অশান্ত উত্তর পূর্ব দিল্লিতে মৃত ৯ | বিশ্ব | DW | 25.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

অশান্ত উত্তর পূর্ব দিল্লিতে মৃত ৯

উত্তর পূর্ব দিল্লিতে হিংসা অব্যাহত৷ সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হিংসায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৯ জন৷

শুরু হয়েছিল রবিবার বিকেল থেকে, মঙ্গলবার সকালেও তা থামল না৷ উত্তর পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা, মৌজপুর, ব্রহ্মপুরি, গোকুলপুরিতে রাতভর হিংসা হয়েছে, আগুন লাগানো হয়েছে, লুঠতরাজ অব্যাহত৷ গোকুলপুরির টায়ার মার্কেটে রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দশটি দমকল ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিভিয়েছে৷ উত্তর পূর্ব দিল্লির দমকলের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, রাত তিনটে পর্যন্ত তাঁরা আগুন নেভানোর জন্য ফোন পেয়েছেন৷ মোট ৪৫টা ফোন এসেছে৷ তিনজন দমকলকর্মী এখনও পর্যন্ত আহত হয়েছেন৷ একটি দমকলের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সকালে বিভিন্ন জায়গায় আবার পাথর ছোড়া হয়েছে৷ অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত সফর করছেন এবং দিল্লিতে আছেন, তখন রাজধানীর একাংশ জ্বলছে, লাগামহীন হিংসা চলছে। বিশ্বের কাছে মোটেই ভালো বার্তা যাচ্ছে না৷

উত্তর পূর্ব দিল্লির উপদ্রুত এলাকার আটটি মেট্রো রেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ হিংসায় শুধু যে নয় জন মারা গিয়েছেন তাই নয়, প্রচুর লোক গুলিতে আহত হয়েছেন। জিটিবি হাসপাতালে গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ১৬০ জন৷ এই সব তথ্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, উত্তর পূর্ব দিল্লির হিংসা কতটা ব্যাপক চেহারা নিয়েছে৷ ব্রহ্মপুরিতে পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ করছে। বিপুল পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। তা সত্ত্বেও সকালে হিংসা হয়েছে। ব্রহ্মপুরিতে একটি গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সূত্র জানিয়েছে, এ দিন সকালে কিছু লোক ইলেকট্রিক রিকশ বা টোটো করে যাচ্ছিলেন, হামলাকারীরা তাঁদের উপরেও চড়াও হয় এবং লুঠতরাজ চলে৷

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সকালে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন৷ তারপর তিনি জানিয়েছেন, ''বিধায়করা বলেছেন, উপদ্রুত এলাকায় পুলিশের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম৷  তার ওপর যাদের মোতায়েন করা হয়েছে, তাদের কাছে ওপরমহল থেকে যতক্ষণ নির্দেশ না আসছে, ততক্ষণ তারা কিছু করতে পারছেন না৷ তাছাড়া দিল্লির সীমান্ত দিয়ে প্রচুর সন্দেহভাজন লোক ঢুকছে৷ তাই ওই সব সীমান্ত সিল করে দেওয়া হোক৷''

উপদ্রুত এলাকার ছবিটাও ভয়ঙ্কর৷ গাড়ি, স্কুটার ভেঙে পড়ে আছে৷ দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ পোড়া টায়ার মার্কেট থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে৷ রাস্তায় ভর্তি ইট ও কাঁচ৷   

হিংসা এক তরফ হচ্ছে না। পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, সিএএসমর্থক ও বিরোধী দুই পক্ষই হিংসার জন্য দায়ী৷ সোমবার লাল শার্ট পরে একজনের গুলি মারার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল৷ পুলিশ জানিয়েছে, তার নাম মহম্মদ শাহরুখ৷ তাকে আটক করা হয়েছে৷ বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র বলেছিলেন, ট্রাম্পের সফর চলছে বলে তাঁরা কিছু করছেন না৷ কিন্তু তিন দিনের মধ্যে পুলিশকে ব্যবস্থা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিতে হবে৷ তাঁর সেই বিবৃতির পরেই হিংসা ছড়ায় বিভিন্ন জায়গায়। সোমবার বিকেলের পরে অবশ্য তাঁকেই শান্তির কথা বলতে শোনা গিয়েছে। পুলিশ মিশ্রের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

সোমবার হামলাকারীদের আক্রমণে পুলিশের এক হেড কনস্টেবল মারা গিয়েছিলেন। শাহদরার ডিসিপি এখনও আইসিইউতে ভর্তি৷ তবে তিনি এখন ভালো আছেন বলে পুলিশজানিয়েছে৷ সোমবার রাতে অমিত শাহ একবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। দুপুর ১২টায় আবার অমিত শাহ বৈঠক ডেকেছেন৷ সেখানে দিল্লির লেফটানান্ট গভর্নর, মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতারা থাকবেন৷ তার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডি বলেছেন, ''সরকার গত দুই মাস ধরে শন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ  হতে দিয়েছে৷ কিন্তু সোমবার যে হিংসা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না৷''

পরিস্থিতি কতটা খারাপ? দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে সাংবাদিকতা করা গুলশন ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''দিল্লিতে আগে কিছু ঘটলে পুলিশ ১২ ঘন্টার মধ্যে তা সামাল দিয়ে দিত৷ এ বার দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগছে৷ এটা চিন্তার৷''

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

 

বিজ্ঞাপন