অভিবাসন জার্মানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | বিশ্ব | DW | 21.07.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

অভিবাসন জার্মানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

জার্মানিতে আবার অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ তবে বেড়ে চলা শরণার্থীদের সংখ্যা এর একমাত্র কারণ নয়৷ জার্মান রাজনীতি জগত অনেক বছর ধরে বিষয়টি সম্পর্কে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের ক্রিস্টফ স্ট্রাক৷

এক কিশোরী বিতর্কটি উসকে দিলো৷ ১৪ বছরের রিম জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সামনে শরণার্থী হিসেবে নিজের দুর্দশা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কাহিনি তুলে ধরে তাঁকে লজ্জায় ফেলে দেয়৷ এই ঘটনার জের ধরে জার্মানিতে আবার রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷

দুই শিবির তাদের যুক্তি-তর্কের বাণ নিয়ে সমরে নেমে পড়েছে৷ কখনো শরণার্থী, কখনো অভিবাসীদের নিয়ে কথা হচ্ছে৷ কেউ ইউরোপীয় নীতিমালা তুলে ধরছে, কেউ অসহায় মানুষের সাহায্যকে মৌলিক মানবিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করছে৷ প্রায়ই আর্থিক সংকটের বিতর্ক বাকি সব বিষয়কে ঢেকে দেয়৷ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ফুলে-ফেঁপে ওঠা সত্ত্বেও জার্মানির জনসংখ্যা কমে চলেছে এবং অভিবাসী বা শরণার্থীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে৷ অথচ এই সমস্যা মোকাবিলার কোনো টেকসই নীতি এখনো দেখা যাচ্ছে না৷

২০০৪ সাল থেকে জার্মানিতে একে একে ‘গ্রিন কার্ড', অভিবাসন সংক্রান্ত আইন ইত্যাদি নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ অতি সম্প্রতি নতুন এক আইনের আওতায় যে সব বিদেশিকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই জার্মানিতে থাকতে দেওয়া হয়েছিল, তাদের পাকাপাকিভাবে এ দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ তবে এর পূর্বশর্ত হিসেবে জার্মান ভাষা জ্ঞান এবং নিজস্ব আয় থাকা চাই৷ রিম ও তাঁর বাবা-মাও হয়তো এই আইনের সুযোগ নিতে পারবে৷ কিন্তু বিদেশি হিসেবে সেই স্ট্যাটাসের স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে এক ‘ব্লু-কার্ড'-ও চালু আছে, যার সাহায্যে বাইরে থেকে দক্ষ কর্মীদের আনা যায়৷ জার্মানি এর পূর্বশর্ত হিসেবে এমন এক বাৎসরিক আয়ের অঙ্ক জুড়ে দিয়েছে, যা তরুণ পেশাজীবীদের আওতার মধ্যে সহজে থাকার কথা নয়৷ মোটকথা, অর্থনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে জার্মানির অভিবাসনের যে প্রয়োজন রয়েছে, এ নিয়ে আর তেমন সংশয় নেই৷ কিন্তু রাজনীতি জগতের কেউ চট করে ‘অভিবাসন' শব্দটি মুখে আনতে নারাজ৷ কিছু কিছু মহল থেকে অবশ্য অভিবাসন আইনের দাবি শোনা যাচ্ছে৷

Strack Christoph Kommentarbild App

ডয়চে ভেলের ক্রিস্টফ স্ট্রাক

বর্তমানে সবাই একই কথা বলতে শুরু করেছে বটে, কিন্তু তাদের সবার উদ্দেশ্য সম্ভবত এক নয়৷ কিন্তু অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে জার্মানিকে আরও সততার পরিচয় দিতে হবে৷ কারণ সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ার মতো দেশে সংঘর্ষের ফলে আরও বেশি মানুষ ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে৷ আফ্রিকার অনেক মানুষ রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এড়াতে ও আরও ভালো জীবনযাত্রার আশায় ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়বে৷ নিজেদের দেশে গৃহযুদ্ধের কারণে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলি কতকাল জার্মানিতে থাকবে এবং আদৌ কোনোদিন ফিরে যাবে কিনা, তাও কেউ জানে না৷ অন্যদিকে আবার সাবেক ইয়ুগোস্লাভিয়ার সেই সব দেশের মানুষ জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যে সব দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ এটা সত্যি মেনে নেওয়া কঠিন৷

জার্মানিতে একদিকে শরণার্থীদের বাসস্থানের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, বিদেশি-বিদ্বেষী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে, গরম গরম রাজনৈতিক বুলিও শোনা যাচ্ছে৷ অন্যদিকে এই দেশেই ছোট-বড় অনেক শহরে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসছেন৷ এ নিয়ে তেমন চর্চা হয় না, অথচ এই প্রবণতাই জার্মানিকে সমৃদ্ধ করে তুলছে৷

জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যে বিদেশি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখতে রাজনৈতিক নেতারা বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন৷ বাভেরিয়া রাজ্যেও এমন অপ্রীতিকর সুর শোনা গেছে৷ কিন্তু রাজনীতি জগতের এমনভাবে কাউকে বিচ্ছিন্ন করার অধিকার নেই৷ তার কাজ হলো মানুষকে বোঝানো যে, শরণার্থীদের গ্রহণ করা, সমাজের মূল স্রোতে বিদেশিদের সমন্বয়, পারস্পরিক মেলবন্ধন – এ সব সমাজকে সমৃদ্ধ করে৷ কিন্তু তার জন্য অনেক পরিশ্রম, অনেক উদ্যোগেরও প্রয়োজন হয়৷ শরণার্থী, সমাজ, রাজনীতি জগত – সবাইকে সেই কাজ করতে হয়৷ জার্মানি তথা ইউরোপের রাজনীতি জগতের সামনে বিশাল দায়িত্ব অপেক্ষা করে রয়েছে৷ বিষয়টি সম্পর্কে গঠনমূলক অবস্থান নিতে আর বিলম্ব করলে এবং বিদেশিদের ‘ইন্টিগ্রেশন'-কে আর অপ্রিয় দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন