অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার মোকাবিলায় সাফল্য | অন্বেষণ | DW | 20.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার মোকাবিলায় সাফল্য

আধুনিক যুগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে৷ সে ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে৷ ফ্রান্সের এক কোম্পানি অভিনব উপায়ে এমন বিপদ এড়ানোর চেষ্টা করছে৷

গ্রিসে বেড়ানোর সময় খেরার্ড লেউ-এর স্ত্রী ইয়োকে-র স্ট্রোক হয়৷ তার উপর স্থানীয় হাসপাতালে গেলে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ঘটে৷ ফলে চিকিৎসা আরো কঠিন হয়ে পড়ে৷ সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে খেরার্ড বলেন, ‘‘স্ত্রীকে এক নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়৷ সেখানে তার শরীরে এক বিপজ্জনক অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধক ব্যকটেরিয়া ধরা পড়ে৷ আশেপাশে আরও ৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ সবাইকে কোয়ারেন্টাইন, অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়৷ যদিও আমার স্ত্রীর ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত কোনো লক্ষণ ছিল না, সেই পরিস্থিতি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল৷ পরিবার, বন্ধুবান্ধবের দেখা করা নিষেধ ছিল৷ অনেকেই তার কাছে যেতে ভয় পেতেন৷''

যে ব্যাকটেরিয়া বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা জীবন বিপন্ন করতে পারে৷ বিশেষ করে যেসব রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি৷ তখন সাধারণ চিকিৎসায় কাজ হয় না৷

ভিডিও দেখুন 03:50

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মোকাবিলা

‘সুপারবাগ' সংক্রমণ ঘটলে চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে৷ উটরেশ্ট বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেরভিলেম ফান স্কাইক বলেন, ‘‘এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালী বা রক্তধারায় সংক্রমণ ঘটাতে পারে৷ রোগী খুব অসুস্থ থাকলে তা আরো বিপজ্জনক হতে পারে৷ অ্যান্টিবায়োটিকপ্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি চিকিৎসার পদ্ধতি অবশিষ্ট থাকে না৷''

 

গোটা বিশ্বে এই সমস্যা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ডাক্তাররা সতর্ক করে দিচ্ছেন৷ সামগ্রিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে এই সমস্যা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন৷ সেইসঙ্গে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার নিম্ন মানও এর জন্য দায়ী৷ উটরেশ্ট বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মার্ক বন্টেন বলেন, ‘‘এই সমস্যা এমন মাত্রা ধারণ করেছে যে, একাধিক ক্ষেত্রে বহুমুখী পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ প্রথমত, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার আরো যুক্তিসম্মত ও সীমিত রাখতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত মানদণ্ডের উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে৷ তৃতীয়ত, এইসব ব্যাকটেরিয়ার মোকাবিলা করতে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক সৃষ্টি করতে হবে৷ কারণ, এই ব্যাকটেরিয়া চলে যাবে না৷''

কয়েক কোটি বছর ধরে কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে৷ কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতার বিকাশ কীভাবেঘটেছে, যার ফলে মানুষের রোগ হয়? ভিলেম ফান স্কাইক মনে করেন, ‘‘প্রকৃতি থেকেই প্রতিরোধ আসছে৷ এই রেজিস্টেন্স জিন কীভাবে মাটি বা পানির ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে, তা আমাদের বুঝতে হবে৷ এখনো আমরা তা জানি না৷ সেটা জানতে পারলে আমরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রসার বন্ধ করার প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারবো৷''

মলাশয় পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই যত দ্রুত সম্ভব শরীরকে অ্যান্টিবায়োটিক শুষে নিতে হবে৷ তার অবশিষ্ট কোনো অংশ সেখানে পৌঁছলে তা অনেক উপকারী আন্ত্রিক ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে৷ প্যারিসের দা ভোলতেরা ল্যাবের পিয়ের-আল্যাঁ বান্ডিনেলি বলেন, ‘‘মলাশয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যাকটেরিয়া থাকে৷ এমনকি আমরা বলি যে, মানুষের শরীরে কোষের তুলনায় কোলোনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি৷ সেই সব ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্ট অংশ আন্ত্রিক কাঠামো তছনছ করে দেয়৷'' এমন অঘটন এড়াতে ফ্রান্সের এই কোম্পানি ক্ষুদ্র ক্যাপসুল তৈরি করেছে৷ অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গেই সেটি খেতে হয়৷ সেই ক্যাপসুল অত্যন্ত ধীরে গলতে থাকে এবং মলাশায়ে পৌঁছানোর আগেই অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্ট অংশকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়৷ বান্ডিনেলি বলেন, ‘‘এটা স্পঞ্জের মতো কাজ করে৷ অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে সেটি খেতে হয়৷ মলাশয়ে পৌঁছে সেটি অ্যান্টিবায়োটিকের সব অবশিষ্ট অংশ শুষে নেয়, যাতে সেগুলি আন্ত্রিক কাঠামোয় কোনো বিঘ্ন ঘটাতে না পারে৷''

এই ক্যাপসুল এখনো পর্যন্ত দু-দুটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন