অভিবাসন কী অসুস্থ করে তুলতে পারে! | জার্মানি ইউরোপ | DW | 18.03.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

অভিবাসন কী অসুস্থ করে তুলতে পারে!

কয়েক বছর আগেও ২৭ বছরের সারা মারাত্মক ডিপ্রেশনে ভুগছিলো৷ সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতেই কষ্ট হতো৷ মনে হতো সবকিছু অর্থহীন, আনন্দহীন৷ থেরাপি নেওয়ার পর এখন কিছুটা ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রী৷

সারার মা-বাবা মরক্কো থেকে এসেছেন ৭০ দশকের প্রথম দিকে৷ অনেক অভিবাসীর মত সারার বাবাও কাজ নিয়ে এসেছিলেন জার্মানিতে৷ যাদের বলা হতো অতিথি শ্রমিক৷ যদিও আতিথেয়তা বলতে অন্য কিছু বোঝায়৷ সারার ১৯ বছরের তরুণী মা স্বামীকে অনুসরণ করেন ভীরু পদক্ষেপে৷ জার্মান ভাষা না জানায় প্রতি পদে পদে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে তাঁকে৷ বৈষম্য ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে৷ ফলে তাঁকে একটা ভয় পেয়ে বসে৷ অন্যান্য অনেক অভিবাসীদের মধ্যেও এই ধরনের একটা ভীতি লক্ষ্য করা যায়৷ বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, যারা তেমন শিক্ষিত নন, জার্মান ভাষায় কথা বার্তা বলতে পারেন না, তারাই এই ধরনের মানসিক অসুস্থতায় ভোগেন৷

Altlandsberg (Brandenburg): In seiner Praxis in Altlandsberg unterhält sich am 24.11.1998 der Inder Ravindra Gujjula mit einer Patientin. Der 1973 zum Studium in die damalige DDR gekommene Arzt ist seit 1993 Bürgermeister des brandenburgischen Ortes Altlandsberg östlich von Berlin. Die Kommunalwahl schaffte der Inder nur als Deutscher, da Ausländer in der Bundesrepublik kein Wahlrecht haben. Nach 20 Jahren Deutschlanderfahrung nahm er deshalb die deutsche Staatsbürgerschaft an. (FFO22-261198)

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসীদের মধ্যে নানা ধরনের মানসিক অসুস্থতা খুব বিরল ঘটনা নয়

পরিষ্কারের বাতিক

সারার মাকে গত ৪০ বছরে ধোয়াধুয়ির একটা বাতিক পেয়ে বসে৷ সবকিছু বারবার সাফ সুতরা করা চাই৷ জুতায় হাত লাগলে সাথে সাথে হাত ধোয়ার একটা চাপ আসে মাথায়৷ বারবার হাত ধুতে ধুতে ত্বক শুকনা ও রক্তাক্ত হয়ে গেছে৷ মেয়ে সারা মনে করে, ‘নোংরা বিদেশি' এই কথাটা শুনতে শুনতে মায়ের পরিষ্কার হওয়ার ঝোঁকটা বেড়ে গেছে৷

বর্ণবৈষম্যের নানা রূপ

বর্ণবিষম্য ও বিদেশি বিদ্বেষ সারার পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ বাড়ির কাছাকাছি নব্য নাৎসিরা সমবেত হয় বছরে একবার৷ তাদের হম্বিতম্বির সময় বাড়ি থেকে বের হতেই ভরসা পায়না পরিবারের কেউ৷ দৈনন্দিন জীবনে বিদেশি বিদ্বেষের প্রকাশভঙ্গিটা অনেকটা সুপ্ত৷ যা বোঝা যায় স্কুল কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে৷ ছোট বেলার বহু স্মৃতি আজো কষ্ট দেয় সারাকে৷ প্রাইমারি স্কুলে ব্যাকরণ ভুল করলে শিক্ষিকা সবার সামনে অপমান করেছেন তাকে৷

স্কুলের এক এক্সারশনেও তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল সারার৷ রাতের খাবারে সুপের সাথে শুয়োর মাংসের সসেজ থাকায় কিছুই খেতে পারেনি মেয়েটি৷ খিদে নিয়েই বিছানায় যেতে হয় তাকে৷ সমস্ত ক্লাসে সারাই ছিল একমাত্র মুসলমান ছাত্রী৷ তার যে শুয়োরের মাংস খাওয়া বারণ, এ কথাটা কেউ মনে রাখেনি৷ নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল সে৷

পরিচিতির অন্বেষণে

নিজের পরিচিতি নিয়েও একটা দোটানা রয়েছে সারার৷ জার্মানিতে মরোক্কান, আবার মরক্কোতে বেড়াতে গেলে জার্মান মনে করা হয় তাকে৷

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও এই দোটানা থেকে মুক্ত হতে পারেনি সারা৷ একদিকে জার্মান সমাজের আর দশটা মেয়ের মতই এক আধুনিক তরুণী সে৷ অন্যদিকে শেকড়ের টান, ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব৷ এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করাটা বেশ কষ্টকর৷ বিশেষ করে সপ্তাহান্তে যখন সহপাঠিনীরা পার্টি বা ডিসকোথেকে যায়, তখন মন খারাপ হয়ে যায় তার৷ অনেক সময় তাদের সঙ্গে আনন্দ উত্সবে গা ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছা করে৷ মাঝে মাঝে যোগও দেয় তাদের সঙ্গে৷ কিন্তু তারপরই বিবেকের দংশন পেয়ে বসে তাকে৷ সেই সাথে আতঙ্কও থাকে মনে, অন্য মরক্কানরা যদি দেখে ফেলে? এইভাবে দুই সংস্কৃতির টানাপড়েন, অশান্তি ও আতঙ্কে ভুগতে থাকে সারা৷

Depression

বর্ণবিষম্য ও বিদেশি বিদ্বেষ সারার পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে

প্রয়োজন থেরাপি

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসীদের মধ্যে এই ধরনের মানসিক অসুস্থতা খুব বিরল ঘটনা নয়৷ রোগটা কতদূর গেড়ে বসেছে তার ওপর নির্ভর করে চিকিত্সা বা থেরাপি৷

রোগের লক্ষণগুলি ওষুধ দিয়ে ভাল করা যায়, কিন্তু আসল অসুখটা ভাল করতে হলে থেরাপি প্রয়োজন৷ সারাও থেরাপি নিচ্ছে৷ চেষ্টা করছে তার দুই ‘আমির' মধ্যে দূরত্বটা কমিয়ে আনতে৷ সারার জানায়, ‘‘আমার পরিবার ও বন্ধবান্ধুবের অনেকেই এই ধরনের টানাপড়েনে কোনো একটি দিককে বেছে নেয়৷ আর সেটাই আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি না যে, আমি একজন জার্মান বা একজন মরোক্কান মেয়ে৷ আমি যে দুটোই, এটাই আমাকে মেনে নিতে হবে৷ সে পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন