অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান, অভিভূত রোনাল্ডো | খেলাধুলা | DW | 14.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান, অভিভূত রোনাল্ডো

চার বছরের অপেক্ষার অবসান হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর৷ সোমবার ‘গোল্ডেন বল’ বা ‘বালঁ দর’ পুরস্কার হাতে পেয়ে তাই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের আনন্দ যেন বাঁধ মানছিল না৷ সে আনন্দ খোলা মনেই প্রকাশ করেছেন ‘সিআর সেভেন’৷

Preisverleihung Weltfußballer 2013 Cristiano Ronaldo

‘বালঁ দর’ পুরস্কার হাতে রোনাল্ডো

ফুটবল বিশ্বে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর আরেক নাম ‘সিআর সেভেন'৷ জুরিখে ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে থেকেই অনেকে ধরে নিয়েছিলেন এবার তাঁর হাতেই উঠবে সেরার পুরস্কার৷ আগের চারবারের সেরা মেসি ছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আরো ছিলেন গত বছর বায়ার্ন মিউনিখের সাফল্যের ষোলো কলা পূর্ণ করে দেয়া রিবেরি৷ তবুও রোনাল্ডোকেই ফেবারিট মানছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা৷ অনেক সময় বিশেষজ্ঞদের পূর্বানুমান ভুল হয়৷ তবে এবার হয়নি৷ ২৭ দশমিক ৯৯ ভাগ ভোট পেয়ে রেয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার রোনাল্ডোই হয়েছেন ২০১৩ সালের বিশ্বসেরা ফুটবলার৷ মেসি ২৪ দশমিক ৭২ ভাগ আর রিবেরি পেয়েছেন ২৩ দশমিক ৩৯ ভাগ ভোট৷

Preisverleihung Weltfußballer 2013

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়৷ তাই ‘মেসি বছরের শেষ দিকে ইনজুরিতে না পড়লে এবারও রোনাল্ডোর ভাগ্যে শিঁকে ছিড়তো কিনা বলা মুশকিল' – এ কথা মেসিভক্তরা বলতেই পারেন৷ রেয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেস অবশ্য মনে করেন, রোনাল্ডোর মতো খেলোয়াড়কে যে চারটি বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সেটাই ছিল অন্যায়৷ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘সুবিচার হয়েছে, কারণ, রোনাল্ডো বিশ্বের সেরা ফুটবলার৷ ও সঙ্গে আছে এটা আমাদের দলের জন্য বাড়তি প্রেরণা৷''

Finalisten bei der Wahl zum Weltfußballer des Jahres: Franck Ribéry, Lionel Messi, Cristiano Ronaldo

এ বছর মেসি, রিবেরিকে পিছনে ফেলে দিলেন রোনাল্ডো

২৮ বছর বয়সি রোনাল্ডো এর আগে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০০৮ সালে৷ সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে৷ কিন্তু তারপরই রেকর্ড দামে তাঁকে ম্যানইউ থেকে নিয়ে যায় রেয়াল৷ সেই থেকে আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হয়নি রোনাল্ডোর৷ ‘বালঁ দর'-ও জেতা হয়নি৷ আক্ষেপটা বাড়ছিল৷ গত বছর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে-অফে পর্তুগালের চার গোলের চারটিই করে নতুন করে বোঝান সাধারণের চেয়ে তিনি কেন অনেক আলাদা৷ তারপর থেকে স্প্যানিশ লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ‘সিআর সেভেন' অপ্রতিরোধ্য৷ এ পর্যন্ত ২০ গোল করায় লা লিগা-র গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে তাঁর নাম, নয়টি গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তিনিই সফলতম৷

এমন একজনের হাতে ‘বালঁ দর' পুরস্কার ওঠায় রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল এবং রেয়াল মাদ্রিদের দেশ স্পেনের মিডিয়া উচ্ছ্বসিত৷ লিসবনের ‘আ বোলা' সুইডেনকে বলতে গেলে একাই হারিয়ে পর্তুগালকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তোলায় আবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রোনাল্ডোর প্রতি৷ স্পেনের রেডিও মার্কা বলেছে, ‘‘এবার পুরস্কারটা রোনাল্ডোরই প্রাপ্য ছিল''৷

প্রাপ্য পুরস্কার৷ তবু ট্রফি হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রোনাল্ডো৷ আবেগে ভাসতে ভাসতেই জন্মভূমি পর্তুগাল, নিজের পরিবার, রেয়াল মাদ্রিদ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগনিত ভক্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি৷

এবার ব্রাজিলের ‘কালো মানিক' পেলেকেও বিশেষ ‘বালঁ দর' দিয়েছে ফিফা৷ ব্রাজিলকে তিনবার বিশ্বকাপ জেতালেও পেলে কখনো ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার হবার সুযোগ পাননি৷ ফিফা এ পুরস্কারের প্রচলণ করে ১৯৯১ সালে৷ অথচ পেলে সর্বেশেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন ১৯৭০ সালে৷ তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে সেবার ‘জুলে রিমে কাপ' চিরতরে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল৷ ১৯৭০ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফির নাম ছিল ‘জুলে রিমে'৷ কোনো দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলে রেপ্লিকা নয়, আসল ট্রফিই নিয়ে যাবে – এই ছিল নিয়ম৷ ব্রাজিল ১৯৭০ সালে পেলের হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন নিয়ে যায় সেই ট্রফি৷ সোমবার সেই পেলের হাতে অনারারি ‘বালঁ দর' ট্রফি তুলে দিয়েছে ফিফা৷ এছাড়া ফুটবলের আরো কিছু পুরস্কার দেয়ার পর ২০১৩ সালের সব পজিশনের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি বিশ্ব একাদশও ঘোষণা করা হয়েছে৷

ফিপ্রো বিশ্ব একাদশ: মানুয়েল নয়্যার, দানিয়েল আলভেস, স্যার্খিও রামোস, থিয়াগো সিলভা, ফিলিপ লাম, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সাবি অ্যার্নান্দেস, ফ্রাংক রিবেরি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, লিওনেল মেসি৷

২০১৩ সালে ফিফা পুরস্কারজয়ীরা

বালঁ দর: ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো (পর্তুগাল)

অনারারি বালঁ দর: পেলে (ব্রাজিল)

বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলার: নাদিন আঙ্গারার (জার্মানি)

সেরা কোচ (পুরুষ দল): ইয়ুপ হাইনকেস (বায়ার্ন মিউনিখ, জার্মানি)

সেরা কোচ (মহিলা দল): সিলভিয়া নাইড (জার্মান জাতীয় দল)

বর্ষসেরা গোল: স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (সুইডেন, বনাম ইংল্যান্ড)

প্রেসিডেন্ট পুরস্কার: জাক রগা (বেলজিয়াম, সাবেক আইওসি প্রেসিডেন্ট)

ফেয়ার প্লে: আফগান ফুটবল ফেডারেশন

এসিবি/ডিজি (এপি, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন