অসাড় অঙ্গকে সচল করার ক্ষেত্রে সাফল্য | অন্বেষণ | DW | 20.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অসাড় অঙ্গকে সচল করার ক্ষেত্রে সাফল্য

শরীর সচল থাকলে চিন্তা নেই, কিন্তু শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অসাড় বা অচল হয়ে পড়লে চরম হতাশা জাগতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা এবার কৃত্রিম পদ্ধতিতে অসাড় হাতকে আবার সচল করার ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পেয়েছেন৷

শরীরের উপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়৷ কিন্তু থাকলে সেটা মেনে নিতে হয়৷ আল্সহাইমারের রোগী রোলেঞ্জো রসি সেই কষ্টে ভুগছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘গত ৫-৬ বছরে ধীরে ধীরে আমি বাঁ হাত তোলার ক্ষমতা হারিয়েছি৷ এখন সারা শরীর অবশ হয়ে পড়ছে৷ এখনো সব পেশি নাড়াতে পারছি বটে, কিন্তু খুবই দুর্বল হয়ে পড়ছি৷''

আন্দ্রেয়া নিউটা-র মাল্টিপল স্কেলেরোসিস আছে৷ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন৷ ইটালির মিলান শহরের কাছে এক হাসপাতালে তিনি নিউরোমাসকিউলার রি-এডুকেশন চিকিৎসা করাচ্ছেন৷ তিনি নতুন ধরনের এক নিউরোপ্রস্থেসিস পরীক্ষা করতে রাজি হয়েছেন৷ এক ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এই পদ্ধতি সৃষ্টি করা হয়েছে৷ আন্দ্রেয়া বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত ছিলাম, যে ডান হাতে কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু জানতে পারলাম আমার সেই ধারণা ভুল ছিল৷  মুন্ডুস প্রকল্পের আওতায় আমি ছোট ছোট মুভমেন্টের মাধ্যমে উন্নতি করতে শিখেছি৷''

এই প্রকল্প মানুষকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেবার আশা রাখে৷ সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রযুক্তি রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়৷ নিউরোলজিস্ট ফ্রাংকো মলটেনি বলেন, ‘‘মুন্ডুস বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা৷ কারণ এর মাধ্যমে আমরা রোগীর সমস্যার গভীরে যেতে পারি৷ স্বাস্থ্য পরিষেবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই রোগীরা মূল স্রোতের বাইরের হতে পারেন, কারণ তাঁদের সংখ্যা কম৷ কিন্তু এই রোগীদের সমস্যার সমাধানসূত্র লক্ষ লক্ষ রোগীর কাজে লাগতে পারে৷''

এই প্রণালীর মধ্যে এক্সোস্কেলেটন নামের এক স্তর রয়েছে, যার কাজ হলো হাতের ওজন সামলানো৷ সেইসঙ্গে সেই সব রোগীর জন্য ইলেকট্রিক স্পন্দনের ব্যবস্থা রয়েছে, যাঁদের আর পেশিসঞ্চালন ঘটে না৷ ইলেকট্রো সিমুলেশনের মাধ্যমে তাঁরা হাত মুঠো করতে পারেন৷ বিভিন্ন প্রণালী রোগীর ইচ্ছা বিশ্লেষণ করতে পারে৷ কখনো পেশি সক্রিয় করে তোলা হয়, কখনো রোগীর চোখের দিকে ক্যামেরা ফোকাস করা হয়৷ মুন্ডুস প্রকল্পের ম্যানেজার আলেসান্দ্রা পেডরোচি বলেন, ‘‘উপরিভাগের ইলেকট্রোডের মাধ্যমে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনাল গ্রহণ করা হয়৷ সিগনালের এক ফিল্টার ব্যবস্থার মাধ্যমে হাতের পেশিগুলিতে কতটা স্পন্দন পাঠানো হলো, তা সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করা যায়৷ এভাবে রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী হাত নাড়াচাড়া করা সম্ভব৷''

এখনো পর্যন্ত শুধু ডান হাতের জন্য এক প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে৷ লোরেঞ্জোর ডান হাতে এখনো কিছুটা সাড় রয়েছে৷ কিন্তু বাঁ হাত পুরোপুরি অসাড়৷ তবে অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়েও সহায়তা করতে চান৷ রোলেঞ্জো রসি বলেন, ‘‘যেদিন বাঁ হাতের প্রোটোটাইপ প্রস্তুত হয়ে যাবে, আমি আবার স্বেচ্ছায় সব পরীক্ষায় অংশ নেবো৷ তখন হয়তো সম্পূর্ণ অসাড় হাতের সঙ্গে প্রায় অসাড় হাতের মধ্যে স্পষ্টভাবে তুলনা করতে পারবো৷ হয়তো এমন তুলনা ভালই হবে এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তাররা ভবিষ্যতে এই প্রকল্প চালিয়ে যেতে পারবেন৷''

হাতে গ্লাস ধরে কিছু পান করা, চুল আঁচড়ানো অথবা সুইচ টিপে আলো জ্বালানোর মতো সামান্য অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষমতা অদূর ভবিষ্যতে সেই সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, যাঁদের সেই প্রয়োজন রয়েছে৷

স্টেফান গাবেল্ট/এসবি

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন