অযোধ্যা রায়ে মমতার নীরবতা কি কৌশল? | বিশ্ব | DW | 14.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

অযোধ্যা রায়ে মমতার নীরবতা কি কৌশল?

অযোধ্যা মামলায় রায়ের পর বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব মন্তব্য করলেও নীরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বা তৃণমূলের কোনো নেতা এ নিয়ে মুখ খোলেননি৷ বরং তাৎপর্যপূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কবিতা পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেত্রী৷

অযোধ্যা মামলার রায় বেরোনোর পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল৷ সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়াও মিলেছে বিভিন্ন স্তরের মানুষে থেকে৷ তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা অনেককেই বিস্মিত করেছে৷ কেন তিনি অযোধ্যা রায় নিয়ে মুখ খুললেন না? এই প্রশ্নে দুটি ভিন্ন মত উঠে আসছে৷ এক পক্ষের মত, শুধুই নির্বাচনী অঙ্কের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী নীরব থেকেছেন৷ আরেক পক্ষের বক্তব্য, সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা৷ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে বিজেপির৷ ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছে তারা৷ হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটি বারবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনেছে৷ ভোটের এই ফল বিশ্লেষণ করে অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘‘গত নির্বাচনে হিন্দুদের একাংশের ভোট বিজেপির দিকে চলে গেছে৷ তৃণমূলের সংখ্যালঘু তোষণের জন্যই এই ভোট বিপক্ষে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তাই অযোধ্যা রায় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে কঠিন৷’’     

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট এক চতুর্থাংশের বেশি৷ তাদের ভোট মূলত তৃণমূলের পক্ষেই যায়৷ অধ্যাপক নন্দের মতে, "মুখ্যমন্ত্রী অযোধ্যা রায়কে স্বাগত জানালে সংখ্যালঘুরা বিরক্ত হতই৷ আবার উষ্মা প্রকাশ করলে এই রায় ঘিরে হিন্দুদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হত৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করেছেন৷'' এই সুযোগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেছেন মমতাকে৷ তাঁর বক্তব্য, "কোনো ভাল জিনিস তৃণূল দেখতে পারে না৷ ৩৭০ ধারা বিলোপ কিংবা সার্জিকাল স্ট্রাইক যাই হোক না কেন, তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি করার প্রয়োজন রয়েছে৷’’

যদিও মমতা পুরোপুরি নীরব থেকেছেন, এটাও ঠিক নয়৷ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কবিতা পোস্ট করেছেন রায় বেরোনোর পর৷ যার একাধিক লাইন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ৷ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘অনেক সময় কথা না বলেও অনেক কথা বলা হয়ে যায়৷ কিছু বলার থেকে না বলাটা আরো শক্তিশালী বলা৷’’ এই কবিতায় অযোধ্যা বা রাম মন্দিরের উল্লেখ না থাকলেও, এখানে যে সেই ইস্যুতেই বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই নিশ্চিত৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিবাজীপ্রতিম বসু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নীরবতার মধ্যেই একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা আছে যে তিনি রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন না৷ আবার সমালোচনা থেকেও বিরত থাকছেন৷ ভোটের অঙ্ক তো তাঁকে মাথায় রাখতেই হয়৷ তবে এই কবিতার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক অতীতে জয় শ্রী রাম স্লোগানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর যে তীব্র প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছিতা থেকে ওঁর অবস্থান আঁচ করা যায়৷ একইসঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়েছেন৷’’

অডিও শুনুন 03:25

‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি দুই দিকের ধারবিশিষ্ট তরোয়ালের মত’

লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে৷ রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে ঘটা করে৷ কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাধিক অতিকায় হনুমান মূর্তি৷ এছাড়া রয়েছে রাম ও হনুমানের মন্দির৷ এর সঙ্গে অযোধ্যা নিয়ে মমতার নীরবতা নির্বাচনে আরো কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ভিন্নমত দুই বিশ্লে্ষকের৷ অধ্যাপক নন্দের মতে, ‘‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি দুই দিকের ধারবিশিষ্ট তরোয়ালের মত৷ আপনি যেদিকেই যান, ক্ষতি হবে পারে৷ যে সংখ্যালঘুরা ভেবেছিল, মমতা এই রায়ের সমালোচনা করবেন, তারা অখুশি হবে৷ সেই ভোটের একাংশ বাম বা কংগ্রেসের দিকে চলে গেলে তৃণমূলের ক্ষতি৷’’  কিন্তু অধ্যাপক বসুর বক্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ভোটের বিভাজন হয়ে গেয়েছে৷ তিনি রায়ের সমালোচনা করলে মুসলিমদের নিশ্চয়ই ভালো লাগত৷ কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কথা সংখ্যালঘুরা জানে৷ তাই তাদের ভোট তৃণমূল থেকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন