অবসর নিয়ে বর্ণবাদের অভিযোগ উসকে দিলেন ও্যজিল | বিশ্ব | DW | 23.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

অবসর নিয়ে বর্ণবাদের অভিযোগ উসকে দিলেন ও্যজিল

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়ে জার্মানির জাতীয় ফুটবল দল ছেড়ে দিলেন মেসুত ও্যজিল৷ বিদায়ী বিবৃতিতে তিনি বর্ণবাদ ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন৷

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম রাউন্ডেই জার্মানির বিদায় এখনো হজম করছেন জার্মানরা৷ এরই মধ্যে জাতীয় দলের এক খেলোয়াড়ের বিস্ফোরক বিবৃতি পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে৷ ২৯ বছর বয়সি তুর্কি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় মেসুত ও্যজিলদীর্ঘকাল জাতীয় দলে রয়েছেন৷ ব্রিটেনে আর্সেনাল ক্লাবেও তিনি খেলেন৷ মে মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান লন্ডন সফর করছিলেন৷ সে সময়ে জার্মানির দুই তুর্কি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷ ও্যজিল ও গুন্দোয়ান তুরস্কের বিতর্কিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তুলে জার্মানিতে তীব্র সমালোচনার শিকার হন৷ জার্মানির জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়েও তাঁরা তুরস্কের ‘স্বৈরাচারী' প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে৷ তবে সমালোচনা সত্ত্বেও ও্যজিল নীরব ছিলেন৷ রাশিয়ায় বিশ্বকাপে খেলার পর দেশে এসে রবিবার তিনি মুখ খোলেন৷ ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে তিনটি ভাগে বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি৷ শেষ বিবৃতিতে তিনি জাতীয় দল ত্যাগের ঘোষণা করেন৷

মেসুট ও্যজিল নানা মহলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন৷ তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টি খোলসা করে তিনি বলেন, তুর্কি বংশোদ্ভূত মানুষ হিসেবে পরিবারে তিনি তাঁর পূর্ব-পুরুষের দেশের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানোর শিক্ষা পেয়েছেন৷ তারই আওতায় ব্যক্তি এর্দোয়ান নয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট পদের প্রতি সম্মান দেখিয়েই তিনি লন্ডনে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷ তুরস্কে নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হতে তিনি সেখানে যাননি৷ এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও রানিও এর্দোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন৷

জার্মানির প্রতি তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও্যজিল৷ জার্মানিতে জন্মগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও তাঁকে অনেকে জার্মান নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ জার্মান দলে তাঁর বন্ধু লুকাস পডোলস্কি ও মিরোস্লাভ ক্লোজে জার্মান-পোলিশ হিসেবে পরিচিত না হলেও তাঁকে সব সময়ে কেন জার্মান-তুর্কি হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ও্যজিল৷ তুরস্ক ও ইসলাম ধর্মই কি এই বৈষম্যের কারণ? জার্মান ফুটবল ফেডারেশন ডিএফবি ও তাঁর কয়েকটি স্পন্সর কোম্পানির বিরুদ্ধেও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ ও্যজিল দাবি করেন, খেলা নিয়ে সমালোচনা মেনে নিতে তাঁর কোনো সমস্যা নেই৷

ও্যজিল এমন বিবৃতি প্রকাশ করায় জার্মানিতে সার্বিকভাবে বর্ণবাদ ও সমাজের মূল স্রোতে বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ ও্যজিলের মতো তারকা খেলোয়াড় নিজেকে সমাজ থেকে এমন বিচ্ছিন্ন মনে করায় অনেক মহল গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে৷ জার্মান ফুটবল ফেডারেশনও অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে৷ ডিএফবি-প্রধান রাইনহার্ড গ্রিন্ডেলের পদত্যাগের ডাক দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা৷

জার্মান সমাজে বর্ণবাদ নিয়ে ও্যজিলের বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সত্ত্বেও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সমালোচনাকে ন্যায্য বলে মনে করছেন অনেকে৷ সবুজ দলের তুর্কি বংশোদ্ভূত নেতা চেম ও্যজদেমির বলেন, তুরস্কের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে যারা সে দেশে এর্দোয়ানের দমন নীতির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত৷

  

ও্যজিল তাঁর বিবৃতি প্রকাশের পর তুরস্কের সরকারি মহলে তাঁর প্রতি জোরালো সমর্থন দেখা যাচ্ছে৷ সে দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী তাঁর সম্মানজনক অবস্থানের গভীর প্রশংসা করেছেন৷ তুরস্কের বিচারমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পদত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে সেরা গোল দিয়েছেন ও্যজিল৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন