অভিযুক্ত বা বিতর্কিতরা কীভাবে আওয়ামী লীগে? | বিশ্ব | DW | 03.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

অভিযুক্ত বা বিতর্কিতরা কীভাবে আওয়ামী লীগে?

আওয়ামী লীগে ‘হাইব্রিড’ ও ‘কাউয়া’ শব্দটি বহুল প্রচলিত৷ তাদের তালিকা করার কথাও বলা হয়েছিল৷ তা করা হয়নি, কিন্তু হালে উপকমিটির বিতর্কিত লোকজন নিয়ে আবার শুরু হয়েছে আলোচনা৷

রিজেন্ট সাহেদ ও হেলেনা জাহাঙ্গীরের পর এখন আলোচনায় এসেছেন জামাল হোসেন মিয়া৷ জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি৷ চট্টগ্রামের চোরাই গাড়ির আসামিদের তালিকায় তিনি ‘পলাতক’৷ এমন একজনও এখন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য৷

রিজেন্ট সাহেদ ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য৷ আর হেলেনা জাহাঙ্গীর মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য৷ এই দুইজন এখন কারাগারে আছেন৷

২০১৯ সালের ক্যাসিনোকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘হাইব্রিড’ ও ‘বহিরাগত’দের নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়৷ তখন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিও ভেঙে দেয়া হয়৷ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ওই দুইটি সংগঠনের নতুন কামিটি করা হয়েছে৷ তখনই সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও তার ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনে বহিরাগত, হাইব্রিড, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়৷ কিন্তু সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তেমন এগোয়নি৷

অডিও শুনুন 06:13

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে উপ-কমিটির ব্যবস্থা চালু হয়: মনিরুজ্জামান মনির

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি করা হয়েছিল সাবেক ত্যাগী ও যোগ্য ছাত্রলীগ নেতাদের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য৷ যেহেতু আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন আর কেন্দ্রীয় কমিটিতে সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হয় না৷ তাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে উপ কমিটির ব্যবস্থা চালু হয়৷ কিন্তু এখন সেখানে নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে৷’’

তার মতে, ‘‘দলের কিছু নেতার হাত ধরেই বিতর্কিত লোকজন দলের ভিতরে ঢুকছে৷ সাহেদ, হেলেনা জাঙ্গীর বা সর্বশেষ জামাল হোসেন মিয়ারা কাদের হাত ধরে উপ কমিটিতে ঢুকেছে এটা তো সবার জানা৷ এইসব বিতর্কিত লোকজনকে যারা দলে আশ্রয় দেন, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন৷ এটা তৃণমূল পর্যায়েও হচ্ছে৷ কোনো কোনো নেতা তার গ্রুপ ভারি করার জন্য এইসব কাজ করছেন৷’’ তিনি বলেন, ‘‘এটা দুঃখজনক যে বঙ্গবন্ধুর গড়া রাজনৈতিক দলে তার আদর্শবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধীদেরও কোনো কোনো নেতা ঠাঁই দিচ্ছেন৷’’

আলোচিত জামাল হোসেন যে তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য সেই কমিটির প্রধান (সম্পাদক) হলেন ড. সেলিম মাহমুদ৷ তিনি বলেন, ‘‘তিনি তো একজন আইনজীবীও ৷ আপনারা সেটা না লিখে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য বিষয়টিকে কেন প্রাধান্য দিচ্ছেন? আর তিনি তো ২০১৬ সাল থেকে উপ কমিটির সদস্য৷ আগে ছাত্রলীগ করতেন৷ আমাকে আগের সম্পাদক তার নাম দিয়েছেন৷ আর তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি তো সাজাপ্রাপ্ত নন৷ স্থানীয় পর্যায়ে শত্রুতামূলক মামলাও তো হতে পারে৷’’

অডিও শুনুন 02:09

আওয়ামী লীগে কোনো হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী নাই: এসএম কামাল হোসেন

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের নীতি হলো কোনো বিতর্কিত লোককে দলে জায়গা না দেয়া৷ আমার হাত দিয়ে সেরকম কেউ উপ-কমিটিতে ঠাঁই পায়নি৷’’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশ হলো কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমরা দলে জায়গা দেবো না৷ কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দলে ঠাঁই দেই না৷’’

সাব কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কমিটি দলের সম্পাদকরা গঠন করেন৷ সেখানে বিশেষজ্ঞদেরও নেয়া হয়৷ শিক্ষক, প্রকৌশলী, নারী উদোক্তা- তারাও থাকেন৷ হেলেনা জাহাঙ্গীর নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাব-কমিটিতে ছিলেন৷ মো. সাহেদ ঘটনার সময় সাব-কমিটিতে ছিলেন না৷ আগে একবার ছিলেন৷ একটি সাব কমিটিতে ৪০ জনের মতো সদস্য থাকেন৷ তাদের বায়োডাটা নেয়া হয়৷ বায়োডাটায় তো আর বিতর্কিত বিষয় লেখা থাকে না৷ নেতারাও হয়তো জানেন না৷ যখন জানা যায়, তখন ব্যবস্থা নেয়া হয়৷

‘হাইব্রিড’ ও ‘কাউয়া’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগে কোনো হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী নেই৷ দুই-একজন বিচ্ছিন্নভাবে ঢুকে পড়ে৷ আমরা জানার পর ব্যবস্থা নিই৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়