অভিভাবকের অসচেতনতায় সংকটে পড়ছে সন্তানরা | বিশ্ব | DW | 19.10.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

অভিভাবকের অসচেতনতায় সংকটে পড়ছে সন্তানরা

পর্নো ভিডিও দেখে ঢাকার অন্তত ৭৭ ভাগ স্কুলগামী শিশু৷ মেয়েদের অশ্লীল ছবি, ভিডিও প্রকাশ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র৷ লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে কেউ কেউ৷

Ring von Kinderschändern in Spanien zerschlagen Symbolbild Kinderpornografie (picture-alliance/dpa)

প্রতীকী ছবি

মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েও মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ করছেন বাবা৷ পুলিশের এক কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলছিলেন, ‘‘দেশের একটি নামকরা গার্মেন্টসের মালিক সম্প্রতি আমার কাছে এসেছেন৷ নিজের মেয়েকে নিয়ে তিনি বড় বিপদে পড়েছেন৷ বিষয়টি কাউকে বলতেও পারছেন না, আবার লুকিয়ে রাখাও সম্ভব নয়৷ তার মেয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত অনেকদিন ধরে৷ এখন ওই গ্রুপ থেকে মেয়ের অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে৷ কিছু টাকা তিনি দিয়েছেন৷ এখন আরও টাকা চায়৷ এখনও তারা মেয়ের অশ্লীল কোনো ভিডিও অনলাইনে ছাড়েনি৷ হুমকি দিচ্ছে টাকা না দিলে সেটাই করবে৷ ওই ভিডিওগুলোও সত্যি ধারণ করা৷ ওই ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন, মেয়ের দিকে খেয়াল না রাখায় সে অসামাজিক কাজে যুক্ত হয়েছে৷ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ওই মেয়েকে নিয়ে বাবা এখন দিশেহারা৷''

ডয়চে ভেলেকে এমন আরো অনেক তথ্যই জানিয়েছেন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা৷ জানালেন, ওই ব্যবসায়ী তাঁর পূর্ব পরিচিত৷ সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের তিন অ্যাডমিন গ্রেফতার হওয়ার পর ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করার সাহস পেয়েছেন৷ এখন ওই গ্রুপটি নিয়ে কাজ করছে পুলিশের একটি টিম৷

এই ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ আছে পুলিশের কাছে৷ এমন একটি অভিযোগের জের ধরেই সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট৷ গ্রুপটি ‘ডেসপারেটলি সিকিং-আনসেন্সরড' (ডিএসইউ) নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতো৷ এই গ্রুপে ১৬ জন নারীও আছে৷ মূল অ্যাডমিন রোজাউল চৌধুরী থাকেন মালয়েশিয়ায়৷ তাকে ধরতে পারছে না পুলিশ৷ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার৷

অডিও শুনুন 02:35
এখন লাইভ
02:35 মিনিট

‘এটা একটা গুরুতর অপরাধ’

  

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিভাবক আমাদের কাছে এসেছেন৷ আমরা তাঁদের পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত করে তিন জনকে গ্রেফতার করেছি৷ অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে৷''  তিনি বলেন, ‘‘এটা একটা গুরুতর অপরাধ৷ সেটা বিবেচনায় নিয়েই আমরা কাজ করছি৷''

গত ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে তাদের হেয় করার অভিযোগে ফেইসবুক গ্রুপ ‘ডেসপারেটলি সিকিং-আনসেন্সরড'-এর ৩ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন৷ তারা হলেন- তৌহিদুল ইসলাম অর্ণব (১৯), জুবায়ের আহম্মেদ (২১) ও মোহাম্মদ আসিফ রানা (১৮)৷ রাজধানীর পান্থপথের একটি ফ্যাটের ষষ্ঠ তলা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে৷

গ্রেফতারের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘‘তারা দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, অভিনেতা-অভিনেত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মেয়েদের অনলাইনে লাঞ্ছনার শিকার করে আসছিলো৷ তারা যে কোনো অপরিচিত মানুষের ছবি, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও লিংক ফেইসবুকে শেয়ার করে তাতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করত৷ এই গ্রুপের সঙ্গে আরো বেশ কিছু মানুষ জড়িত রয়েছে৷''

অডিও শুনুন 02:55
এখন লাইভ
02:55 মিনিট

‘এর জন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাই দায়ী’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘যারা এ ধরনের কাজ করে, তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত৷ যারা না বুঝে জড়িয়ে পড়ছে, বুঝতে পারার পর তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে এমনটাও বলা যাবে না৷'' বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভোগ বিলাসের চিন্তা থেকেই এই ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে৷ আর এর জন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাই দায়ী৷ সন্তানদের দিকে তারা খেয়ালই করছেন না৷ ফলে হঠাৎ করেই একদিন ইনবক্সে মেয়ের অশ্লীল ছবি দেখে হুশ ফিরছে৷ তখন আর তাদের কিছুই করার থাকে না৷ ততদিনে সেটা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে৷ অথবা ইন্টারনেটে না গেলেও টাকা দিতে হচ্ছে৷ সন্তানের এমন কর্মে অনেক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন৷ এমন অনেক রোগীই বর্তমানে আমাদের কাছে আসছে৷'' 

ডেসপারেটলি সিকিং-এর তিনজনকে আটকের পর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, গ্রুপটির অ্যাডমিন ও তাদের সহযোগীরা ফেসবুক আইডি হ্যাকিংয়ে জড়িত৷ তারা নারী মডেল, অভিনেতা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আইডি হ্যাক করে তাদের টাইমলাইনে পর্নোগ্রাফি দিয়ে সম্মানহানি করে, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে৷

এদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক নারী শিক্ষার্থী সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন৷ ডেসপারেটলি সিকিং প্রথমে ওই শিক্ষার্থীর আইডি হ্যাক করে ও একটি ব্যক্তিগত ভিডিও পোস্ট করে, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে৷ সারাবিশ্বেই পর্নোগ্রাফি এখন একটি বড় ব্যবসা৷ ২০০৭ সালে পর্নোগ্রাফি ব্যবসায় ২০ বিলিয়ন ডলার নিট লাভের হিসাব দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মাকের্ট রিচার্স গ্রুপগুলো৷ এই ব্যবসা দিনদিন বাড়ছে৷  ২০১৭ সালে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট ব্যবসার আভাস দিচ্ছে বিজনেজ ইনসাইডার৷ বলা হচ্ছে, ১৭ বছরের মধ্যে এই খাতে এটাই হবে সর্বোচ্চ ব্যবসা৷ এই পর্নোগ্রাফি প্রোডাক্টের শিকার ও টার্গেট- উভয়ই টিনএজার৷ বিজনেস ইনসাইডার জানায়, এখন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাব সবখানেই ঢুকে পড়েছে পর্নোগ্রাফি৷

গত ২ অক্টোবর বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' দিয়েয়ে আরও ভয়াবহ এক তথ্য৷ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগই এখন পর্নোগ্রাফি দেখে৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি এই পর্ণোগ্রাফিগুলোতে যাদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তাদের বয়স ১৮-র কম৷ ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর তিন বছর আগে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ ভাগ শিশুই পর্নোগ্রাফি দেখতে অভ্যস্ত৷

বিশ্লেষকরা শিশুদের পর্ণোগ্রাফিতে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারকেই দায়ী করছেন৷ তাঁদের মতে, অভিভাবকদের নজর না রাখা এবং অল্প বয়সি একটি শিশুর স্মার্ট ফোন পেয়ে যাওয়াই এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করেছে৷ অল্প বয়সে স্মার্টফোন পেয়ে যাওয়ার ফলে সে যা ইচ্ছে তা-ই দেখছে৷

অডিও শুনুন 01:38
এখন লাইভ
01:38 মিনিট

‘সবচেয়ে প্রথমে দরকার শিশুদের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলবেন৷  সন্তানদের রক্ষা করার একটা উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷''

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবচেয়ে প্রথমে দরকার শিশুদের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ৷ সারা বিশ্বে শিশুরা কোন কোন সাইট ভিজিট করতে পারবে তার লিমিট দেয়া থাকে৷ ইন্টারনেটের প্যাকেজ কেনার সময় সাইটগুলো নির্ধারণ করে দেয়া হয়৷ কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই৷ সরকার যদি এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরাও সঙ্গে থাকব৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়