‘অস্তমিত শহরে অ্যানেস্থেসিয়া সময়’ | বিশ্ব | DW | 03.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

‘অস্তমিত শহরে অ্যানেস্থেসিয়া সময়’

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা৷ ফেসবুকে তারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারী ও এর নেপথ্যে যারা আছে, তাদের শাস্তি দাবি করেছেন৷ 

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল একজন জনপ্রিয় লেখকই শুধু নন, একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব৷ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ধারালো হয়েছে৷ 
শনিবার তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে এক দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি৷ এখন তিনি চিকিৎসাধীন৷ হামলাকারীকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা৷
এই হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ কেউ সোচ্চার হবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন৷ 
চিরকুটের শিল্পী শারমিন সুলতানা সুমি লিখেছেন, ‘‘অস্তমিত নগরে অ্যানেস্থেসিয়া সময়৷ মৃত কোলাহল৷ জোছনা বিষাদে পুড়ে ছাই উৎসব৷ মানুষ ভজলে কবে মানুষ হব৷ কোথায় যাবো, যাব কোথায়!’’
হাসান আহমেদ লিখেছেন, ‘‘মানুষের মত দেখতে কিন্তু...অমানুষ৷ এই ছেলেটিই আঘাত করেছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে৷ এদের যারা মগজ ধোলাই করছে উগ্রতার দিকে৷ তাদের শেষ করতে একতাবদ্ধ হন সব শ্রেণি-পেশার প্রগতিশীল মানুষেরা৷ নতুবা মুক্তিযুদ্ধে পাওয়া বাংলাদেশ তার অস্তিত্ব হারাবে অচিরেই৷’’
ইমরান হোসেন লিখেছেন, ‘‘অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যারের উপর হামলাকারীদের বিচার চেয়ে লাভ নেই৷ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এর জন্য দায়ী৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি৷ বিচার হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদের উপর হামলাকারীদের৷ অতীতের এসব ঘটনার মূলোৎপাটন করলে এই চাপাতি সংস্কৃতি বন্ধ হতো৷ রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না কিছুতেই৷’’

শরীফুল হাসানের মন্তব্য, ‘‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়েছে৷ সেই চাপাতি৷ সেই পেছন থেকে হামলা৷ পু‌লিশ, ছাত্রছাত্রী সবার সাম‌নে এমন হামলা৷ মনটা বি‌ষি‌য়ে আছে৷ আশার কথা স্যার আশঙ্কামুক্ত৷ তবু্ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এই দোয়া করি স্যার৷ আর হামলার নেপ‌থ্যে কারা সেটা দ্রুত খুঁ‌জে বের করা হোক৷’’
কেউ কেউ ড. জাফর ইকবাল একজন ‘নাস্তিক’ এমন মন্তব্য করাতেও ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকে৷ 
কাজী সাবির লিখেছেন, ‘‘স্যারকে যে কোনো মূল্যে নাস্তিক প্রমাণ করে, হামলাটিকে যথার্থ প্রমাণ করে তবেই এই ঘুমন্ত জাতি আজ ঘুমাতে যাবে!’’
কাজী রত্না লিখেছেন, ‘‘আমার সিরিয়াসলি কান্না পাচ্ছে....যে কোন অফিসিয়িাল নিউজ লিংক এর কমেন্ট দেখে চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে৷ এই দেশ আমার না....এই মানুষগুলো আমাদের না..সত্যিই আমাদের না....আমার দেশের মানুষ এত অসভ্য নোংরা হতে পারে না....সত্যিই পারে না...৷’’
সাংবাদিকদের অধিকাংশই অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন৷ শওগাত আলী সাগর লিখেছেন, ‘‘শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতকারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টোরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করতে হবে কেন? খুন করার চেষ্টারত একজন দুর্বৃত্ত তো দ্রুত পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কথা৷ আর পুলিশ কী না এমন ভয়াবহ এক দুর্বৃত্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হাতে দিয়ে দেয়!
বাই দা ওয়ে, জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার জন্য ব্যবহৃত ছুরিটি কি পুলিশ উদ্ধার করেছে? সেটি কি সংরক্ষণ করা হয়েছে?
আমি হামলাকারীর দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে৷ সে কে, কাদের হয়ে জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তার পেছনের পৃষ্ঠপোষক কারা- এগুলো জানার জন্য সেই তো একমাত্র যোগসূত্র৷’’
জুলফিকার আলী মাণিক লিখেছেন, ‘‘আমার কিছু ত্বরিত পর্যবেক্ষণ- লেখক জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী যুবকের সুঠাম, সুগঠিত বাহু বলে দেয় নিয়ম করে ব্যায়াম করার অভ্যাস ছিল তার অথবা দারুণ দৈহিক পরিশ্রম করতে হয় এমন কাজে যুক্ত ছিল সে৷ শারীরিক প্রশিক্ষণ ছাড়া আরও কোনো নিয়মিত প্রশিক্ষণ তার থাকাটা স্বাভাবিক৷ না হলে এমন হামলা হুট করে যার তার পক্ষে করা সম্ভব নয়৷ ছেলেটি গোফ ছাটতো, কিন্তু বোগলের লোম ও দাড়ি কাটতো না৷ একটি কট্টর বিশ্বাসের ইঙ্গিত পাই৷ হামলাকারীর মগজ ধোলাইকারী কারা? ঘটনাস্থলে হামলাকারীর সঙ্গে আর কে কে ছিল? হামলাকারী বহিরাগত হলেও ক্যাম্পাসের কারও কারও হাত থাকাটা অস্বাভাবিক নয়৷ হামলার পরিকল্পনাকারী কারা? কবে সিদ্ধান্ত হলো? আমরা যখন ভাবছি সব কিছু নিয়ন্ত্রণে, শান্ত সব, আসলে তখন ওত পেতে আছে ওরা৷ 
শুধু সহজ সুযোগের অপেক্ষায়৷’’
আরাফাতুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি যে দুর্বৃত্তদের সাহস কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে তার নজির আজকের এই হামলা৷ জাফর ইকবাল স্যারের উপর এমন হামলা হতে পারে সেই আশঙ্কা বহু আগে থেকেই ছিল৷ সেই আশঙ্কা আজ সত্যি হলো৷ এই হামলা নিয়ে বর্তমান ‘শক্তের ভক্ত, নরমের যম’ সরকারের ঘোষিত, অঘোষিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় আছি৷’’

সংকলন: যুবায়ের আহমেদ
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ
 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন