অ্যামাজন অঞ্চলে শুশুকদের কল্যাণে অভিনব প্রকল্প | অন্বেষণ | DW | 01.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অ্যামাজন অঞ্চলে শুশুকদের কল্যাণে অভিনব প্রকল্প

বাংলার নদ-নদীতে এককালে অনেক শুশুক দেখা যেতো৷ এখন তারা বিশ্বের অনেক প্রান্তেই লুপ্তপ্রায় প্রজাতি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অ্যামাজন নদীতে শুশুকদের কল্যাণে অভিনব এক প্রকল্প চালানো হচ্ছে৷

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর নেতৃত্বে এক অভিযানের আওতায় এই প্রথম ব্রাজিলের অ্যামাজন অঞ্চলে শুশুকদের পরীক্ষা করা হয়েছে৷ অ্যামাজনের এক শাখানদীতে এক শুশুক মা তার শাবককে ডাঙায় তুলে পরীক্ষা করে তাদের শরীরে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে৷ অভিযানের প্রধান মার্সোলো  অলিভেইরা বলেন, ‘‘গোলাপি রঙের এই শুশুক প্রজাতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত৷ তাদের বাসস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য পেলেও তাদের সংখ্যা, স্বাস্থ্য, রক্তের স্তর, প্যারাসাইট, বিষক্রিয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না৷''

শুশুকদের সার্বিক চেকআপের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ পশু চিকিৎসক, মেরিন বায়োলজিস্ট, জেলে ও প্রকৃতি সংরক্ষণকারীরা এই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছেন৷ খুব দ্রুত কাজ সারতে হয়, কারণ ডলফিনরা ডাঙার উপর বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না৷ এর আগে কখনো কোনো গোলাপি শুশুকের উপর আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা চালানো হয়নি৷ পশু চিকিৎসকের জন্যও এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা৷

ভিডিও দেখুন 05:37
এখন লাইভ
05:37 মিনিট

শুশুকদের ভালো রাখার জন্য প্রকল্প

মায়ের ডাক্তারি পরীক্ষার সময় তার শাবকের উচ্চতা ও ওজন মাপা হয়েছে৷ প্রায় এক ঘণ্টা পর দু'টি প্রাণীকে আবার নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ জেলেরা সাঁও মানুয়েল জা বারা নামের পাশের গ্রামেই থাকেন৷ এখানকার মানুষ নদীর উপর খুব নির্ভরশীল৷ শুশুকদের মতো তাঁদের জন্যও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত জরুরি৷ অ্যামাজন অববাহিকায় উপার্জনের পথ খুবই কম৷ তাই অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে যান৷ বেআইনি হলেও কেউ কেউ সোনার খোঁজে লেগে পড়েন৷

তবে সোনার খোঁজে যে পারদ ব্যবহার করা হয়, তা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ শেষ পর্যন্ত এই পদার্থ মানুষ ও শুশুকের খাদ্যে স্থান পায়৷ তার ফলে এই প্রাণীদের কী হয়, গবেষকরা তা জানতে চান৷

 

মার্সোলো অলিভেইরা বলেন, ‘‘পশুদের শরীরে পারদের প্রভাব সম্পর্কে খুব কম জ্ঞান রয়েছে৷ মানুষের উপর এর প্রভাব নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে৷ মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা আছে৷ তবে প্রকৃতির কোলে প্রাণিজগত সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা নেই৷ তাই আমরা টিস্যু বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে আলট্রাসাউন্ড, ব্লাড কাউন্টের মতো সমান্তরাল পরীক্ষা চালাচ্ছি৷ গবেষণার মাধ্যমে আমরা বিষক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাই৷''

প্রাণীদের জন্য আরেকটি বিপদ হলো নতুন বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প৷ মার্সোলো বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি যেভাবে জলপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন করছে, সেটাই মূল সমস্যা৷ এর ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে জিনগত আদানপ্রদান ব্যাহত হয়৷ বাঁধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বংশবৃদ্ধির পথে বাধা আসে৷''

প্রথমবার এক শুশুকের শরীরে ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে৷ জালে শুশুক ধরতে মাঝে মাঝে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে৷ প্রায়ই তারা পালাতে সমর্থ হয়৷ কলম্বিয়া ও বলিভিয়ায়ও ডলফিন পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এলাকার অন্যান্য দেশেও এমন পরীক্ষা চালানো হবে৷ ডাব্লিউডাব্লিউএফ এর মাধ্যমে গোটা অ্যামাজন এলাকায় ডলফিনদের সার্বিক অবস্থার চিত্র পাবার আশা করছে৷ সেখানে বেশিরভাগ প্রাণী অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের, তাদের ওজনও বড় কম৷ ৭০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের প্রায় কোনো ডলফিন নেই৷

নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের উপর একটানা নজর রাখা হচ্ছে৷ এ যাত্রায় সব কাজ দ্রুত হয়েছে৷ আধ ঘণ্টাও সময় লাগে নি৷ জিপিএস ট্রান্সমিটারও চালু হয়ে গেছে৷ সেটি পাখনায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ প্রকল্পের অন্যতম গবেষক মিরিয়াম মারমন্টেল বলেন, ‘‘আমরা তাদের সঙ্গে কী করছি, প্রাণীরা ঠিক তা বুঝতে পারে৷ তবে বায়োপ্সি করা বা ট্রান্সমিটার বসানোর সময় আমরা শরীরের সেই অংশ আগে অসাড় করে দেই৷''

পরীক্ষার শেষে শুশুকটিকে দ্রুত আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গোলাপি রংয়ের নদীর এই শুশুককে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে৷ সেটা হলে তাদের ইকোসিস্টেমের জন্য আরও বেশি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে৷

নিকোলাউস তারুকেলা-লেভিটান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও