অরগ্যানিক খাবারের দিকে ঝুঁকছে কেনিয়া | বিশ্ব | DW | 16.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

অরগ্যানিক খাবারের দিকে ঝুঁকছে কেনিয়া

স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অরগ্যানিক খাবারের চাহিদাও বাড়ছে৷ কেনিয়ার একাধিক খামার দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের সেই চাহিদা মেটাতে সেই পদ্ধতিতে শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদন করছে৷

চাহিদার কারণে কেনিয়ায় অরগ্যানিক চাষাবাদের রমরমা

চাহিদার কারণে কেনিয়ায় অরগ্যানিক চাষাবাদের রমরমা

ইউরোপের ক্রেতারা শীতকালেও সবুজ শাকসবজি চান বলে খুব দ্রুত উৎপাদন করতে হয়৷ নাইরোবির হিমিলো ফার্মে যে বিনস, মরিচ, জড়িবুটি বা ফলমূল উৎপাদিত হয়, তার বেশিরভাগই রপ্তানি করা হয়৷

ওয়াইক্লিফ ওকুমু রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করে অনেককাল ধরে প্রথাগত ফার্ম চালিয়ে এসেছেন৷ কিন্তু এখন তিনি ধাপে ধাপে মৌলিক পরিবর্তন করছেন৷ পুরোপুরি অরগ্যানিক পদ্ধতির দিকে এগোচ্ছেন তিনি৷ ওয়াইক্লিফ বলেন, ‘‘আমরা আবিষ্কার করলাম যে বিকল্প কৃষিপদ্ধতিও রয়েছে, যা আমাদের ক্রেতাদের জন্য ক্ষতিকর নয়৷ সে কারণে আমরা অরগ্যানিক কৃষিপদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছি৷ ফার্মে আমরা কিছু ফসলের ক্ষেত্রে সেই পথ গ্রহণ করেছি৷ আমরা এর প্রভাব দেখতে চাই৷ তবে এখনো পর্যন্ত আমরা ফার্মের উৎপাদন নিয়ে ভালোই ফল করছি৷''

রোগ বা পরজীবীর কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেন তিনি৷ তাই তিনি রবিনসন রুনইয়েনজের মতো বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিচ্ছেন৷ তার কোম্পানি রুয়ে অরগ্যানিক্স অরগ্যানিক সার ও কীটনাশক উৎপাদন করে৷ আপাতত সেই কোম্পানি ভুট্টার পোকা মোকাবিলার চেষ্টা করছে৷ রবিনসন বলেন, ‘‘হিমিলো স্টপজেলের মতো অরগ্যানিক পণ্য কাজে লাগাচ্ছে৷ সেটি এক ফোলিয়ার ফার্টিলাইজার৷ কীটনাশক না হয়েও সেটি দম বন্ধ করিয়ে কীটপতঙ্গ মেরে ফেলে৷ আমার হাতে পোকা ধরা ভুট্টা দেখছেন৷ পরীক্ষা চালিয়ে দেখলাম সব পোকা মরে গেছে৷''

রাসায়নিক ব্যবহার না করেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে৷ ‘ফল আর্মিওয়ার্ম' পোকার মোকাবিলা করতে খরগোসের গাঁজানো প্রস্রাব, ঘনিভূত ভেষজ তেল ও নারিকেলের নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে৷ সব উপাদান মেশালেই প্রয়োগ করা সম্ভব৷

ভিডিও দেখুন 03:48

কেনিয়ায় বাড়ছে অরগ্যানিক খাবারের চাহিদা

বেড়ে চলা চাহিদার কারণে কেনিয়ায় অরগ্যানিক চাষাবাদের রমরমা দেখা যাচ্ছে৷ কেনিয়া অরগ্যানিক এগ্রিকালচারাল নেটওয়ার্কের সূত্র অনুযায়ী ১৭৩,০০০ হেক্টর কৃষিজমি ইতোমধ্যেই অরগ্যানিক মানদণ্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে৷

যাবতীয় চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কেনিয়ায় কৃষিকাজে পরিবর্তন আসছে৷ একের পর এক খামার, বিশেষ করে ছোট আকারের ফার্মগুলি অরগ্যানিক পদ্ধতি গ্রহণ করছে৷ অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা তাদের সহায়তা করছেন৷ অরগ্যানিক চাষি হিসেবে জাস্টিন গিদেনজি বলেন, ‘‘অরগ্যানিক চাষি ও প্রশিক্ষকরা আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন৷ ব্যবসা মোটেই খারাপ হচ্ছে না, কারণ আমি নিজের বাসা এবং এমন এক বাজারের জন্যও উৎপাদন করতে পারছি৷''

নাইরোবির কিকুইয়ু ফার্মার্স মার্কেট এখনো ছোট হলেও এবং সপ্তাহে মাত্র একবার বসলেও সেখানকার রাসায়নিক-মুক্ত শাকসবজির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে৷ ফলে আরও বেশি ক্রেতা সেখানে আসছেন৷ মোয়াউরা গাচুংগা তাদেরই একজন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘এখানে তারা অনেক কিছু উৎপাদন করে এবং ভালোই কাজ করছে৷ আমি বন্ধুদেরও এখানে আসার পরামর্শ দেই৷ প্রতি শনিবার তাদের আসতে বলি এবং তারা সত্যি আসে৷''

হিমিলো ফার্ম যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে এই প্রবণতার উপর নজর রাখছে৷ বাসার কাছেই আয়ের নতুন উৎস খুলে যেতে পারে৷ ওয়াইক্লিফ ওকুমু বলেন, ‘‘আমরা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অরগ্যানিক চাষাবাদ গ্রহণ করতে পারি, কারণ বুঝতে পারছি যে অরগ্যানিক পণ্যের বিশাল বাজার আছে৷''

কেনিয়া সেই পথে এগিয়ে ক্ষতিকর কীটনাশক নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে দেশজুড়ে অরগ্যানিক চাষের ক্ষেত্রের বিশাল বৃদ্ধি হতে পারে

মেরেডিট জোনস/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়