অর্ধেক ভাড়ার আন্দোলনের সমাধান কোথায়? | বিশ্ব | DW | 24.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

অর্ধেক ভাড়ার আন্দোলনের সমাধান কোথায়?

সপ্তাহ ধরে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) জন্য আন্দোলন করলেও সরকার বা মালিক পক্ষের দিক থেকে এখনো দাবি মেনে নেয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে৷

Bangladesch Studenten protestieren für den halben Fahrpreis bei Verkehrsmitteln in Dhaka

ফাইল ফটো

এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে৷ এইদিকে বুধবার হাইকোর্টে  অর্ধেক ভাড়ার পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে৷
মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলার পর বুধবার নতুন করে বড়  কোনো হামলা ও হাঙ্গামার খবর পাওয়া যায়নি৷ ছাত্রলীগ এরইমধ্যে ছাত্রদের এই অর্ধেক ভাড়া দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে৷ তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আছে৷ তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হলেও বড় কোনো শো ডাউন করেনি৷ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বাস, ট্রেন ও লঞ্চে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে যে রিট আবেদন করেছেন তার শুনানি রোববার হতে পারে৷ ইউনুস আলী আকন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন," আমরা নিজেরাও গণপরিবহণে ছাত্র জীবনে অর্ধেক ভাড়া দিয়েছি৷ এটা একটা ঐতিহ্য৷ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে৷ এটা বন্ধ করা যাবে না৷ এটা বন্ধ করা সংবিধানেরও লঙ্ঘন৷ সরকারকে এখন অর্ধেক ভাড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন করে দিতে হবে৷”

অডিও শুনুন 02:41

‘এখন অর্ধেক ভাড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন করে দিতে হবে’


তিনি বলেন,"সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা আছে৷ শিক্ষার্থীদের শতকরা ৫০ ভাগ নারী৷ আর ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু৷ তাই শিক্ষার্থীদের সংবিধান অনুযায়ী গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়ার সুযোগ আছে৷ কিন্তু সরকার তা করছে না ৷ উল্টো শিক্ষার্থীদের ওপর ডাবল ভাড়া চাপিয়ে দেয়া হয়েছে৷ ফলে এই আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে৷ এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে৷”
তিনি আরো বলেন,"সরকারের দুই-একজন মন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের এই দাবির  সাথে একমত৷ তারপরও মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে৷ এটা ন্যাক্কারজনক৷ তাদের আইনের আওতায় আনা হোক৷”
রিটে স্বরাষ্ট্র, নৌ ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের আইজিকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে৷
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন,"শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবির প্রতি আমাদের পুরো সমর্থন আছে৷ তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিও আমাদের সমর্থন আছে৷ তবে সতর্ক থাকতে হবে যে একটি গোষ্ঠী সব সময় এই ধরনের আন্দোলনে মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়৷”

অডিও শুনুন 01:13

‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবির প্রতি আমাদের পুরো সমর্থন আছে’


তিনি মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন," এটা ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে৷ একটি মটর সাইকেলের ঘটনা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়৷ ”
অর্ধেক ভাড়া নিয়ে  বিআরটিএ এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি৷ বিআরটিএর চেয়ারম্যানকেও ফোনে পাওয়া যায়নি৷ তবে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে শনিবার সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয় পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য৷
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্যাহ জানান,"আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি৷ শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়ার কোনো আইন নেই৷ আমরা আগে এই সুবিধা দিয়েছি৷ কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়৷ সরকার চাইলে দিতে পারে৷ বিআরটিসি বাস আরো বাড়াতে হবে৷”
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন,"অর্ধেক ভাড়ার আইন না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে৷ এটা আমাদের প্রতি করুণা নয়, এটা আমাদের অধিকার৷ আর আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা , নির্যাতন হয়েছে আমরা তারও বিচার চাই৷”

অডিও শুনুন 01:41

‘গণপরিহণের মালিকদের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠক করে একটা সমন্বয় করতে হবে’


শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের আন্দোলন আরো জোরদার করার কাজ করছে৷ সেখানে তারা অর্ধেক ভাড়া নিয়ে কোথায় কী ঘটছে তাও তুলে ধরছে৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন," শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার এই দাবি যৌক্তিক৷ আগে বাস, ট্রেন, লঞ্চ এমন কী অভ্যন্তরীণ বিমানেও অর্ধেক ভাড়া ছিলো৷ এখন বিআরটিসির বাস ছাড়া আর কোথাও নেই৷ এটা কীভাবে হলো?”
তিনি বলেন,"তবে এটা করতে হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিতের ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ আর বেসরকারি গণপরিহণের মালিকদের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠক করে একটা সমন্বয় করতে হবে যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন৷ মালিক পক্ষের একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে সেটা তাদের বুঝাতে হবে৷”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়