ অ্যাসিড হামলা কমাতে সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন নির্দেশ জারির পরও পরিস্থিতি পাল্টায়নি৷

একদিকে, অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণী লক্ষ্মী আগরওয়ালের বায়োপিক তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভারতের দুটি রাজ্যে অ্যাসিড হামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে৷ সম্প্রতি বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘ছপাক'৷ ঠিক তার আগের দিন কেন্দ্রের রিপোর্টে দেখা গেল, যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশকে পিছনে ফেলে এ বার অ্যাসিড হামলায় শীর্ষে পৌঁছেছে বাংলা৷ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)-র ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পরে এ বার রাজ্যে অ্যাসিড আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৷ অ্যাসিড হামলার মোট ঘটনা ঘটেছে ৫০টি৷ ২০১৬ সালে রাজ্যে অ্যাসিড আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আরো বেশি৷ সেবার ৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ ২০১৭ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে যায়৷ সেই বছর সংখ্যা ছিল ৫৪৷ উত্তরপ্রদেশ বাংলাকে টপকে এগিয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু, এক বছরের মাথায় ফের শীর্ষে প্রগতিশীল বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ৷ সংখ্যা কমলেও যোগীর রাজ্য থেকে হামলার নিরিখে এগিয়ে রয়েছে এই রাজ্য৷

এ ক্ষেত্রে অ্যাসিড আক্রমণের চেষ্টা হিসেবের মধ্যে রাখা হয়নি৷ এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আক্রমণের ১২টি চেষ্টা হয়েছে৷ এ ছাড়া, অনেক ঘটনা আছে যা পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয় না বা কেউ অভিযোগ দায়ের করে না৷ ফলে আক্রমণের চেষ্টা যতটা হয়, তার সবটা পরিসংখ্যানে উঠে আসে না৷

সিনেমার রুপোলি পর্দায় যা দেখানো যায়, বাস্তব তার থেকে রূঢ় হয়ে থাকে৷ তাই ভারতের শীর্ষ আদালতের কঠোর নির্দেশ থাকলেও অ্যাসিড আক্রমণের প্রবণতা সমাজে রয়েই গিয়েছে৷ অ্যাসিড বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তার কেনাবেচা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়নি৷ ফলে অ্যাসিড চাইলেই বাজারে মিলছে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরাধ নিষ্পত্তির বিষয়টি৷ অ্যাসিড হামলা সংক্রান্ত মামলার প্রায় ৯৪ শতাংশ বিচারাধীন রয়েছে৷ এর ফলে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে, অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে৷ ‘ছপাক' সিনেমার পরিচালক মেঘনা গুলজার ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানি নিয়ে যতটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে, সে তুলনায় অ্যাসিড হামলা নিয়ে বিশেষ সচেতনতা তৈরি হয়নি৷ এটাও একইরকমভাবে একটা জঘন্য অপরাধ৷’’ 

মানুষের ওপর অ্যাসিড ছোড়ার অপরাধ করলেও বিচার অনেক ক্ষেত্রে অধরা থেকে যাচ্ছে৷ যার উদাহরণ পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা পারমিতা বেরা৷ এই তরুণী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর অ্যাসিড আক্রমণের শিকার হন৷ এখন পর্যন্ত ১৫ বার তাঁর প্লাস্টিক সার্জারি হয়েছে৷ এই নারকীয় হামলার মুখে পড়েও শিরদাঁড়া টানটান করে লড়াই করছেন পারমিতা৷ তিনি তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, কিন্তু বিচার পাননি৷ পারমিতা বলেন, ‘‘একটি ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল৷ আমি তাতে রাজি হয়নি, তাই সে অ্যাসিড ছোঁড়ে৷ দুঃখের বিষয়, এখনো তার সাজা হয়নি৷’’

অডিও শুনুন 05:22

মুখ্যমন্ত্রী নীরব কেন?: কৃষ্ণা

কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনুপম গোলাস প্লাস্টিক সার্জারি করছেন৷ তিনিও পারমিতার লড়াইয়ে মুগ্ধ৷ তিনি বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে শুধু চেহারা নয়, মনের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে৷ পারমিতার লড়াইয়ে সমাজ অনেক ক্ষেত্রে ওর পাশে দাঁড়ায়নি৷ সেটা শরীর ও মনের লড়াইকে আরও প্রতিকূল করে তোলে৷’’

পারমিতার মতো এমনই লড়াই চালাচ্ছেন অনেক তরুণী৷ শুধু একটি বলিউডি সিনেমা মানসিকতার বদল ঘটাতে পারবে না, এমনই মত দমদমের অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণী সঞ্চয়িতা যাদবের৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘সরকার এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি বদলাবে না৷ অ্যাসিড আক্রমণের পর বিচার পাওয়া দূরের কথা, আক্রান্তকে ভয় দেখাচ্ছে অভিযুক্ত৷ আমাদের কর্মসংস্থানের দিকটিও সরকারকে দেখতে হবে৷’’

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী কৃষ্ণা দেবনাথের বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এখন উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে৷ এখানে মুখ্যমন্ত্রী নারী, আবার এখানেই নারীদের উপর নিয়মিত অত্যাচার চলছে৷ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে শাসক দলের মদতে৷ অপরাধ করলে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ পুলিশ-প্রশাসন পাশে না থাকলে অপরাধীরা সাহস পাবে৷’’

ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘একটি মেয়ের জীবনের মূল্য তিন লক্ষ টাকা নয়৷ এই হামলা বন্ধ করতে হবে৷ এটা সরকারকেই করতে হবে৷ সব বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় নামছেন, কিন্তু ধর্ষণ থেকে অ্যাসিড হামলা নিয়ে তিনি নীরব কেন?’’ 

ভিডিও দেখুন 02:09

কলম্বিয়ায় অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের ফ্যাশন শো

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন