অর্থ নয়, যৌনকর্মের বিনিময়ে মাছ কেনেন তাঁরা | বিশ্ব | DW | 13.05.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কেনিয়া

অর্থ নয়, যৌনকর্মের বিনিময়ে মাছ কেনেন তাঁরা

কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সিয়াইয়া কাউন্টি সহ সাব-সাহারান আফ্রিকার দরিদ্র নারীদের অনেকে জেলেদের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার বিনিময়ে মাছ পান৷ এরপর সেগুলো বিক্রি করে তাঁরা সংসার চালান৷

পাঁচ সন্তানের জননী ৩২ বছরের রাচেল আটিনো এমনই একজন নারী৷ বছর দশেক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসার চালাতে তাঁকে ‘জাবোয়া'র পথ বেছে নিতে হয়েছিল৷ স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত জাবোয়া শব্দের মানে হচ্ছে ‘সেক্স-ফর-ফিশ', মাছের জন্য যৌনকর্ম৷

সিয়াইয়া রাজ্যের জেলেরা সারারাত ধরে ভিক্টোরিয়া হৃদে মাছ ধরার পর সকালে বিক্রি করেন৷ তবে নারী ক্রেতাদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে মাছ কিনছেন, এমনটা কমই দেখা যায়৷ বরং বেশিরভাগ নারীকে সেক্স বিনিময় করতে দেখা যায়৷ কারণ অর্থ দিয়ে মাছ কেনার মতো সামর্থ্য তাঁদের থাকে না৷ আটিনো বলেন, ‘‘অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, যে নারীরা যৌনকর্ম করতে প্রস্তুত তাদেরকে ভালো মানের মাছ দেন জেলেরা৷''

কেনিয়ার এক যৌনকর্মী

কেনিয়ার এক যৌনকর্মী

আটিনো থাকেন আবিম্বো গ্রামে৷ সেখানকার অনেক নারীই জাবোয়ার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন৷ আটিনো বলেন, ‘‘জাবোয়া সবসময়ই থাকবে৷ আগের চেয়ে বরং এর ব্যবহার বেড়েছে৷ কারণ দারিদ্র্যের কারণে মেয়েদের আর অন্য কোনো উপায় নেই৷''

অবশ্য আটিনোকে এখন আর জাবোয়ায় অংশ নিতে হচ্ছে না৷ কারণ একটি এনজিও ঐ এলাকার নারীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে৷ তাঁরা নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দেন৷ ঐ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হলে নারীরা তা ফেরত দিয়ে আরও বড় অংকের ঋণ পান৷

‘চ্যালেঞ্জ আফ্রিকা' নামের ঐ এনজিওর কাছ থেকে ৫০ ডলার ঋণ পেয়েছেন আটিনো৷ সেই অর্থ দিয়ে মাছ কিনে এখন সেগুলো শুকাচ্ছেন৷ তারপর সেগুলো বিক্রি করবেন৷ এছাড়া গ্রামের নিকটবর্তী সোনার খনিতে শ্রমিকদের জন্য রান্নার কাজও করেন আটিনো৷

চ্যালেঞ্জ আফ্রিকার কান্ট্রি ডিরেক্টর এডউইন ওগিলো বলেন, তাঁরা অসহায় নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেন৷ সেখানে যাঁরা ভালো করেন তাঁদের ঋণ দেয়া হয়৷ এই প্রকল্পের আরেকটি লক্ষ্য, ঐ এলাকায় এইচআইভির প্রসার কমানো৷ কারণ সিয়াইয়ার প্রতি চারজনের একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত, যেটা এইডসের জন্য দায়ী৷ সেক্স-ফর-ফিশের কারণে এইচআইভির প্রসার আরও বাড়ছে বলে মনে করেন ওগিলো৷

জেডএইচ/ডিজি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

প্রতিবেদনটি আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন